ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জেনে নিন কালোজিরা খাওয়ার ৩৭টি  উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসায় কালোজিরার ব্যবহার বহু পুরনো। ‘নাইজেলা সাটিভা’ (Nigella Sativa) নামের এই ছোট কালো বীজটি শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, শরীর ও ত্বকের জন্যও উপকারে ভরপুর। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিধন থেকে শুরু করে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি প্রায় ৩৭টি ক্ষেত্রে কালোজিরার উপকারিতা প্রমাণিত।

শরীরের জন্য কালোজিরার উপকারিতা:

.স্মরণশক্তি বৃদ্ধি: পুদিনা বা কমলার রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, দুশ্চিন্তা কমায়।

.মাথাব্যথা ও সর্দি-কাশি: মাথায় তেল মালিশ ও মধুসহ সেবনে দ্রুত আরাম মেলে।

.বাত ও চর্মরোগ: হলুদের রসের সঙ্গে কালোজিরা তেল ব্যবহার কার্যকর।

.হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ: নিয়মিত সেবনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদযন্ত্র শক্তিশালী হয়।

.ডায়াবেটিস: খালি পেটে এক চিমটি কালোজিরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

.শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি: দুধ বা রং চায়ের সঙ্গে কালোজিরা তেল মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

.যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি: নিয়মিত সেবনে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে।

.লিভার ও কিডনির সুরক্ষা: কালোজিরা লিভারের বিষক্রিয়া নাশ করে এবং কিডনির পাথর প্রতিরোধে সহায়ক।

.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: প্রতিদিন এক চামচ মধুর সঙ্গে কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে।

.অর্শ রোগ নিরাময়ে: এক চা-চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তেল চুরন/তিলের তেল, এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সহ প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ সেবন করা।

.জৈব শক্তি বৃদ্ধির জন্য: কালোজিরা নারী- পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত আছে যে, কালিজিরা যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। একচা-চামচ মাখন, এক চা-চামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরার তেল ও মধুসহ দৈনিক ৩বার ৪/৫ সপ্তাহ সেবন করুন। তবে পুরানো কালোজিরা তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

.অনিয়মিত মাসিক/স্রাব রোগের ক্ষেত্রে: এক কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে নিয়মিত সেবন করুন। যা শতভাগ কার্যকরী ।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে: ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা অত্যাবশ্যকীয়। এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর করে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

.মধু ও কালোজিরার পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে আধাঘন্টা বা একঘন্টা রাখে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে। যদি আপনার ব্রণের সমস্যা থাকে তাহলে আপেল সাইডার ভিনেগারের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। নিয়মিত লাগালে ব্রণ দূর হবে।

.শুষ্ক ত্বকের জন্য কালোজিরার গুঁড়া ও কালোজিরার তেলের সাথে তিলের তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখতে পাবেন।দুগ্ধ দানকারি মা’দের দুধ বৃদ্ধির জন্য : যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালোজিরা। মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালোজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে খেতে থাকুন। মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালোজিরা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন। এছাড়া একচা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেবন করুন। যা শতভাগ কার্যকরী।

.গ্যাষ্ট্রীক বা আমাশয় নিরাময়ে: এক চা-চামচ তেলসমপরিমাণ মধু সহ দিনে ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ সেবন করুন।

.জন্ডিস বা লিভারের বিভিন্ন সমস্যার দুর করতে: একগ্লাস ত্রিপলার শরবতের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল দিনে ৩বার করে ৪/৫ সপ্তাহ সেবন করুন।

.পিঠেব্যাথা দুর করার জন্য: কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

.শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করতে: দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে কালোজিরা। দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়। তবে বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে।

.স্বাস্থ্য ভাল রাখতে: মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

.হজমের সমস্যা: হজমের সমস্যায় এক-দুই চা-চামচ কালোজিরা বেটে পানির সঙ্গে খেতে থাকুন। এভাবে প্রতিদিন দু-তিনবার খেলে এক মাসের মধ্যে হজমশক্তি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি পেট ফাঁপাভাবও দূর হবে।

.লিভার সুরক্ষায়: লিভারের সুরক্ষায় কালোজিরার ভেষজটি অনন্য। লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী আফলাটক্সিন নামক বিষ ধ্বংস করে ।

.চুল পড়া বন্ধ করতে: কালোজিরার খেয়ে যান, চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হবে। আরো ফল পেতে চুলের গোড়ায় এর তেল মালিশ করতে থাকুন।

.দেহের উন্নতি: নিয়মিত কালোজিরা সেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সতেজ করে ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। এছাড়া অরুচি, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস, জ্বর, শরীর ব্যথা, গলা ও দাতে ব্যথা, পুরাতন মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, খোসপঁচড়া, শ্বেতি, দাদ, একজিমা, সর্দি, কাশি, হাঁপানিতেও কালোজিরা অব্যর্থ ঔষধ হিসেবে কাজ করে।এটি মূত্র বর্ধক ও উচ্চরক্তচাপ হ্রাসকারক,গ্যাসট্রিক, আলসার প্রতিরোধক, ভাইরাস প্রতিরোধক, টিউমার এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক, ব্যাকটেরিয়া এবং কৃমিনাষক, রক্তের রক্ষাকারক, যকৃতের বিষক্রিয়ানাষক, এলার্জি প্রতিরোধক, বাতব্যথা নাশক। অরুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালোজিরা সহায়তা করে। ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কালোজিরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী।

.জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দুর করার জন্য কালোজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায় এবং দেহের কাটা-ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে। এছাড়া শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না। তিলের তেলের সঙ্গে কালোজিরা বাঁটা বা কালোজিরার তেল মিশিয়ে ফোড়াতে লাগালে ফোড়ার উপশম হয়।

.দাঁত ব্যথা নিরাময়ে: দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালোজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে।

.ঘুমের প্রয়োজনে: তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপূর্ণ নিদ্রা হয়।

.রোগ প্রতিরোধ করতে: কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোন জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে। ১ চামচ কালোজিরা অথবা কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল ও ১ চামচ মধুসহ প্রতিদিন সেবন করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

.পারকিনসন্স রোগের প্রতিকারে: কালোজিরায় থাইমোকুইনিন থাকে যা পারকিনসন্স ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের দেহে উৎপন্ন টক্সিনের প্রভাব থেকে নিউরনের সুরক্ষায় কাজ করে।

.চুল বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে: কালোজিরার তেল চুলের কোষ ও ফলিকলকে চাঙ্গা করে ও শক্তিশালী করে যার ফলে নতুন চুল সৃষ্টি হয়। এছাড়াও কালোজিরার তেল চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুল পড়া কমায়।

.কিডনির পাথর: ২৫০ গ্রাম কালোজিরা ও সমপরিমাণ বিশুদ্ধ মধুর সাথে কালোজিরা উত্তমরূপে গুঁড়ো করে মধুর সাথে মিশ্রিত করে দুই চামচ মিশ্রণ আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন আধাকাপ তেল সহ পান করতে হবে। কালোজিরার টীংচার মধুসহ দিনে ৩/৪ বার ১৫ ফোটা সেবন করতে পারেন।

.চোখের ব্যথা দুর করতে: রাতে ঘুমোবার আগে চোখের উভয়পাশে ও ভুরুতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন এবং এককাপ গাজরের রসের সাথে একমাস কালোজিরা তেল সেবন করুন। নিয়মিত গাজর খেয়ে ও কালোজিরা টীংচার সেবন আর তেল মালিশে উপকার হবে। প্রয়োজনে নির্দেশিত হোমিও ও বায়োকেমিক ওষুধ সেবন।

. উচ্চ রক্তচাপ: যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কালোজিরা কোন না কোন ভাবে সাথে খাবেন। গরম খাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরা ভর্তা খান। এ উভয়পদ্ধতির সাথে রসুনের তেল সাথে নেন। সারা দেহে রসুন ও কালোজিরা তেল মালিশ করুন। কালোজিরা, নিম ও রসুনের তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। ভালো মনে করলে পুরাতন রোগীদের ক্ষেত্রে একাজটি ২/৩ দিন অন্তরও করা যায়।

.জ্বর: সকাল-সন্ধ্যায় লেবুর রসের সাথে ১ চামচ কালোজিরা তেল পান করুন আর কালোজিরার নস্যি গ্রহন করুন। কালোজিরা ও লেবুর টীংচার (অ্যাসেটিকঅ্যাসিড) সংমিশ্রন করে দেয়া যেতে পারে।

.স্নায়ুবিক উত্তেজনা: কফির সাথে কালোজিরা সেবনে দূরীভূত হয়।

. উরুসদ্ধি প্রদাহ: স্থানটি ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিয়ে ৩ দিন সন্ধ্যায় আক্রান্ত স্থানে কালোজিরা তেল লাগান এবং পর দিন সকালে ধুয়ে নিন।

.আঁচিল: হেলেঞ্চা দিয়ে ঘষে কালোজিরা তেল লাগান। হেলেঞ্চা মুল আরক মিশিয়ে নিলেও হবে। সাথে খেতে দিন হোমিও ওষুধ

