ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো’ ইমনের মায়ের বর্ণনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না। কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো।’জুলাই আন্দোলনে নিহত ১৪ বছরের ইমনের মরদেহ পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের এক নেতা তাকে এমন হুমকি দিয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ ইমনের মা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে ২৩ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলার পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ইমনের মায়ের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

জবানবন্দিতে ইমনের মা বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যায় ইমন। সন্ধ্যার দিকে তেঁতুলতলা মোড়ে ছেলেকে দেখতে পান তিনি। সেদিন গুলিতে ইমনের বোনের ভাশুরও নিহত হন। ছেলেকে বাসায় যেতে বলে তার মরদেহ দেখতে তেঁতুলতলা মোড়ে যান তিনি। পরে কারফিউ জারি হলে বাসায় ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, আমি ছেলেকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শহীদ ইয়ামিনের একটি ভিডিও দেখিয়ে ইমন বলেছিল, দেখছো, আমার বয়সী ছেলেদের কীভাবে মেরে ফেলছে। আমি কেন আন্দোলনে যাবো না?

পরদিন ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে খাওয়া-দাওয়া করে ইমন তার বন্ধু নাঈম ও শাহীনকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহীন বাসায় এসে ইমনের বড় ভাই রাজীবকে জানায়, ইমন গুলি খেয়েছে।

খবর পেয়ে ইমনের মা, বাবা ও বড় ভাই রাজীব এম জেড হাসপাতালের সামনে তেঁতুলতলা মোড়ে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে চারদিক থেকে গুলি চলতে দেখেন তারা। এমনকি ওপরের দিক থেকেও গুলি ছোড়া হচ্ছিল বলে জবানবন্দিতে জানান ইমনের মা।

তেঁতুলতলা মোড়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার জ্ঞান ছিল না। ছেলের এমন অবস্থা দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা। পরে তিনজন ব্যক্তি ইমনকে রিকশায় করে বাসার সামনের রাস্তায় নিয়ে আসেন। অচেতন অবস্থায় ইমনের মাকেও বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জ্ঞান ফেরার পর ছেলের মরদেহের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইমনের মা বলেন, ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখি, মাথার পেছনে খুলিতে গুলির একটি চিহ্ন। বাম গালের চামড়া ইঁদুরের গর্তের মতো হয়ে ঝুলে ছিল। বুকের একপাশেও গুলির চিহ্ন দেখতে পাই।

এ সময় লম্বা চুলওয়ালা আওয়ামী লীগের এক নেতা এসে তাকে ধমক দেন বলেও জানান তিনি। ওই নেতা বলেন, লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না। না হলে লাশ গায়েব করে দেবো।

পরে ইমনের মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আরও বাধার মুখে পড়তে হয় বলে জানান তার মা। এলাকার একটি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনতে গেলেও ইমনের বড় ভাই রাজীবকে তা দেওয়া হয়নি। পরে অন্য একটি মসজিদ থেকে খাটিয়াসহ গোসল করানোর লোক নিয়ে আসা হয়।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, রাত ১১টার দিকে ইমনের জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তারা। তখনও চারদিক থেকে গুলি চলছিল। গ্রামের পথে তিন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের গাড়ি আটকে দেন। পরে অনুরোধ করে সেখান থেকে ছাড়া পান তারা।

পরদিন ২১ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান তারা। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ১৪ বছরের ইমনকে।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ছেলের হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে দায়ী করেন ইমনের মা। এ সময় অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি।

ইমনের মা বলেন, ১৯ জুলাই যদি কারফিউ না দেওয়া হতো, তাহলে আমার ছেলে বেঁচে থাকত। ছেলের হত্যার বিচারও দাবি করেন তিনি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জয়নালের নামে ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন গৃহবধূ
ফরিদপুরের সদরপুরে এক ব্যক্তিকে ফাঁসাতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিথ্যা মামলা করার দায়ে এক গৃহবধূ ও তার স্বামীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 
জয়নালের নামে ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন গৃহবধূ
ময়মনসিংহে চাঞ্চল্যকর কৃষক হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে চাঞ্চল্যকর কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ময়মনসিংহে চাঞ্চল্যকর কৃষক হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। 
এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার, আর্থিক সংকট দেখিয়ে দায় এড়াতে পারবেন না স্বামী: হাইকোর্ট
স্ত্রীকে দেনমোহর পাওয়ার জন্য তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না বলে এক রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার, আর্থিক সংকট দেখিয়ে দায় এড়াতে পারবেন না স্বামী: হাইকোর্ট
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, অতঃপর...
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও ১৮ মাসের শিশুসন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় মো. রাকিবুল হাসান রাকিব (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, অতঃপর...