ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধান বিচারপতি ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক সততার এক সুদক্ষ কারিগর: অ্যাটর্নি জেনারেল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজামান বলেছেন, দায়িত্বপালন কালীন সময়ে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক সততার এক সুদক্ষ কারিগর।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সংর্বধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দিতে গিয়ে বলেন, আপনি উত্তরাধিকার সূত্রে এমন এক বিচারব্যবস্থা পেয়েছিলেন যেখানে প্রায়ই আইনের শাসনের পরিবর্তে সুবিধার শাসন জেঁকে বসেছিল। গত ১৬ মাসে আপনি ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক সততার এক সুদক্ষ কারিগর। আপনার টেনিউরের এই অল্প সময়ে আপনি বহু যুগান্তকারী বা ট্রান্সফরমেটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যার সবগুলো উল্লেখ করার মতো সময় বা সুযোগ এখানে নেই। তবে আপনার গৃহীত ও বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর মধ্যে না বললেই নয়, এরকম কয়েকটি হলো—

ক) পৃথক বিচারিক সচিবালয় (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়): দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মাসদার হোসেন মামলার রায় ছিল এক চমৎকার কিন্তু উপেক্ষিত ব্লু-প্রিন্ট। আপনার সাহসেই একটি স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আজ এক দৃশ্যমান বাস্তবতা।

খ) মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা: আপনি রাজনৈতিক অনুকম্পায় নিয়োগের সংস্কৃতি ভেঙে দিয়েছেন। আপনার উদ্যোগে প্রণীত সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল আমাদের বিচারিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সংযোজন।

গ) মনোবল বৃদ্ধি ও জবাবদিহি: এই বছর ২৩২টি নতুন বিচারিক পদ সৃষ্টি এবং ৮২৬ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি ছিল এক বিশাল মাইলফলক। এছাড়া বিচারকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি নগদায়ন সুবিধা প্রদানের নির্দেশ কর্মকর্তাদের মনোবল তুঙ্গে নিয়ে গেছে।

ঘ) ডিজিটালাইজেশন: হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে কাগজমুক্ত বিচার কার্যক্রম এবং হেল্পলাইন চালুর মাধ্যমে আপনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করেছেন।

