ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্গা বিসর্জন

অরণ্য পাশা

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:০৪ পিএম

শরৎ-হেমন্তের সন্ধিক্ষণে, শীতের মিষ্টি আমেজ শুরুর মুহূর্তে চলে প্রকৃতির পালাবদল। এরই মাঝে শুরু হয় সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবীর আগমনের বার্তা ধ্বনিত হয় সর্বত্র। প্রকৃতি সাজে বহুরূপে প্রস্তুত হয় দেবী বরণে। দেবী মহামায়া আসছেন অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করতে আর শুভশক্তির বিজয় সূচিত করতে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঢাকের ছন্দে উৎসবের আমেজের শুরু হয়।

ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। তবে এরও সাত দিন আগে হয় মহালয়া। সপ্তমী, অষ্টমী এরপর নবমী, একে একে অফুরন্ত আনন্দ আর হইচইয়ের মধ্য দিয়ে পূজার দিনগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যায়। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন। কি এক অজানা বিয়োগ-ব্যথায় মনটা টন টন করে ওঠে।

চণ্ডীতে উল্লেখ আছে ‘দুর্গম’ নামের এক অসুরকে বধ করায় দেবীর নাম হয়েছে ‘দুর্গা’। দুর্গম অসুরের কাজ হল জীবকে দুর্গতি প্রদান করা। দুর্গমকে বধ করে যিনি জীবজগৎকে দুর্গতির হাত থেকে অব্যাহতি দেন তিনি মা দুর্গা। দুর্গম অসুরের দুই রূপ। সংসার পথে এই অসুরের নাম ‘স্বার্থান্ধতা’। আধ্যাত্মিক পথে এ অসুরের নাম ‘অবিদ্যা। স্বার্থান্ধতায় পতিত হয়ে জীব অশেষ দুর্গতি ভোগ করে। দুর্গম অবিদ্যার অধীন হয়ে জীব দুঃখ-দুর্দশার মায়াজালে জড়িয়ে পড়ে। মা দুর্গা জ্ঞান-অসি দিয়ে অবিদ্যার বন্ধন ছেদ করে জীবের এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দান করেন ।

দুর্গার অসংখ্য বাহু। তার বাহুগুলো পালনী শক্তির প্রতীক। অসংখ্য বাহু দ্বারা অসংখ্য সন্তান তিনি পালন করেন। দেবী মূর্তিতে এ অসংখ্যের প্রতীক দশ। দশ হাতে তার দশটি অস্ত্র। ডান দিকে ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, তীক্ষ্ণবাণ শক্তি। আর বাম দিকে খেটক (ঢাল), ধনু, পাশ, অঙ্কুশ ও ঘণ্টা (কুঠার)।

অস্ত্রগুলোর প্রতিটি আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করে। যেমন: ‘ত্রিশূল। এটি দ্বারা তিনি স্থূল, সূক্ষ্ম ও কারণ জীবের এই তিন প্রকার দেহ লয় করে সিদ্ধ দেহ জাগিয়ে দেন। তেমনি ‘খড়গ’ অর্থ তত্ত্বজ্ঞানের অসি। এটি দ্বারা তিনি সাধকের অজ্ঞানতা নাশ করেন। দুর্গার প্রতিটি অস্ত্রের ব্যবহারিক ও পারমার্থিক অর্থ আছে। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মতো ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছেন মা দুর্গা। মায়ের বামচরণ, কটি ও গ্রীবা ঈষৎ বাঁকানো। ডান চরণ রেখেছেন সিংহের পিঠে সরলভাবে। বাম চরণ রেখেছেন অসুরের স্কন্ধোপরে বা বক্ষোপরে।

সমুদ্র মন্থনে লক্ষ্মীর উৎপত্তি। সমুদ্র মন্থনে রত্ন মিলবেই। বিশ্বপ্রকৃতিও একটি সমুদ্রের মতো। যারা বিচক্ষণ তারা ভূমি প্রকৃতি কর্ষণ করে শস্যধন আহরণ করেন। কেবল টাকাকড়িই ধন নয়। চরিত্র ধনও মহাধন। যার টাকা নেই সে ‘লক্ষ্মীহীন’। যার চরিত্র ধন নেই সে ‘লক্ষ্মীছাড়া’। যারা সাধক তাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ মুক্তিধন। তারা লক্ষ্মীনারায়ণ ভজনা করেন মুক্তি পাওয়ার আশায়।

