
দাঁতে চিনচিনে ব্যথা কিংবা মাড়ি ফুলে যাওয়া—এসব অনেকেই হালকাভাবে নেন। ব্যথানাশক খেয়ে ফেলেন বা অ্যান্টিসেপ্টিক মলম লাগান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এভাবে সমস্যা চেপে রাখা ঠিক নয়। কারণ দাঁত ও মাড়ির ছোটখাটো অস্বস্তিই অনেক সময় বড় রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে না গেলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
মাড়ি থেকে রক্তপাত, মুখে দুর্গন্ধ
দিনে দু’বার ব্রাশ করা, মাউথওয়াশ ব্যবহার করেও যদি মুখের দুর্গন্ধ না যায় বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, তবে সতর্ক হতে হবে। এটি পেরিয়োডন্টাইটিস-এর লক্ষণ হতে পারে, যার সঙ্গে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ অবস্থায় দাঁত ও মাড়ির সংলগ্ন কোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
দাঁতে ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে ওঠা মাড়ি
অতিরিক্ত ধূমপান, অপুষ্টি, ডায়াবিটিস কিংবা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের কারণে মাড়িতে সংক্রমণ হয়। দাঁত শিরশির করে, মাড়ি লাল হয়ে যায় ও ব্যথা বাড়তে থাকে। এটিকে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় জিঞ্জিভাইটিস। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
ব্রাশ করেও দুর্গন্ধ না যাওয়া
অম্বল, সাইনাস ইনফেকশন বা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। সাইনাস হলে নাক-মুখ দিয়ে হলুদ বা সবুজ রঙের মিউকাস বের হয়। আর ভিটামিন ডি কম থাকলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যায়। ফলে দাঁতের নানা সমস্যা দেখা দিয়ে মুখের গন্ধ বেড়ে যায়।
জিভের নীচে মাংসপিণ্ড বা আলসার
জিভের নীচে ছোট মাংসপিণ্ড বা আলসার হলে খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলতে সমস্যা হয়। ভিটামিন সি ও বি-এর ঘাটতি, হরমোনের সমস্যা বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের কারণে এমন হতে পারে। তবে ক্ষত দ্রুত বাড়তে থাকলে, শক্ত হয়ে গেলে বা দাঁত নড়তে শুরু করলে, অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় এটি মুখগহ্বরের ক্যানসারেরও পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
দাঁত বা মাড়ির যেকোনো সমস্যাই দীর্ঘদিন উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, প্রাথমিক সতর্কতাই পারে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে।
আরটিভি/এ/এসআর




