ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রোটিন পাউডারে উচ্চমাত্রার সিসায় ঝুঁকিতে অন্তঃসত্ত্বারা, যেভাবে সতর্ক হবেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দোকান থেকে যে প্রোটিন পাউডার বা প্রোটিন শেক কিনে খাচ্ছেন? তবে বিভিন্ন সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, নানা ব্র্যান্ডের প্রোটিন পাউডার প্রচুর পরিমাণে ভারী ধাতু মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতুও পাওয়া গিয়েছে প্রোটিন পাউডারে, যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক।

মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কনজিউমার রিপোর্টস নামের একটি সংস্থা।

অলাভজনক ওই প্রতিষ্ঠানটি ২৩ ধরনের প্রোটিন পাউডার ও শেকের নমুনা পরীক্ষা করে জানিয়েছে, এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি পণ্যে প্রতিদিনের নিরাপদ গ্রহণমাত্রার চেয়ে বেশি সিসা রয়েছে।

কনজিউমার রিপোর্টসের ফুড সেফটি রিসার্চ অ্যান্ড টেস্টিং বিভাগের ম্যানেজার সানা মুজাহিদ বলেন, এই পণ্যগুলো থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতির ঝুঁকি নেই, বিশেষ করে যদি এগুলো কোনো সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

যেহেতু মানুষ অন্যান্য খাবার থেকেও সিসার সংস্পর্শে আসে, তাই এর মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

যে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টগুলোকে কনজিউমার রিপোর্টস ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেগুলোর প্রত্যেক পরিবেশনে ০.৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি সিসা রয়েছে। যা ক্যালিফোর্নিয়ার কঠোর দৈনিক গ্রহণমাত্রার মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্ধারিত। তবে কিছু স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও উচ্চমাত্রার সীমা নির্ধারণ করেছে।

২০২২ সাল থেকে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, শিশুদের জন্য দৈনিক ২.২ মাইক্রোগ্রামের বেশি এবং সন্তান ধারণক্ষম নারীদের জন্য ৮.৮ মাইক্রোগ্রামের বেশি সিসা গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবুও, সিসা গ্রহণের কোনো মাত্রাকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায় না। সিসা অত্যন্ত বিষাক্ত এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে জমতে থাকে। অল্প পরিমাণ সংস্পর্শেও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞরাও এই প্রতিবেদনের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. স্টিফেন লুবি বলেন, এই ফলাফল ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ড. পিটার কোহেন সতর্ক করে বলেন, এই প্রতিবেদনটিকে ‘ক্রয় নির্দেশিকা’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সাপ্লিমেন্টে সিসা এবং অন্যান্য ভারী ধাতু পণ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়তে পারে। অথচ স্বাস্থ্য ভালো রাখার উদ্দেশ্যে আমরা এগুলো গ্রহণ করি।

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য বা ওষুধের মতো সাপ্লিমেন্ট পণ্যগুলোও নিয়মিত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যায় না। ড. কোহেন পরামর্শ দেন, মানুষ যেন এমন কোম্পানির তৈরি সাপ্লিমেন্ট বেছে নেয় যারা গুণমান যাচাইকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

কনজিউমার রিপোর্টস জানিয়েছে, পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে নেইকেড নিউট্রিশন কোম্পানির ভেগান মাস গেইনার (Vegan Mass Gainer) প্রোটিন পাউডারে, প্রতি সার্ভিংয়ে ৭.৭ মাইক্রোগ্রাম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে হুয়েল কোম্পানির ব্ল্যাক এডিশন পাউডারে, ৬. ৩ মাইক্রোগ্রাম। অন্য যেসব পণ্যে নির্ধারিত ০.৫ মাইক্রোগ্রামের সীমা অতিক্রম করেছে, সেগুলোর বেশিরভাগে প্রতি সার্ভিংয়ে তিন মাইক্রোগ্রামের কম সিসা ছিল।