সর্বজীবের জীবিকার উৎস লক্ষ্মীদেবী। ইনি স্বর্গে ‘স্বর্গলক্ষ্মী’, রাজগৃহে ‘রাজলক্ষ্মী’। যাদের জীবন পবিত্র তাদের সংসারে ‘গৃহলক্ষ্মী’। লক্ষ্মীর আর একটি রূপ ‘নদী’। লক্ষ্মী শাপভ্রষ্টা হয়ে পদ্মানদী রূপে প্রকাশিত হয়েছেন। আমরা ভাগ্যবান। পূর্ববঙ্গে ইনি পদ্মানদীরূপে প্রবাহিত হয়ে এই পবিত্র ভূমিকে সুফলা শস্য-শ্যামলা করে রেখেছেন।

গণেশ ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অংশ। পুত্রলাভের জন্য শিবের আদেশে পার্বতী বিষ্ণুর আরাধনা করেছিলেন। শ্রীবিষ্ণুরও ছিল জগজ্জননীর মাতৃত্বের পিপাসা। তাই এলেন পুত্ররূপে। শনির দৃষ্টিতে গণেশের শির স্কন্ধচ্যুত হয়। প্রাচীনকালে যখন নবগ্রহ আবিষ্কৃত হয় তখন শনিই ছিলেন শেষ গ্রহ। অর্থাৎ সূর্য হতে সবচেয়ে দূরেব গ্রহ শনি। অনন্ত আকাশকে শনিই সীমার মধ্যে এনেছেন। এজন্য শনি সীমাবদ্ধতার প্রতীক। অসীম শ্রীবিষ্ণু সসীমের মধ্যে এসে শির হারালেন। ঐরাবতের শির কেটে এনে যুক্ত করে দিয়ে বাঁচানো হল গণেশকে।

দেবী সরস্বতী মায়ের জ্ঞানশক্তি। দেবীর হাতে পুস্তক ও বীণা। সরস্বতী শুদ্ধ জ্ঞানময়ী প্রকাশস্বরূপা। জ্ঞানের সাধক হতে হলে সাধককে হতে হবে দেহে মনেপ্রাণে শ্বেত-শুভ্র-শুচি। সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস। জল আর দুধ মিশিয়ে দিলে হাঁস তা থেকে দুধ গ্রহণ করে জল ত্যাগ করে। যথার্থ জ্ঞানী বিবেকের বলে বস্তু হতে অসার অংশ বাদ দিয়ে নিত্য সার অংশগ্রহণ করে। সত্য গ্রহণের মধ্যেই জ্ঞান সাধনার ভিত্তি স্থাপিত হয়।

হর-পার্বতীর তপস্যালব্ধ সন্তান হল দেবসেনাপতি কার্তিক। কার্তিক ক্ষাত্রশক্তির মূর্তি। কার্তিকেয় ক্ষাত্রবীর্য। সরস্বতী দিবেন নীতি। লক্ষ্মী দিবেন সম্পত্তি। গণেশ দিবেন পরিশ্রম। কার্তিক দিবেন পরাক্রম। তারকাসুরকে বধ করে স্বর্গ-ভ্রষ্ট দেবতাদের পুনরায় স্বর্গে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কার্তিক। পরাধীন দেবতাদের স্বাধীন করেছিলেন এই দেবসেনা কার্তিক, যিনি যুবশক্তির প্রতীক।

সিংহ রজোগুণের প্রতীক। সিংহ দুর্দান্ত পশুশক্তি। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই পশুশক্তি আছে। অসুর ঘোর তমোগুণের মুক্তি। মায়ের সঙ্গে অসুরের যুদ্ধস্বত্ব ও তমোগুণের লড়াই। এই লড়াইতে তারই জয় অবশ্যম্ভাবী যার পক্ষে থাকবে রজোশক্তি। রজোমূর্তি সিংহ আছে মায়ের পক্ষে। তাই জয় সুনিশ্চিত।

মা দুর্গা যদিও আঘাত করেন অসুরকে, তার মধ্যেও মঙ্গল ইচ্ছা বিদ্যমান। নিষ্ঠুরভাবে মা যে অসুর সন্তানকে আঘাত করেন তার মধ্যেও তার কৃপা আছে। আঘাত দিয়ে শুভবুদ্ধি জাগানোর চেষ্টা করেন। যেসব অসুর তার হাতে মৃত্যুবরণ করে তারা পরম গতি লাভ করে থাকে।

