ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তা যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

শুধুমাত্র ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে আইনগতভাবে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে করা একটি মামলাকে ‘সাজানো ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামের এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আসামি রাসেল উদ্দিন তার ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নম্বর-১ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর মো. রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রায় ঘোষণা করেন:

যৌতুকের আইনি সংজ্ঞা: ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী, কেবল বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের দাবিকৃত অর্থ বা সম্পত্তিকেই ‘যৌতুক’ বলা যায়। বর্তমান মামলায় বাদী ও সাক্ষীরা জবানবন্দিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে টাকা চাওয়া হয়েছিল আসামির ব্যবসার উদ্দেশ্যে। ফলে ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চাওয়ার বিষয়টিকে যৌতুকের সংজ্ঞায় ফেলা যায় না এবং প্রসিকিউশন পক্ষ যৌতুক দাবির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মেডিকেল সাক্ষ্যের মারাত্মক বৈপরীত্য: বাদী জবানবন্দিতে দাবি করেছিলেন যে লাঠির আঘাতে তার ডান কাঁধ ও পিঠে জখম হয়েছে। অথচ তাকে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালের মেডিকেল সনদে আঘাতের স্থান হিসেবে বাম কাঁধের কথা উল্লেখ রয়েছে। বাদীর মৌখিক বক্তব্য এবং ডাক্তারি সনদের এই স্পষ্ট বৈপরীত্য শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ সন্দেহজনক করে তোলে।

সার্বিক পর্যালোচনায় উচ্চ আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও সাজানো হিসেবে চিহ্নিত করেন। একইসঙ্গে কক্সবাজারের ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করে আসামি মো. রাসেল উদ্দিনকে সম্পূর্ণ খালাস প্রদান করেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের প্রচলিত বিধান অক্ষুণ্ন থাকছে 
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এর মাধ্যমে প্রচলিত হেবা বা হস্তান্তর বিধান অপরিবর্তিত রেখেই সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। 
সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের প্রচলিত বিধান অক্ষুণ্ন থাকছে 
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে
স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু, আসামির যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় ফারুক হোসেন নামে এক আসামির যাবজ্জীবন, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল জজ আদালত। সেইসঙ্গে ধর্ষণে ভূমিষ্ঠ শিশুকে সন্তানের স্বীকৃতি এবং ওয়ারিশ হি‌সে‌বে তার সমস্ত কিছু পাবে ব‌লেও রায় দি‌য়ে‌ছেন আদালত।
স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু, আসামির যাবজ্জীবন
ফের নামঞ্জুর হলো এমপি গাজী নজরুলের জামিন
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন তৃতীয় দফার মতো নামঞ্জুর করেছেন আদাল
ফের নামঞ্জুর হলো এমপি গাজী নজরুলের জামিন
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষীর জবানবন্দির একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন ঘিরে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সাক্ষীকে উদ্দেশ করে সাবেক  তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’। এ সময় পলককে থামিয়ে কথা কম বলতে বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালে এ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন। জবানবন্দির একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের এক প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন।  এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি। এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম কাঠগড়া থেকে অনুমতি ছাড়া কথা বলার বিরোধিতা করে বলেন, আসামির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য থাকলে আইনজীবীরা বলবেন। আদালত থেকে অনুমতি না নিয়ে কোনো আসামি হুটহাট এভাবে কথা বলতে পারেন না।  এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলকের উদ্দেশে বলেন, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে। এখানে কারো সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, কেউ যেন কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে না নেন। সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের এক বৈঠকের উল্লেখ করে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এই বাক্যটি মামলার মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় জানিয়ে প্রসিকিউশন এটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানায় এবং সাক্ষীও তাতে সায় দেন। তখন কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশ্যে বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল পলককে থামিয়ে দিয়ে বলেন, একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।  পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, মাননীয় আদালত, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন। এখন তা বাদ দিতে হলে তো হোস্টাইল (স্বার্থবিরোধী) ঘোষণা করতে হবে। আইনজীবী লিটন আহমেদ ট্রাইব্যুনালে পলকের পক্ষে আইনি লড়াই চালান। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশনের আনা তিনটি প্রধান অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন পলক। যার জেরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।  পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া ও হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন নিহত হন। এছাড়াও রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আরটিভি/এসআর  
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল
আরও পড়ুন
দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার, আর্থিক সংকট দেখিয়ে দায় এড়াতে পারবেন না স্বামী: হাইকোর্ট
জবির ১৩ শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত
হাইকোর্টের পর এবার শিল্পকলার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
এবার হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