
বাংলা পঞ্জিকার পাতায় আজ ৪ আশ্বিন ১৪৩২, শরৎকাল। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া পেরিয়ে এখন আকাশে ভাসছে সাদা মেঘ, মাঠে দুলছে কাশফুল, আর ভোরবেলায় বাতাসে মিশে আছে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ।
শরৎকাল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যেই নয়, বাংলার মানুষের জীবনযাত্রায়ও এনে দেয় নতুন মাত্রা। এই সময়ে গ্রামে-শহরে শুরু হয় বিভিন্ন উৎসব ও মিলনমেলা। শিউলি ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, কাশবনে বেড়াতে যাওয়া কিংবা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আড্ডা—সব মিলিয়ে শরৎ হয়ে ওঠে আনন্দের ঋতু।
বাংলাদেশে শরৎকালে পিঠার জনপ্রিয়তাও কম নয়। ভোরবেলার হালকা শীতল আবহে গরম গরম পিঠা খাওয়ার আনন্দই আলাদা। খেজুরের রস না এলেও, এ সময় থেকেই চালের গুঁড়ো, নারকেল আর গুড় দিয়ে নানা পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। বিশেষ করে শহুরে কফিশপগুলোতেও মৌসুমি খাবারের তালিকায় যুক্ত হয় নানা ধরনের দেশি পিঠা।
তাছাড়া দুর্গাপূজা সামনে চলে আসায় বাজারে জমে ওঠে কেনাকাটা, আর ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্যও শরৎ মানেই নতুন পোশাকের সংগ্রহ। অনেকে আবার এই সময়টিকে ভ্রমণের জন্য সেরা মৌসুম হিসেবে বেছে নেন, কাশবন, নদীর পাড় কিংবা গ্রামীণ পথের শরতের রূপ দেখে মন ভরে যায়।
বাংলার ছয় ঋতুর ভাণ্ডারে শরৎ তাই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, আমাদের সংস্কৃতি, খাবার আর জীবনযাত্রায়ও এনে দেয় বিশেষ আনন্দ।
আরটিভি/এ/এসআর-টি