আরও পড়ুন

নেইকেড নিউট্রিশনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা জেমস ক্লার্ক এক বিবৃতিতে জানান, প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তারা একটি স্বতন্ত্র পরীক্ষা করিয়েছেন, যা নিশ্চিত করেছে যে তাদের কোনো পণ্যের ভারী ধাতুর মাত্রা এফডিএ-এর রেফারেন্স সীমা অতিক্রম করেনি।

তিনি আরও বলেন, ভেগান মাস গেইনার ওজন বাড়ানোর জন্য তৈরি। এর সার্ভিং সাইজ অন্যান্য উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন পাউডারের তুলনায় বড়। এ কারণে এতে সিসার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে, হুয়েলের পুষ্টিবিষয়ক প্রধান রেবেকা উইলিয়ামস দাবি করেন, তাদের পণ্যে সিসার মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা মানের মধ্যেই রয়েছে এবং কোম্পানির সব পণ্যই ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ’।

পরীক্ষায় পাওয়া সিসার মাত্রা ‘তাৎক্ষণিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করার মতো উচ্চ নয়’ বলে স্বীকার করেছে কনজিউমার রিপোর্টস। তবে তারা এটিও উল্লেখ করেছে, পরীক্ষার ফলাফল সব সার্ভিং বা ব্যাচে একই থাকবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. স্টিফেন লুবি বলেন, কোম্পানিগুলো তাদের সরবরাহ চেইন যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ না করায় তিনি ‘বিস্মিত ও হতাশ’।

উল্লেখ্য, সিসার মতো ভারী ধাতু দূষিত মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানি, কিংবা উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেসহ বিভিন্ন উপায়ে খাদ্য সরবরাহে প্রবেশ করতে পারে।

কনজিউমার রিপোর্টস আরও জানায়, উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন সাপ্লিমেন্টগুলোতে দুগ্ধ বা মাংসজাত উৎসের তুলনায় বেশি সিসা পাওয়া গেছে। এটি ইঙ্গিত করে যে দূষিত ফসলই সমস্যার একটি বড় উৎস হতে পারে।

তবে ড. লুবি বলেন, প্রতিবেদনে কিছু ক্ষেত্রে যে মাত্রার সিসা পাওয়া গেছে, তা উৎপাদনের আরও অন্যান্য ধাপেও দূষণ ঘটতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি করছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিটার কোহেন বলেন, একবার সিসা শরীরে প্রবেশ করলে তা হাড়ে জমা হতে পারে এবং খুব ধীরে বের হয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ বিপজ্জনক। এতে স্নায়বিক সমস্যা ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও জানান, শিশুরা সিসা বিষক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকে। তাদের মধ্যে বিলম্বিত বিকাশ, শেখার অসুবিধা এবং খিঁচুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্ট আনলেডেড নামের গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক জেনা ফোরসাইথ বলেন, এই ফলাফল বিশেষভাবে গর্ভবতী নারীদের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ গর্ভাবস্থায় প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। গর্ভবতী নারী বা যারা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচ্চ সিসাযুক্ত প্রোটিন পাউডার এড়িয়ে চলা উচিত। আর অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদেরও প্রতিদিন এমন সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে বিকল্প উৎস বেছে নেওয়া ভালো।

ড. স্টিফেন লুবি বলেন, প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করার আগে ভোক্তাদের উচিত এর ঝুঁকি বিবেচনা করা। তিনি বলেন, প্রোটিন পাউডার খাওয়া কি উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি ডেকে আনছে? আমাদের ভাবা উচিত।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, দোকান থেকে কেনার বদলে যদি বাড়িতেই প্রোটিন পাউডার বানিয়ে নেওয়া যায়, তা হলে সেটি নিরাপদ হবে। একই ভাবে প্রোটিন শেক বানিয়ে নিন বাড়িতেই। ছাতু, মুগ, কাবলি ছোলা, সয়াবিন, কিনোয়া, নানা রকম বীজে শুধু প্রোটিনই নয়, জিঙ্ক, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকে। তাই এই সব উপাদানকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

কী ভাবে প্রোটিন পাউডার বানাতে পারেন?