৬) কমার্সিয়াল কোর্ট প্রতিষ্ঠা: একুশ শতকের উপযোগী কার্যকর ও গতিশীল বিচার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে আপনার নীতি-পরিকল্পনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কমার্সিয়াল বা বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য আইন প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ অচিরেই এই উদ্যোগের সুফল ভোগ করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, আপনি আপনার চিন্তা, দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনমনীয় সততার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার জগতে একজন প্রমিথিউস হয়ে উঠেছেন। যতবার এই বিচার বিভাগ তার পথ হারানোর চেষ্টা করেছে, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, অহেতুক বাজে আক্রমণের শিকার হয়েছে, স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে বিচার বিভাগ ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে, ততবার এই বিচার বিভাগ ফিনিক্স পাখির মতো আপনার হাত ধরে তার সঠিক গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। আপনার প্রজ্ঞা এবং পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে থাইল্যান্ড থেকে দুবাইয়ের গ্লোবাল গভর্নমেন্ট সামিট, মিশর থেকে ব্রাজিল-প্রতিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপনার উপস্থিতি আমাদের গর্বিত করেছে। বিশেষ করে, পরিবেশগত ন্যায়বিচার বা এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস নিয়ে আপনার অবদান আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ফেলোশিপ অর্জন আমাদের সমগ্র বিচার বিভাগের জন্য এক অনন্য সম্মান। আজ বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমি এখানে কেবল রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দাঁড়াইনি, বরং ইতিহাসের একজন ছাত্র হিসেবেও দাঁড়িয়েছি। আমার জীবনের আইন পেশার অনন্য এবং অনবদ্য একটি অংশ অতিবাহিত হয়েছে আপনার মরহুম পিতা ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে এবং সেখানে আপনার সহকর্মী হিসেবে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি আমার গুরু ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের চেম্বারে সংবিধান কেবল কোনো পাঠ্যবই ছিল না; সেটি ছিল এক জীবন্ত ও স্পন্দিত বিবেক।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আজ যখন এই এজলাসে আপনার দিকে তাকাই, আমি ঠিক সেই একই মহীরূহসম আপসহীন ও নৈতিক ব্যক্তিত্বের ছায়া দেখতে পাই। আপনি আপনার পিতামহ এবং পিতার সেই অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে সফল করেছেন। আপনার মা, প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের সেই প্রজ্ঞা এবং ভাষা আন্দোলনের তেজ আপনার নেতৃত্বের প্রতিটি পরতে মিশে আছে। আপনি প্রমাণ করেছেন যে, উত্তরাধিকার কেবল নামের ভার নয়, বরং কর্মের মাধ্যমে তাকে আরও উজ্জ্বল করার নাম। আপনি আমাদের সতর্ক করেছেন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা সহজ, কিন্তু তার আত্মাকে রক্ষা করা কঠিন। আপনি বলেছেন, আমরা যদি আমলনামায় স্বচ্ছ না থাকি, তবে কোনো সচিবালয় আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। আপনার এই সতর্কবাণী আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে স্বল্প সময়ের এই টেনিউরে আপনি আপনার প্রজ্ঞা, মেধা ও দূরদর্শীতার দ্বারা স্থাপন করেছেন এক অনন্য বিচার বিভাগীয় মানদণ্ড যাকে আমি নাম দিয়েছি দ্য রেফাত স্ট্যান্ডার্ড, যা বিচারিক সাহসিকতা এবং পরম স্বচ্ছতার এক মূর্ত প্রতীক। আমরা অবগত হয়েছি যে, শিগগিরই আপনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে যাত্রা করবেন এবং আগামী ২৭ ডিসেম্বর তারিখে আপনার স্বাভাবিক কর্মকালের অবসান হবে। কিন্তু নিশ্চিত থাকুন এই বিদায় কালে আপনি সাথে নিয়ে যাবেন বাংলাদেশের আপামর মানুষের নিভৃত প্রার্থনা; রাশি রাশি ফুলের শুভেচ্ছা আর এক সমুদ্র সম্মান-ভালোবাসা।

আবেগ আপ্লুত হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধান বিচারপতি, আপনি আমাদের শিখিয়েছেন, "Let justice be done, though the heavens fall"। এই ঐতিহ্যবাহী সুপ্রিম কোর্ট বার এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনি আমাদের কাছে এসেছিলেন এক উত্তপ্ত বিপ্লবের ঋতুতে; আর বিদায় নিচ্ছেন বিজয়, শান্তি এবং স্বচ্ছতার এক অনন্য ঋতুতে। আপনার প্রতি অন্তর নিংড়ানো অভিবাদন! আমরা সবাই প্রার্থনা করছি সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনাকে সুনির্মল সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু দান করুন। আপনি যে স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বীজ বুনে দিয়ে যাচ্ছেন, আমরা আশা করছি, তাকে আমরা মহীরুহে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ্। সবশেষে, আমরা গভীরভাবে অনুধাবন করি যে, আমরা আপনাকে ভালোবেসেছিলাম, শ্রদ্ধায়, বিনয়ে, বিপ্লবে ও বিদ্রোহে। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে আপনি আমাদের কাছে চে গুয়েভারার মতোই এক বিপ্লবী চেতনার মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। আপনাকে একবার ভালোবাসতে শুরু করলে আপনার প্রত্যেক অনুসারীর কাছে সেই ভালোবাসা অবিনশ্বর হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে তাই আজ আমাদের মহান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম থেকে ধার করে বলতে চাই-
তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন
সে জানে তোমারে ভুলা কি কঠিন।

আমরা আপনাকে আজীবন মনে রাখবো, ভুলবো না, আপনি আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় এভাবেই উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। আমাদের প্রতিটি সংকটে, সংকল্পে, বিপ্লবে ও বিদ্রোহে একজন ভালোবাসার মানুষ হিসাবে, একজন অভিভাবক হয়ে আপনি সব সময় আমাদের সঙ্গে থাকবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন প্রধান ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আজ ছিল তার শেষ কর্মদিবস। কারণ শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে অবকাশকালীন ছুটিতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট।

