ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইল। তুমুল আন্দোলনের সময় ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় দিশেহারা ছিলেন মা। হঠাৎ ফোনে খবর এলো, গুলি লেগেছে তার ছেলের। উদ্বিগ্ন মা ছুটলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে খুঁজে না পেয়ে গেলেন মর্গে। সারি সারি নিথর দেহ। এত মরদেহের ভিড়ে মুখ দেখে চেনার উপায় নেই। শেষমেশ পরনের পোশাক দেখে চিনতে পারেন নিজের সন্তানকে। মাথায় গুলির ক্ষত নিয়ে পড়ে আছেন ইসমাইল। ছেলেকে হারানোর সেই বেদনার কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মা তাসলিমা আক্তার।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল সোমবার (১২ অক্টোবর)। ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তাসলিমার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তিনি দশম সাক্ষী। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আসামি ২৮ জন।

৩০ বছর বয়সী তাসলিমার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। বর্তমানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তার ছেলে ইসমাইল নিহত হন।

তাসলিমা বলেন, ‘১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেল ৩টায় বাসা থেকে বের হয়ে আল্লাহ করিম মসজিদের পাশে গ্লাস ফ্যাক্টরির সামনে আন্দোলনে যোগ দেয় ইসমাইল। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমাকে ফোন করে ছেলের বন্ধু মনির। ইসমাইলকে আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে দেখেছে বলে জানায় সে। তাকে বাসায় চলে আসতেও বলা হয়।’

বাসায় না ফিরে আন্দোলনে থেকে যান ইসমাইল। তবে টাকা না থাকায় ছেলেকে ফোন করতে পারেননি মা। পরে তাকে ফোন দেন খালা আকলিমা। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। কয়েকবার দেওয়ার পর ফোন ধরেন তার বন্ধু কালু।

ইসমাইলের মা বলেন, কালু ফোন ধরে বলেন, ‘ইসমাইল আপনার কে হয়?’ আমার বোন বলেন, ‘আমি ইসমাইলের খালা।’ তখন কালু বলেন, ‘ইসমাইল গুলি খাইছে। তাকে আমরা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ খবর শুনে ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশা নিয়ে আমি, মা-বোনসহ ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশে রওনা দেই। কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখি। কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, তাপস ও বিপ্লবদের হাতে অস্ত্র ছিল। আমার সামনে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পৌঁছাই। প্রথমে জরুরি বিভাগে যাই। সেখানে গুলি খাওয়া বহু লোককে জীবিত ও মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। আমরা প্রতি তলায় তলায় ছেলেকে খুঁজতে থাকি। এরপর এক ডাক্তারকে বললে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। আমি বলি, এখানে আমার ছেলে নেই। কিছুক্ষণ পর তিনি মোবাইলে ছবি দেখান। ছবি দেখে আমি ছেলেকে শনাক্ত করি। ছেলে কোথায় আছে জিজ্ঞেস করলে আমাকে মর্গে নিয়ে যান ওই চিকিৎসক। মর্গে গিয়ে দেখি ৩০০-৪০০ মরদেহ। একটার ওপর একটা পড়ে আছে। পরনের পোশাক দেখে আমি ছেলেকে চিনতে পারি।

সাক্ষী বলেন, ইসমাইলের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ছেলের লাশ চাইলে দেওয়া যাবে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যার যার থানার ওসি এলে লাশ দেবেন। পরদিন বেলা ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা থেকে সাইফুল দারোগা হাসপাতালে আসেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় ইসমাইলের লাশ পেয়ে বাসায় নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে মামলা করবো না জানিয়ে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ছাতা মসজিদে আমার ছেলেকে গোসল দিয়ে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ সময় ছেলেকে হত্যার জন্য শেখ হাসিনা, তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, রাসেল, মোল্লা রুবেল, কমিশনার আসিফের পিএস বিপ্লব, বিপ্লব কুমার, সৈকত, সাজ্জাদ পলাশ, সাত্তার, মোহাম্মদ ইসমাইল, রাষ্ট্রন, রওশনসহ আরও অনেককেই দায়ী করেন তাসলিমা। তবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একই সঙ্গে ইসমাইল হত্যার বিচার চান এই মা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন চার আসামি। তারা হলেন— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক ও যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নুরনবী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অপর দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার।  আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুর নবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একইসঙ্গে চলবে। অন্যদিকে একই মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগীর বাবা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন কু-প্রস্তাব দেয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে হাতিবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছেন। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভিক্টিমকে তার বাবা শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিল, সেখান থেকে ভিক্টিমকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় আসামি নুরনবী। পরে পাসুন (জমিতে ছোটখাটো চাষ দিতে এবং ফসল বা বাগানের আগাছা পরিষ্কার বা নিড়ানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়) নামক অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় দিয়েছে আদালত। এ রায়ে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। এ ঘটনায় বাদীপক্ষ নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এমএইচজে
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
দেশে সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংসতার উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের প্রচলিত বিধান অক্ষুণ্ন থাকছে 
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এর মাধ্যমে প্রচলিত হেবা বা হস্তান্তর বিধান অপরিবর্তিত রেখেই সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। 
সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের প্রচলিত বিধান অক্ষুণ্ন থাকছে 
আরও পড়ুন
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে বিস্ফোরণ, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কাদেরসহ শীর্ষ ৭ নেতার ফাঁসির রায়, আদালতের সামনেই ককটেল বিস্ফোরণ
সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