ডাল, ওটস, বাদাম এবং বীজ ভাল ভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন অথবা শুকনো খোলায় নেড়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, যাতে পুড়ে না যায়। দরকার হলে আলাদা আলাদা করে ভাজুন। ঠান্ডা হলে মিক্সার গ্রাইন্ডারে মিহি গুড়া করে নিন। তারপরে ছাঁকনিতে ছেঁকে নিন। একটি বায়ুরোধক জারে ঢেলে রাখুন। ১ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শীতকাল সেলিব্রেট করার সময় এখনই
পৌষের নরম রোদ আর হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয়েছে শীতকাল। বছরের এই শেষ সময়টি কেবল অলসতা বা ঘরে বসে থাকার নয়, বরং ঘরোয়া উষ্ণতা আর নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতির এক অনন্য সুযোগ। শীতের এই দুই মাসকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তুলতে জীবনযাত্রায় আনা যেতে পারে কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সন্ধ্যায় ঘরে স্নিগ্ধ আলো ও মোমবাতি জ্বালিয়ে একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করা যায়। এছাড়া পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে উন্মুক্ত স্থানে আগুনের চারপাশে বসে সময় কাটানো সম্পর্কের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করতে ঘরে প্রাকৃতিক সুগন্ধি যেমন দারুচিনি বা এলাচি মেশানো গরম পানির ভাপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মনে এক নিরিবিলি প্রশান্তি এনে দেয়। শীতকাল মানেই উৎসবের ঋতু, তবে এই আনন্দের মাঝেও নিজের মনের শান্তি ও ঘর পরিষ্কারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অপ্রয়োজনীয় ও পুরোনো জিনিস সরিয়ে ঘর সাজালে নতুন বছরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। এছাড়া বছরের শেষ সময়ে এসে একটি ‘সালতামামি’ বা ফেলে আসা দিনগুলোর হিসাব মেলাতে পারেন। গত এক বছরে কী কী ভালো কাজ করলেন বা নতুন কী শিখলেন, তা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখা ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এই সময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস মনে প্রশান্তি আনে। আপনার জীবনের অর্জন, প্রিয় মানুষ এবং সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি তালিকা তৈরি করলে প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়। আরও পড়ুন ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা শীতের সকাল বা বিকেলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শিশিরভেজা ঘাসে হাঁটা কিংবা শীতের মিষ্ট রোদ গায়ে মাখা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। বারান্দায় শীতকালীন ফুলের বাগান করা বা মাটির তৈরি জিনিস দিয়ে ঘর সাজানো পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে। এছাড়া শরীর সচল রাখতে হালকা ইয়োগা বা ব্যায়াম নিয়মিত করা উচিত। শীতকাল মানেই পিঠাপুলির উৎসব, তাই প্রিয়জনদের নিয়ে এ ধরনের ঘরোয়া আয়োজনে অংশ নিলে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তবে সামাজিক দাওয়াতের চাপে নিজের বিশ্রামের কথা ভুলে গেলে চলবে না; প্রয়োজনবোধে কিছু অনুষ্ঠানে ‘না’ বলতে শেখাও এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রস্তুতি। নিজের যত্ন নেওয়া এবং প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমেই শীতকালকে সার্থক ভাবে সেলিব্রেট করা সম্ভব। সূত্র: রিদমস অব প্লে ও অন্যান্য আরটিভি/এএইচ
শীতকাল সেলিব্রেট করার সময় এখনই
বছরের শুরু কেন জানুয়ারি থেকে
