ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো’ ইমনের মায়ের বর্ণনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না। কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো।’জুলাই আন্দোলনে নিহত ১৪ বছরের ইমনের মরদেহ পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের এক নেতা তাকে এমন হুমকি দিয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ ইমনের মা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে ২৩ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলার পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ইমনের মায়ের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

জবানবন্দিতে ইমনের মা বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যায় ইমন। সন্ধ্যার দিকে তেঁতুলতলা মোড়ে ছেলেকে দেখতে পান তিনি। সেদিন গুলিতে ইমনের বোনের ভাশুরও নিহত হন। ছেলেকে বাসায় যেতে বলে তার মরদেহ দেখতে তেঁতুলতলা মোড়ে যান তিনি। পরে কারফিউ জারি হলে বাসায় ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, আমি ছেলেকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শহীদ ইয়ামিনের একটি ভিডিও দেখিয়ে ইমন বলেছিল, দেখছো, আমার বয়সী ছেলেদের কীভাবে মেরে ফেলছে। আমি কেন আন্দোলনে যাবো না?

পরদিন ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে খাওয়া-দাওয়া করে ইমন তার বন্ধু নাঈম ও শাহীনকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহীন বাসায় এসে ইমনের বড় ভাই রাজীবকে জানায়, ইমন গুলি খেয়েছে।

খবর পেয়ে ইমনের মা, বাবা ও বড় ভাই রাজীব এম জেড হাসপাতালের সামনে তেঁতুলতলা মোড়ে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে চারদিক থেকে গুলি চলতে দেখেন তারা। এমনকি ওপরের দিক থেকেও গুলি ছোড়া হচ্ছিল বলে জবানবন্দিতে জানান ইমনের মা।

তেঁতুলতলা মোড়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার জ্ঞান ছিল না। ছেলের এমন অবস্থা দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা। পরে তিনজন ব্যক্তি ইমনকে রিকশায় করে বাসার সামনের রাস্তায় নিয়ে আসেন। অচেতন অবস্থায় ইমনের মাকেও বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জ্ঞান ফেরার পর ছেলের মরদেহের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইমনের মা বলেন, ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখি, মাথার পেছনে খুলিতে গুলির একটি চিহ্ন। বাম গালের চামড়া ইঁদুরের গর্তের মতো হয়ে ঝুলে ছিল। বুকের একপাশেও গুলির চিহ্ন দেখতে পাই।

এ সময় লম্বা চুলওয়ালা আওয়ামী লীগের এক নেতা এসে তাকে ধমক দেন বলেও জানান তিনি। ওই নেতা বলেন, লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না। না হলে লাশ গায়েব করে দেবো।

পরে ইমনের মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আরও বাধার মুখে পড়তে হয় বলে জানান তার মা। এলাকার একটি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনতে গেলেও ইমনের বড় ভাই রাজীবকে তা দেওয়া হয়নি। পরে অন্য একটি মসজিদ থেকে খাটিয়াসহ গোসল করানোর লোক নিয়ে আসা হয়।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, রাত ১১টার দিকে ইমনের জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তারা। তখনও চারদিক থেকে গুলি চলছিল। গ্রামের পথে তিন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের গাড়ি আটকে দেন। পরে অনুরোধ করে সেখান থেকে ছাড়া পান তারা।

পরদিন ২১ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান তারা। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ১৪ বছরের ইমনকে।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ছেলের হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে দায়ী করেন ইমনের মা। এ সময় অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি।

ইমনের মা বলেন, ১৯ জুলাই যদি কারফিউ না দেওয়া হতো, তাহলে আমার ছেলে বেঁচে থাকত। ছেলের হত্যার বিচারও দাবি করেন তিনি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তাহসিফ হত্যা মামলায় ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপের ৪ দিনের রিমান্ড
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ রিমান্ড আদেশ দেন। 
তাহসিফ হত্যা মামলায় ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপের ৪ দিনের রিমান্ড
হানিফসহ আ. লীগের চার নেতার রায় সময়োপযোগী: চিফ প্রসিকিউটর
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার নেতার রায়কে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলাটির বিচার শেষে আজ রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজকের এ রায় অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। জুলাই শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন মাহবুবউল আলম হানিফ। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, নির্বিচারে গুলি করাসহ যেসব নির্দেশনা ছিল, সেসবে তার সহযোগিতা ছিল। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বৈঠকে অধীনস্ত নেতাকর্মীদেরও তিনি বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।  ‘এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ সাজা দিয়েছেন আদালত।’  আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগতসহ সুপিরিয়র দায় থাকার কারণে হানিফকে প্রথম অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটিতে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। একইভাবে অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সব আসামিকে তিনটি অভিযোগের জন্য পুনরায় যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের অর্ধেক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসআর
হানিফসহ আ. লীগের চার নেতার রায় সময়োপযোগী: চিফ প্রসিকিউটর
সিলেটে আলোচিত রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলায় পলাতক থাকা পুলিশের বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁঞার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
সিলেটে আলোচিত রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড
সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর
দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা, বিচারক মাত্র ২৩০০: আইনমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাত্র ২ হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। এই চাপ অনেক সময় বিচারকদের জন্য অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করে।
দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা, বিচারক মাত্র ২৩০০: আইনমন্ত্রী