কলা-বৌর শাস্ত্রীয় নাম ‘নবপত্রিকা’। নবপত্রিকা বলতে নয়টি গাছের চারা বোঝায়। নয়টি গাছের চারাকে শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে কলা-বৌ সাজানো হয়। প্রত্যেকটি চারার এক একজন অধিষ্ঠাত্রী দেবী আছেন। কদলীতে আছেন ব্রাহ্মণী, কচুতে কালিকা, হরিদ্রাতে দুর্গা, জয়ন্তীতে কার্তিকী, বেলের অধিষ্ঠাত্রী শিবা, দাড়িম্বে রক্তদন্তিকা, অশোকে থাকেন দেবী শোকরহিতা, মানের চামুন্ডা ও ধানের লক্ষ্মী।

ধর্ম যার যার আনন্দ হোক সবার। সনাতন ধর্মীদের এ বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ থাকুক। আমরা ধর্ম নিয়ে কাউকে আঘাত দিয়ে কথা না বলি। অন্যের ধর্ম কে সম্মান করি। কোনও ধর্ম অশান্তির জন্য নয়। শারদীয় এ উৎসবে বাঙালির জীবন শুভ ও সুন্দর হোক। কল্যাণ বয়ে আনুক সমগ্র পৃথিবীর।

আরকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সারপ্রাইজ মূল্যছাড় দিচ্ছে জেন্টল পার্ক
শীতকালীন পোশাকে বিশেষ মূল্যছাড় দিচ্ছে জেন্টল পার্ক। তারুণ্য নির্ভর এই লাইফস্টাইল স্টোরটিতে থাকছে শীতের সমকালীন প্যাটার্ন নির্ভর পোশাক। এবার শীতে ডিজাইনের সঙ্গে মিল রেখে বৈচিত্র্যতা আনা হয়েছে নেক লাইনে। পোশাকের রঙ, শীত উপযোগী ফরমাল ও ক্যাজুয়াল ফ্যাশনে দিবে বিশেষ দ্যুতি। জেন্টল পার্কের চিফ ডিজাইনার শাহাদৎ চৌধুরী বলেন, জেন্টল পার্ক পাশ্চাত্য ফ্যাশনকে দেশীয় ট্রেন্ড নির্ভর করে তৈরি করে। সমকালীন কালার চার্ট এবং প্যাটার্নের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয় ট্রেন্ড জেন্টল পার্কের রেডি টু ওয়ারে স্থান পাবে। পোশাকের আউটলুক পুরোটাই সর্বশেষ ফ্যাশনকে অনুসরণ করে করার চেষ্টাও রাখা হয়। ডিজাইন বৈচিত্র্যের শীতের পোশাকের পাশাপাশি এবার খণ্ডকালীন সময়ের জন্য জেন্টল পার্ক দিচ্ছে সারপ্রাইজ মূল্যছাড় সুবিধায় ব্লেজার ক্রয়ের সুযোগও। সর্বোচ্চ শতকরা ২৫ ভাগে কেনাকাটার সুযোগ থাকছে এই অফারে। তবে ক্রেতারা তাদের প্রতিটি শোরুমে  শীতকালীন সারপ্রাইজ মূল্যছাড় পাবেন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।  এছাড়াও স্টোরগুলোতে প্রোডাক্টলাইন ডিসপ্লেতে তাই আনা হয়েছে স্বতন্ত্রতা। তবে তরুণদের জন্য শীতের কালেকশন থাকছে বেশী। ফ্যাশন ট্রেন্ডের সর্বশেষ মেলবন্ধন এবং পণ্য সম্পর্কে আরো জানতে পারবেন জেন্টল পার্কের ভেরিফাইড ফেসবুক ফ্যান পেইজ থেকে। স্টোর ছাড়াও অনলাইন শপিং- এ সারপ্রাইজ মূল্যছাড় থাকছে সীমিত সময়ের জন্য। অনলাইনে পণ্যের কোড ব্যবহার করে মূল্যছাড় সুবিধা নিতে হবে। এন/ওয়াই
সারপ্রাইজ মূল্যছাড় দিচ্ছে জেন্টল পার্ক
লম্বা চুল আরো লম্বা, উপায় ৭টি
লম্বা চুল সব মেয়েদেরই শখ। অনেক কষ্ট করে সময় নিয়ে চুল লম্বা করলেন কিন্তু পড়ে যাচ্ছে চুল কিংবা হারিয়ে ফেলছে নমনীয়তা? এ নিয়ে আশঙ্কায় ভুগেন অনেকেই। মূলত অযত্নের কারণে চুল ফেটে যায় এবং আর বাড়তে পারে না। তাই ঘরের কাজে কিংবা বাহিরে যাবার সময় প্রয়োজন চুলের যত্নের। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললেই আপনার লম্বা চুল থাকবে অটুট ও ঝলমলে। চলুন জেনে নেই তা... •  ট্রিম করুন: চুল লম্বা হয়েছে কিন্তু কাটতে চাচ্ছেন না? বড় চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে আগা ফাটা রোধ করা জরুরি। হেয়ার স্টাইলিস্টদের মতে, প্রতি ৩ মাস পর পর চুল না কাটলেও ট্রিম করা প্রয়োজন। নিয়মিত ট্রিম করলে অসময়ে চুলের আগা ফাটা বন্ধ হবে। এতে করে চুল নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা কমে যায়। •  জট ছাড়ান: প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে চুলের জট ছাড়িয়ে নিন। কারণ চুলে জট থাকলে পরের দিন তা ছাড়াতে কষ্ট হয় এবং এতে অনেক বেশি চুল পড়ে যায়। তাই প্রতিদিন মোটা মুখের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়িয়ে নেবেন। •  শ্যাম্পু করুন: চুলের মধ্যে এক ধরনের প্রাকৃতিক তেল থাকে যা আমাদের চুলে পুষ্টি যোগায়। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে সেই তেল চলে যায় এবং আমাদের চুল তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। তাই চুলের যত্ন নিতে সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন শ্যাম্পু করুন। •  কন্ডিশনার ব্যবহার করুন: চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে রাখতে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুলের মাঝ অংশ থেকে নিচ পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। •  সাপ্তাহিক যত্ন: সপ্তাহজুড়ে ব্যস্ততার কারণে চুলের যত্ন নিতে না পারলেও অন্তত একটা দিন মাথায় তেল ও প্যাক লাগানোর জন্য সময় বের করে নিন। কারণ তেল আপনার চুলে পুষ্টি যোগাবে এবং গোঁড়া মজবুত রাখবে। •  সঠিক পণ্য: চুল সহজে নষ্ট হয়ে যাওয়া বা পড়ে যাবার প্রধান কারণ কেমিক্যাল যুক্ত চুলের প্রোডাক্টের ব্যবহার। তাই চুলের ধরন ও মান বুঝে প্রোডাক্ট কিনুন। •  বেঁধে রাখুন: ব্যায়াম করার সময় কিংবা ঘরের কাজ করার সময় চুল বেঁধে নিন। এছাড়া বাহিরে যাবার সময়য় ধুলোবালির হাত থেকে চুলকে রক্ষা করার জন্য মাথায় স্কার্ফ বা ওড়না দিয়ে ঢেকে নিন। তবে খেয়াল রাখবেন, গোসলের সময় মাথায় গরম পানি দেবেন না। গরম পানি মাথার ত্বকে খুশকি তৈরি করে এবং চুলের গোঁড়া নরম করে ফেলে। ছবি: আরটিভি অনলাইন তুলেছেন: মুঞ্জুরুল আলম মডেল: সোহা এন/সি
লম্বা চুল আরো লম্বা, উপায় ৭টি
পছন্দের গহনার যত্ন নিন ঘরে বসে
গহনার প্রতি সব মেয়েদেরই এক ধরনের দুর্বলতা কাজ করে। বর্তমানে স্বর্ণ, রুপা, হিরে বা রুপার অলংকারের পাশাপাশি তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে অ্যান্টিক, মাটির, কাঠের গহনাসহ বিভিন্ন ধরনের অলংকার। কিন্তু সবসময় ব্যবহার না করার ফলে হারিয়ে যায় উজ্জ্বলতা। সেটি আর ব্যবহারযোগ্য থাকে না। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। অলংকার আবার আগের মতো উজ্জ্বল করে তুলতে পারবেন ঘরে বসেই। আর এর জন্য বাড়তি কোনো খরচের প্রয়োজন নেই। কিছু নিয়ম মেনে চললেই আপনি ফিরে পাবেন আপনার আগের অলংকার। চলুন তাহলে জেনে নিই কি সেই উপায়— •       হীরার আংটি বা নথ পরিষ্কার করতে টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। ব্রাশে নিয়ে টুথপেস্ট ঘষে, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর পরিষ্কার টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। •       যেকোনো গহনা একই বাক্সে না রেখে টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে আলাদা আলাদা বক্সে রাখুন। •       সোনার উজ্জ্বলতা কমে গেলে একটি পাত্রে পানির মধ্যে একটু ডিটারজেন্ট পাউডার বা শ্যাম্পু মিশিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। আপনার অলংকার নতুনভাবে উজ্জ্বলতা ফিরে পাবে। •       রুপার গয়না পরিষ্কার রাখতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করুন। গহনার ওপর পাউডার দিয়ে নরম ব্রাশ দিয়ে ঝেরে ফেলুন। •       কুন্দন, পাথর, অ্যান্টিক ও মুক্তার গয়না কুসুম গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। তবে খুব বেশি ময়লা হলে পানিতে সামান্য সাবান মিশিয়ে নিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে ফেলুন। •       প্লাস্টিকের ব্যাগে মুক্তার গয়না রাখবেন না। •       গোল্ড প্লেটের অলঙ্কার ব্যবহারের পর টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। এটি কালো হয়ে গেলে সোনার দোকানে নিয়ে আবার রং করিয়ে নেয়া যায়। •       অলংকার পরিষ্কার করার জন্য গামলা এবং বড় চালনি ব্যবহার করুন। কারণ ধোয়ার সময় অলংকারের পাথর খুলে গেলে  তা গামলার মধ্যে পাওয়া যাবে। বেসিনে পরিষ্কার করলে খুলে যাওয়া পাথর হারিয়ে যেতে পারে। •       অলংকার সব সময় কাঠের বা কাপড়ের তৈরি বাক্সে রাখবেন। এন/পি
পছন্দের গহনার যত্ন নিন ঘরে বসে
ডিমের খোসার চমৎকার ব্যবহার
যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য উপকারী ডিম। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা এবং সুস্থ থাকার জন্য ডাক্তাররা দিনে অন্তত ২টি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া যারা ডায়েট করেন তারা এর থেকে বেশি ডিম খেয়ে থাকেন। পোচ, ফ্রাই কিংবা সিদ্ধ করে ডিম খাওয়া পছন্দ করেন অনেকে। কিন্তু সাধারণত ডিম খাওয়ার পর এর খোসা ফেলে দেয়া হয়। তবে আপনি হয়তো জানেন না এই খোসাগুলো যে ঘরের বিভিন্ন কাজ থেকে শুরু করে রূপচর্চায় ব্যবহার করা যায়। চলুন জেনে নিই কি কি কাজে ডিমের খোসা ব্যবহার করতে পারি— •       রান্নার পাত্রের পোড়া দাগ তুলতে প্রথমে ডিমের খালি খোসাগুলো গুঁড়া করে নিন। এবার পাত্রের মধ্যে খোসার গুঁড়া, লবণ এবং পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে উঠলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন পোড়া দাগ সহজেই উঠে গেছে। •       ব্লেন্ডারের ব্লেডগুলো ধারাল করতে এবং ভিতরের জমে থাকা ময়লা সহজে দূর করতে ডিমের খোসা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করুন। এরপর ব্লেন্ডারে সামান্য পানি দিয়ে ঠাণ্ডা ডিমের খোসা ব্লেন্ড করুন। দেখবেন ভিতরের ময়লা পরিষ্কার হয়ে গেছে। •       গাছের সার হিসেবে ডিমের খোসার তুলনা হয় না। খোসাগুলো গুঁড়া করে গাছের নিচে দিন। •       বাগানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে ডিমের খোসা গুঁড়া করে ছিটিয়ে দিন। এতে পোকামাকড় বাগানে আসার সাহস পাবে না।   •       ঘরে তৈরি করুন ডিমের খোসা দিয়ে স্ক্রাব। ডিমের খোসা গুঁড়া করে তাতে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন এবং মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক পরিষ্কার এবং নরম থাকবে। •       যারা কফির তিতা স্বাদ পছন্দ করেন না তারা কফি দানার সাথে কিছু ডিমের খোসার গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। এরপর কফি ছেঁকে নিন। ডিমের খোসা কফির তিক্ততা অনেকটা কমিয়ে আনবে। •       ত্বকের র‌্যাশ, চুলকানি, পোকার কামড়ের জ্বালা দূর করতে ডিমের খোসা ব্যবহার করুন। ভিনেগাররে মধ্যে ডিমের খোসা ২ থেকে ৩ দিন ভিজিয়ে রাখুন। খোসাগুলো ভিনেগারে মিশে গেলে মিশ্রণটি লাগান। এতে জ্বালা পোড়া কমে যাবে। এন/পি
ডিমের খোসার চমৎকার ব্যবহার
সাফল্য আসবে যে ১০টি পরিবর্তনে
আমরা যখন ২০ এর কোঠায়, তখন সবাই আরাম করতে অভ্যস্ত হই। দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘুমানো, সারারাত জেগে থাকা, দিনভর আড্ডাবাজি করা এগুলোই ছিল আমাদের কাজ। তবে ৩০ আপনার জীবনের ব্যক্তিগত এবং পেশাদারী সিদ্ধান্তগুলোকে অর্জনের ভিত্তি স্থাপন করার একটি আদর্শ সময় । এই সময়ে নেয়া সকল সিদ্ধান্ত গড়ে তোলে আপনার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। কিন্তু জীবনযাত্রায় সাফল্য উপভোগের জন্য প্রয়োজন কিছু পরিবর্তনের। চলুন জেনে নেই সেগুলো-    ১. ধূমপান ছাড়ুন : যদি আপনার ধূমপানের অভ্যাস থাকে তাহলে ছেড়ে দিন। কারণ সিগারেট আপনার শরীরে নীরবে যে ক্ষতিগুলো করছে তা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।  ২. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ওঠার অভ্যাস করুন : অসময়ে ঘুমের অভ্যাস আপনাকে ক্লান্ত এবং কাজে অমনোযোগী করে তুলবে। প্রতিদিন একই সময় ঘুমালে এবং উঠলে আপনার শরীর তা মেনে নিবে। এতে কিছুদিনের মধ্যেই আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। ৩. ব্যায়াম করুন : সকালটা শুরু করুন ব্যায়াম, ধ্যান কিংবা ইয়োগা দিয়ে। ১০ মিনিটের জন্য হলেও নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিন। কারণ এখন আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হলে পরবর্তীতে এর সুফল অবশ্যই পাবেন। ৪. ডাইরি লিখুন : ব্যস্ততার মাঝে আমরা ভুলে যাই ডেয়ারি লিখতে। সারাদিন আপনার ভালো-খারাপের মুহূর্তগুলো লিখে রাখুন। এটি পরবর্তী সময়ে আপনাকে বিনোদন দিবে। ৫. সঞ্চয় করুন : ৩০ এর শুরুতেই টাকা জমানোর অভ্যাস করুন। এটা এক সময়ে আপনার বিপদে কাজে দিতে পারে। ৬. স্বপ্ন পূরণ করুন : আপনার স্বপ্নগুলো যতো ছোট কিংবা বড় হোক না কেন সেগুলো ভালো সময়ের জন্য জমিয়ে না রেখে পূরণ করুন। বই লিখতে চান কিংবা কোথাও ঘুরতে ইচ্ছা করছে? তাহলে আজকেই পদক্ষেপ নিয়ে ফেলুন। ৭. যা আছে তা নিয়ে সুখি থাকুন : জীবনে সুখি থাকার মূলমন্ত্র হলো নিজের যা আছে এবং যেমন আছে সেটা মেনে নেয়া। কারণ মানুষের সাথে তুলনা করা মানসিক অশান্তিতে ঠেলে দেয়। ৮. নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন : নিজের কাছের এবং ভালোবাসার মানুষগুলোকে প্রাধান্য দিন। আপনি যেমনই হন না কেন তারা আপনাকে সেভাবেই মেনে নিবে। মানুষের জন্য নিজেকে বদলাবেন না। ৯. অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করুণ : কারও হয়তো দামী গাড়ী আছে, বাড়ি আছে। তবে তা আপনার থাকাও জরুরী না। কার কি আছে সেটা দেখা বন্ধ করুন। অন্যের সাথে তুলনা করে নিজেকে কষ্ট দিবে না। ১০. নিজের ভুলগুলো ক্ষমা করুন : আমরা সাধারণত অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, যা আমাদের নিজের চোখে ছোট করে। জীবনে বড় হতে চাইলে প্রথমে নিজের ভুলগুলো মেনে নিন এবং সেগুলো কীভাবে বদলানো যায় সেই ব্যাপারে ভাবুন। এন/এমকে 
সাফল্য আসবে যে ১০টি পরিবর্তনে
আরও পড়ুন
কলকাতায় আশুরার দিনে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া যাবে: হাইকোর্ট