অনেক দেশে নববর্ষ শুরু হয় ১ জানুয়ারি। যাইহোক, সবসময় এমনটা ছিল না। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে যে ক্যালেন্ডারটি ব্যবহার হয় তা হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। জানুয়ারিকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস ধরা হয়। প্রশ্ন জাগতে পারে, এতগুলো মাস থাকতে কেন জানুয়ারিকেই প্রথম মাস হিসেবে ধরা হয়? নববর্ষের শুরু এখন ১ জানুয়ারি থেকে ধরা হলেও বিষয়টি সবসময় এরকম ছিল না। এমনকি অতীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য তারিখ যেমন ২৫ মার্চ, ২৫ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন তারিখ থেকে বছরের শুরু ধরা হতো। চলুন দেখে নেওয়া যাক ১ জানুয়ারির নববর্ষের প্রথম দিন হয়ে ওঠার পেছনের ইতিহাস। জানুয়ারির উৎপত্তি মূল রোমান ক্যালেন্ডারে মোট মাস ছিল ১০টি, যেখানে দিন ছিল ৩০৪টি। শীতকালের সময়কে তারা মাসহীন সময় হিসেবে বিবেচনা করতো। রোমুলাসের উত্তরসূরি রাজা নুমা পম্পিলিয়াস প্রায় ৭১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস যোগ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। যাতে ক্যালেন্ডারটি একটি আদর্শ চন্দ্র বছর অর্থাৎ ৩৫৪ দিন পূর্ণ করে।  পুরনো রোমান ক্যালেন্ডারে মার্চকে প্রথম মাস হিসেবে ধরা হতো। ধারণা করা হয়, নুমা কিংবা মতান্তরে ডিসেমভিয়ারদের অধীনে ক্যালেন্ডারে বছরের প্রথম মাস হয়ে ওঠে জানুয়ারি। তবে কিছু সূত্র দাবি করে যে, নুমা জানুয়ারি মাস তৈরি করলেও, ১৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত ১ জানুয়ারিকে আনুষ্ঠানিকভাবে রোমান বছরের সূচনা হিসেবে ধরা হয়নি। এক্ষেত্রে মার্চকে প্রতিস্থাপিত করে জানুয়ারিকে প্রথম মাস হিসেবে ধরার পেছনে একটি উপযুক্ত যুক্তি ছিল। যেহেতু জানুয়ারির নামকরণ করা হয়েছিল রোমান দেবতা জানুসের নামানুসারে, যাকে সমস্ত কিছুর শুরুর দেবতা হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে মার্চ এসেছে তাদের যুদ্ধের দেবতা মার্স-এর নামানুসারে।  জুলিয়ান ক্যালেন্ডার রোমান শাসক হওয়ার পরপরই জুলিয়াস সিজার সিদ্ধান্ত নেন যে প্রচলিত রোমান ক্যালেন্ডারের সংস্কারের অত্যন্ত প্রয়োজন। খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর কাছাকাছি প্রবর্তিত রোমান ক্যালেন্ডারটি চন্দ্র চক্র অনুসরণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রায়শই ঋতুর সঙ্গে এর বিচ্যুতি ঘটতো। যার কারণে এটি বার বার সংশোধন করতে হতো।  তার ওপর ক্যালেন্ডারের তত্ত্বাবধানে ছিল পোন্টিফিস নামক একটি রোমান সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই রাজনৈতিক ক্ষমতার সময় বাড়ানো কিংবা নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য দিন যোগ করে কর্তৃত্বের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে।  আরও পড়ুন যে কারণে এত বেশি বাংলাদেশির জন্ম ১ জানুয়ারি যার ফলস্বরূপ ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজার রোমান ক্যালেন্ডারে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।  সিজার তার নতুন ক্যালেন্ডার নকশার সময় আলেকজান্দ্রিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসের সহায়তা নেন। তিনি সিজারকে মিশরীয়দের মতো চন্দ্র চক্র অনুসরণ সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে সৌর বছর অনুসরণের পরামর্শ দেন। তখন বছরকে মোট ৩৬৫ যোগ ১/৪ দিন হিসেবে গণনা করা হয়। তারপর সিজার ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সঙ্গে ৬৭ দিন যোগ করে তাকে ৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ করেন। তিনি সেখানে ১ জানুয়ারিকে বছরের শুরুর তারিখ হিসেবে ধরেন।  রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ব্যবহারও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে ৫ম শতাব্দীতে রোমের পতন ঘটলে। অনেক খ্রিস্টান দেশ ক্যালেন্ডারে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসে। যাতে করে ক্যালেন্ডারটি তাদের ধর্মের আরও প্রতিফলন ঘটাতে পারে। তখন ২৫ মার্চের দ্য ফিস্ট অফ দ্য অ্যানানসিয়েসনের তারিখ এবং ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিনের তারিখ নববর্ষের প্রথম দিন হয়ে ওঠে।  গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে কিছু ত্রুটি ছিল। দেখা যায় ক্যালেন্ডারটিতে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ সংক্রান্ত কিছু ভুল গণনা ছিল। যার কারণে এর কিছু পরিবর্তন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠে। কেননা কয়েক শতাব্দী ধরে এই ত্রুটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ফলে মৌসুম নির্ধারণে ভুল হওয়ার পাশাপাশি নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে থাকে।  যার ফলস্বরূপ জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন এবং প্রতিস্থাপন হিসেবে চালু করা হয় বর্তমানের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারটি। যা ১৫৮২ সালের অক্টোবরে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি দ্বারা সংশোধিত এবং প্রবর্তিত হয়। অধিবর্ষের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার আবার ১ জানুয়ারিকে নতুন বছরের শুরু হিসেবে পুনরুদ্ধার করে। ইতালি, ফ্রান্স এবং স্পেন সেই দেশগুলির মধ্যে ছিল যারা দ্রুতই এই নতুন ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে নেয়। তবে প্রোটেস্ট্যান্ট এবং অর্থোডক্স প্রধান দেশগুলো এটি বেশ দেরিতে গ্রহণ করে। গ্রেট ব্রিটেন এবং এর আমেরিকান উপনিবেশগুলো ১৭৫২ সাল পর্যন্ত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা শুরু করেনি। এর আগ পর্যন্ত তারা ২৫ মার্চকেই নববর্ষের প্রথম দিন হিসেবে উদযাপন করতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খ্রিস্টান প্রধান নয় এমন দেশও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে শুরু করে। তবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে এমন অনেক দেশে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যগত বা ধর্মীয় ক্যালেন্ডারও রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশের নিজস্ব বাংলা ক্যালেন্ডার রয়েছে। যা থেকে আমরা বাংলা নববর্ষ উদযাপন করি। এছাড়া ১৯১২ সাল থেকে চীন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করলেও তাদের নিজস্ব চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারা চীনা নববর্ষ উদযাপন অব্যাহত রেখেছে। এরকম আরও অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তবে কিছু দেশ কখনই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করেনি। তারা ১ জানুয়ারি ছাড়া অন্য তারিখেও বছর শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, ইথিওপিয়া সেপ্টেম্বর মাসে এনকুটাটাশ নামে পরিচিত নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, হিস্টোরি টিভি আরটিভি/ এমএ
বছরের শুরু কেন জানুয়ারি থেকে
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় পাঙাশ মাছ অনেকের প্রিয় হলেও এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন এতে চর্বির মাত্রা বেশি, আবার কেউ মনে করেন এতে পুষ্টিগুণ কম। তাই পাঙাশ মাছ খাওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এই বিষয়ে পুষ্টিবিদ জানান, সঠিক উৎস থেকে নেওয়া এবং নিরাপদভাবে রান্না করা হলে পাঙাশ মাছ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। পাঙাশ মাছের পুষ্টিগুণ পাঙাশ মাছের মধ্যে রয়েছে: .উচ্চমানের প্রোটিন .প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড .আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ভালো চর্বি) .ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড .ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস .এই পুষ্টিগুণগুলো শরীর গঠন, হাড় মজবুত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাঙাশ মাছের উপকারিতা হার্টের জন্য ভালো: ওমেগা-৩ ও ভালো চর্বি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। পেশি গঠনে সহায়ক: উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে ভূমিকা রাখে। হাড় ও দাঁত মজবুত: ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠন শক্তিশালী করে। গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী: ওমেগা-৩ ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় রাখে। কখন পাঙাশ মাছ ক্ষতিকর হতে পারে? মাহিনুর ফেরদৌসের মতে, অনেক পুকুরে পাঙাশ মাছ কৃত্রিম খাদ্য, ওষুধ ও কখনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এছাড়া সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন বা অন্যান্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হলে তা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণ ও অপর্যাপ্ত রান্নাও ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং পাঙাশ মাছ খাবেন কীভাবে? .নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ উৎস থেকে কিনুন। .সম্ভব হলে নদীর পাঙাশ বা প্রাকৃতিকভাবে চাষকৃত মাছ বেছে নিন। আরও পড়ুন শীতে চুলের যত্নে করণীয় .ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করুন। .খাদ্যতালিকায় মাছের বৈচিত্র্য বজায় রাখুন। .সচেতনতা অবলম্বন করলে পাঙাশ মাছ হতে পারে সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। আরটিভি/এসকে
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
দেশে এখন শীতকাল চলছে। শীতকাল মানেই প্রকৃতি শুষ্ক হয়ে ওঠা। শীতের হিমেল হাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হওয়ার পাশাপাশি চুলেও দেখা দেয় নানা সমস্যা। খুশকি, চুল পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে ফেটে যাওয়া এই সময়ের সাধারণ ঘটনা। আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চুলে সিল্কি ভাব ধরে রাখতে সহজ কিছু যত্ন ও ঘরোয়া উপায়ে শীতকালে চুল ঠিক রাখা যায়।  ​শীতে চুলের জেল্লা বজায় রাখতে কার্যকরী কিছু টিপস। শীতের রুক্ষতা থেকে চুলকে বাঁচাতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। ঘরোয়া কিছু অভ্যাস আর সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার চুলকে ঝলমলে রাখতে। শীতে চুলের যত্নে করণীয় কী জানুন-​নিয়মিত তেল মালিশ​শীতকালে মাথার ত্বক দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কুসুম গরম নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল চুলে মালিশ করুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।​অতিরিক্ত গরম পানি পরিহার​ঠাণ্ডার ভয়ে চুলে সরাসরি খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নিয়ে চুলকে আরও রুক্ষ করে দেয়। সবসময় কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস করুন। কন্ডিশনারের সঠিক ব্যবহার​শীতে চুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাই শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে খেয়াল রাখবেন, কন্ডিশনার যেন মাথার ত্বকে না লাগে; এটি শুধুমাত্র চুলের মাঝখান থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত লাগাবেন।​খুশকি থেকে মুক্তি​শীতের প্রধান শত্রু হলো খুশকি। খুশকি দূর করতে লেবুর রস বা আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। হেয়ার মাস্কের ব্যবহার​সপ্তাহে একদিন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।​প্যাক: ১টি ডিম, ১ চামচ মধু এবং টক দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।​ভেজা চুলে বাইরে না যাওয়া​ভেজা চুলে বাইরে বের হলে বাতাসে থাকা ধুলোবালি সহজেই চুলে আটকে যায় এবং চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ভেজা চুলে ঠাণ্ডা লাগার ভয়ও থাকে। তাই চুল ভালো করে শুকিয়ে তবেই বাইরে বের হন।​খাদ্যতালিকায় নজর দিন​বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, বাদাম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অ্যালোভেরা জেলশীতে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা জেল। এটি ত্বকের জ্বালা কমায় এবং মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে। যাদের অনেক বেশি খুশকি হয়, তারা অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। কেননা শীতকালে চুল সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়।  শীতকালে ত্বকের ও চুলের যত্নে কিন্তু আপনাকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে। শীতের শাকসবজি ও ফল সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজন। শিম, বরবটি, নানারকম শাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। হাতের নাগালের সব ফলই প্রতিদিন খাবেন। যেমন-আপেল, আমলকী কিংবা আমড়া সে যা-ই হোক না কেন। শীতে ত্বক-চুলের পরিচর্যা করতে এই সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরন করলেই ত্বক এবং চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখা যায়। তাই টিপসগুলো মেনে এই শীতে পান উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক ও চুল।​মনে রাখবেন: শীতকালে বারবার চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আরটিভি/এসকে