আরটিভি/একে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকারের নির্বাহী আদেশে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।  এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ (আপিল ও হাইকোর্ট) আজ সাধারণ ছুটি পালন করবে। এর আগে, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার গতকালই নির্বাহী আদেশে আজ বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। আরটিভি/আইএম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বার্তায় এই শোক জানানো হয়। দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদের এই শোকবার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। শোকবার্তায় বলা হয়, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তারা। আরও পড়ুন যেভাবে আপোষহীন নেত্রী হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া প্রধান বিচারপতি তার বার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি পরম করুণাময় রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা করেন যেন দেশের তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে আসিন করা হয়। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এই শোকবার্তা পাঠানোর পর আইনি অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার দাফন ও জানাজা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার প্রস্তুতির মধ্যেই রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এই শোকবার্তা আসার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আগামীকাল সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক
কাদেরসহ ৭ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
চব্বিশের জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামিকে আগামীকে ৮ জানুয়ারি হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দিয়েছে বলে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত তারিখে (৮ জানুয়ারি) পলাতক আসামিরা হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হবে। আরও পড়ুন মাকে নিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন পোস্ট এই মামলায় মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।  সেইসঙ্গে এই মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। আরটিভি/আরএ
কাদেরসহ ৭ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
বাধা কাটল, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন মান্না
বিএনপি যেদিন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়ার একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল, সেদিনই আসন্ন নির্বাচনে তার প্রার্থী হতে বাধা হয়ে এল হাইকোর্টের এক আদেশ। অবশেষে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা অতিক্রম করেছেন তিনি। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো রেজাউল হক মান্নার নাম সম্বলিত ঋণ খেলাপিদের তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি) স্থগিত করছেন।  আদালতে মান্নার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।  ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম লিটন। তিনি জানান, তালিকা আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। ফলে মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো বাধা নেই।  এর আগে, ২৪ ডিসেম্বর রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। হাইকোর্টে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।  ২৪ ডিসেম্বর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান জানান, ঋণের একটা অংশ পরিশোধ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন তিনি। সিআইবি থেকে ওনাদের নামটা যেন প্রত্যাহার করে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগ সন্তুষ্ট হননি। খারিজ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম হচ্ছে দুই শতাংশ জমা দেওয়ার কথা। তিনি দুই শতাংশের বেশি পরিশোধ করেছেন। কিন্তু আদালত বলছেন, তালিকা থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম প্রত্যাহার করতে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো নির্দেশনা দেবেন না। ঋণ গ্রহণকারী ইসলামী ব্যাংক এটি বাংলাদেশ ব্যাংককে (ঋণের তথ্য জানাবে) দেবে। আরও পড়ুন ৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি    গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ ডিসেম্বর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের কাছে খেলাপি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা। মান্না ও তার দুই অংশীদারের ঠিকানায় পাঠানো এই নোটিশে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। শাখা প্রধান তৌহিদ রেজার স্বাক্ষরিত নোটিশটি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর ঠিকানায় পাঠানো হয়।  তথ্য অনুযায়ী, আফাকু কোল্ড স্টোরেজের মালিকানায় মান্না ৫০ শতাংশ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী ২৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রী ও পরিচালক ইসমত আরা লাইজু ২৫ শতাংশ অংশীদার। গত ৩ ডিসেম্বর পাঠানো নোটিশে বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কাছে খেলাপি বিনিয়োগ বাবদ মোট ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাংকের নোটিশে বলা হয়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ করেনি। ফলে বকেয়া বেড়ে বর্তমান পরিমাণে দাঁড়িয়েছে। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কোনোরকম অগ্রগতি না থাকায় চূড়ান্ত সতর্কতা হিসেবে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ না করলে ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। আরটিভি/এমএ
বাধা কাটল, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন মান্না
৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি
সারাদেশে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ একটি স্মারক জারি করেছে। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকাল দশটায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ দেবেন। আরও পড়ুন শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য দেশের সকল জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এরপর বিকেলে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।  আরটিভি/আরএ
৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জুলফিকারসহ চার জনের নিয়োগ বাতিল, প্রজ্ঞাপন জারি
৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি
শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী