ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচিত নুসরাত হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
মাদরাসাছাত্রী নুসরাত-ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের বিপরীতে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

গত ২০ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

এর আগে, ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) থেকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু করে।

এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট ওই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

আরও পড়ুন

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপার বুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আদালত থেকে আবারও পালালেন সেই আসামি
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পালিয়ে গেছেন শরিফুল ইসলাম নামে এক আসামি।
আদালত থেকে আবারও পালালেন সেই আসামি
ছিনতাইয়ের পর পোশাককর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর টাকা, মোবাইল ছিনতাইয়ের পর তাকে হত্যার ঘটনায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেয়। আসামিরা হলেন- মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান ও সুজন। আদালতের বেঞ্চ সহকারি সোহেল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর রাতে মিরপুর-১ থেকে বাসায় ফেরার পথে সায়মনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রিকশায় করে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিয়ে যায় তিন ছিনতাইকারী। সেখানে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে স্থানীয়রা সায়মনকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সায়মন মিরপুর-১-এর একটি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বেতন তুলে দুই সহকর্মীর সঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় মামলা করেন। তদন্তে ইউসুফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইকবাল ও মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সায়মনের মোবাইল বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনজনের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল রাখার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আদালত থেকে এ রায় দেওয়া হয়। আরটিভি/টিআর
ছিনতাইয়ের পর পোশাককর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জীববিজ্ঞানের বই নিতে ছাত্রীকে একা যেতে বলেন শরীরচর্চার শিক্ষক, অতঃপর...
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে গোলাম কবির (৫৪) নামে এক শিক্ষককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
জীববিজ্ঞানের বই নিতে ছাত্রীকে একা যেতে বলেন শরীরচর্চার শিক্ষক, অতঃপর...
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যেরে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন খারিজ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে ডনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম আসলাম জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে আদালতে হাজির করে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৭ আগস্ট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ নিয়ে একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও তার জামিন মঞ্জুর হয়নি। সালমান শাহ হত্যা মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডি। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাওয়া হলে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একাধিকবার সময় নেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। পরে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। আরটিভি/এসকে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন খারিজ
আরও পড়ুন
ছেলের পর বৃদ্ধ বাবাকে গুলি করে হত্যা
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় হত্যা মামলার প্রধান আসামি ধরা
স্ত্রী হত্যায় সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগীর যাবজ্জীবন
প্রেমিকের মৃত্যুর খবর শোনার পর চলে গেলেন প্রেমিকাও