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
পুরুষদের যৌন অক্ষমতা ও করণীয়
তরুণ বয়স পেরিয়ে ৩৫ বছর পেরোলেই শরীর কিছুটা ধীরগতির হয়ে যায়। বিশেষ করে পুরুষশক্তি বা যৌনক্ষমতায় তার প্রভাব পড়ে। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কারণ সঠিক খাদ্যাভ্যাসে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার পুরুষ হরমোন ও রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে পুরুষশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি পুরুষশক্তি বাড়াতে কার্যকরী পাঁচটি খাবার এবং চল্লিশের পর পুরুষদের জন্য এক সপ্তাহের শক্তিবর্ধক খাবারের সম্পূর্ণ চার্ট। পুরুষশক্তি বাড়াতে পাঁচ শক্তিশালী খাবার: ১. খেজুর: দ্রুত শক্তি যোগায় এবং টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে। সকালে ২-৩টি খেজুর খাওয়া যথেষ্ট।২. বাদাম/আমন্ড: জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সরবরাহ করে যা হরমোন উৎপাদন বাড়ায়। প্রতিদিন ৫-৬টি আমন্ড খাওয়া ভালো।৩. ডার্ক চকলেট: হৃদপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং মুড ভালো রাখে, ফলে শরীর-মন দুটোই থাকে তরতাজা।৪. ডিম: ভিটামিন বি৫ ও বি৬ সমৃদ্ধ ডিম হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং এনার্জি বাড়ায়। প্রতিদিন ১-২টি ডিম উপযোগী।৫. স্যামন/তেলাপিয়া মাছ: ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ এই মাছ রক্তনালী ও যৌন অঙ্গের কার্যকারিতা উন্নত করে। সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন মাছ খাওয়া উচিত। পুরুষশক্তি বাড়ানোর ৭ দিনের ডায়েট চার্ট: শনিবার: সকাল: খেজুর ২-৩টি + লেবুর পানি, দুপুর: ভাত + তেলাপিয়া মাছ + সবজি, রাত: ডিম ভুনা + আমন্ড রবিবার: সকাল: ওটস + বাদাম, দুপুর: স্যামন/তেলাপিয়া + সালাদ, রাত: ডার্ক চকলেট + রুটি + সবজি সোমবার: সকাল: খেজুর + ১ ডিম, দুপুর: ভাত + মাছ + কাঁচা সবজি, রাত: চিকেন স্যুপ + আমন্ড মঙ্গলবার: সকাল: কলা + বাদাম, দুপুর: স্যামন/তেলাপিয়া + সালাদ, রাত: ডিম পোচ + ডার্ক চকলেট বুধবার: সকাল: ওটস + খেজুর + গ্রিন টি, দুপুর: ভাত + মাছ + সবজি, রাত: ডিম/চিকেন ঝোল + আমন্ড বৃহস্পতিবার: সকাল: ১-২ ডিম + খেজুর, দুপুর: তেলাপিয়া + শাক, রাত: ডার্ক চকলেট + ফল শুক্রবার: সকাল: বাদাম + খেজুর + লেবুর পানি, দুপুর: পোলাও + মাছ/চিকেন + সালাদ, রাত: খিচুড়ি + ডিম + আমন্ড শক্তি ধরে রাখার অতিরিক্ত টিপস: .প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন। .সপ্তাহে কমপক্ষে ৪ দিন ৩০-৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। .ধূমপান এবং অতিরিক্ত চা-কফি কমান। .পর্যাপ্ত ঘুম নিন (৬-৭ ঘণ্টা)। .স্ট্রেস কমাতে ব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। আরও পড়ুন জাপানিরা খাওয়ার সময় পেটের ২০ শতাংশ খালি রাখে কেন চল্লিশ পেরিয়ে পুরুষশক্তি কমে না, কমে যায় যত্ন। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই শরীর হবে পুনরায় প্রাণবন্ত, শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী। আপনার শরীরের যত্ন নিন, শক্তি ফিরে পাবেন সহজেই। আরটিভি/এসকে
পুরুষদের যৌন অক্ষমতা ও করণীয়
আরও পড়ুন
ফের বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন
স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করতে প্রতিবেশিকে ভাড়া করেন স্বামী, অতঃপর... 
অন্তঃসত্ত্বা সেই নারীকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করল বিজিবি
এনসিপির পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা নারী সদস্যের মামলা