সকাল রোগের প্রতিষেধক: মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

সতর্কতা: গর্ভবতী নারী ও দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা কালোজিরার তেল খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। তবে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালোজিরাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা চলে। নিয়মিত পরিমাণ মতো সেবন শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত বা পুরনো কালোজিরার তেল ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শীতকাল সেলিব্রেট করার সময় এখনই
পৌষের নরম রোদ আর হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয়েছে শীতকাল। বছরের এই শেষ সময়টি কেবল অলসতা বা ঘরে বসে থাকার নয়, বরং ঘরোয়া উষ্ণতা আর নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতির এক অনন্য সুযোগ। শীতের এই দুই মাসকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তুলতে জীবনযাত্রায় আনা যেতে পারে কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সন্ধ্যায় ঘরে স্নিগ্ধ আলো ও মোমবাতি জ্বালিয়ে একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করা যায়। এছাড়া পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে উন্মুক্ত স্থানে আগুনের চারপাশে বসে সময় কাটানো সম্পর্কের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করতে ঘরে প্রাকৃতিক সুগন্ধি যেমন দারুচিনি বা এলাচি মেশানো গরম পানির ভাপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মনে এক নিরিবিলি প্রশান্তি এনে দেয়। শীতকাল মানেই উৎসবের ঋতু, তবে এই আনন্দের মাঝেও নিজের মনের শান্তি ও ঘর পরিষ্কারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অপ্রয়োজনীয় ও পুরোনো জিনিস সরিয়ে ঘর সাজালে নতুন বছরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। এছাড়া বছরের শেষ সময়ে এসে একটি ‘সালতামামি’ বা ফেলে আসা দিনগুলোর হিসাব মেলাতে পারেন। গত এক বছরে কী কী ভালো কাজ করলেন বা নতুন কী শিখলেন, তা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখা ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এই সময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস মনে প্রশান্তি আনে। আপনার জীবনের অর্জন, প্রিয় মানুষ এবং সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি তালিকা তৈরি করলে প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়। আরও পড়ুন ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা শীতের সকাল বা বিকেলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শিশিরভেজা ঘাসে হাঁটা কিংবা শীতের মিষ্ট রোদ গায়ে মাখা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। বারান্দায় শীতকালীন ফুলের বাগান করা বা মাটির তৈরি জিনিস দিয়ে ঘর সাজানো পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে। এছাড়া শরীর সচল রাখতে হালকা ইয়োগা বা ব্যায়াম নিয়মিত করা উচিত। শীতকাল মানেই পিঠাপুলির উৎসব, তাই প্রিয়জনদের নিয়ে এ ধরনের ঘরোয়া আয়োজনে অংশ নিলে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তবে সামাজিক দাওয়াতের চাপে নিজের বিশ্রামের কথা ভুলে গেলে চলবে না; প্রয়োজনবোধে কিছু অনুষ্ঠানে ‘না’ বলতে শেখাও এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রস্তুতি। নিজের যত্ন নেওয়া এবং প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমেই শীতকালকে সার্থক ভাবে সেলিব্রেট করা সম্ভব। সূত্র: রিদমস অব প্লে ও অন্যান্য আরটিভি/এএইচ
শীতকাল সেলিব্রেট করার সময় এখনই
বছরের শুরু কেন জানুয়ারি থেকে
অনেক দেশে নববর্ষ শুরু হয় ১ জানুয়ারি। যাইহোক, সবসময় এমনটা ছিল না। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে যে ক্যালেন্ডারটি ব্যবহার হয় তা হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। জানুয়ারিকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস ধরা হয়। প্রশ্ন জাগতে পারে, এতগুলো মাস থাকতে কেন জানুয়ারিকেই প্রথম মাস হিসেবে ধরা হয়? নববর্ষের শুরু এখন ১ জানুয়ারি থেকে ধরা হলেও বিষয়টি সবসময় এরকম ছিল না। এমনকি অতীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য তারিখ যেমন ২৫ মার্চ, ২৫ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন তারিখ থেকে বছরের শুরু ধরা হতো। চলুন দেখে নেওয়া যাক ১ জানুয়ারির নববর্ষের প্রথম দিন হয়ে ওঠার পেছনের ইতিহাস। জানুয়ারির উৎপত্তি মূল রোমান ক্যালেন্ডারে মোট মাস ছিল ১০টি, যেখানে দিন ছিল ৩০৪টি। শীতকালের সময়কে তারা মাসহীন সময় হিসেবে বিবেচনা করতো। রোমুলাসের উত্তরসূরি রাজা নুমা পম্পিলিয়াস প্রায় ৭১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস যোগ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। যাতে ক্যালেন্ডারটি একটি আদর্শ চন্দ্র বছর অর্থাৎ ৩৫৪ দিন পূর্ণ করে।  পুরনো রোমান ক্যালেন্ডারে মার্চকে প্রথম মাস হিসেবে ধরা হতো। ধারণা করা হয়, নুমা কিংবা মতান্তরে ডিসেমভিয়ারদের অধীনে ক্যালেন্ডারে বছরের প্রথম মাস হয়ে ওঠে জানুয়ারি। তবে কিছু সূত্র দাবি করে যে, নুমা জানুয়ারি মাস তৈরি করলেও, ১৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত ১ জানুয়ারিকে আনুষ্ঠানিকভাবে রোমান বছরের সূচনা হিসেবে ধরা হয়নি। এক্ষেত্রে মার্চকে প্রতিস্থাপিত করে জানুয়ারিকে প্রথম মাস হিসেবে ধরার পেছনে একটি উপযুক্ত যুক্তি ছিল। যেহেতু জানুয়ারির নামকরণ করা হয়েছিল রোমান দেবতা জানুসের নামানুসারে, যাকে সমস্ত কিছুর শুরুর দেবতা হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে মার্চ এসেছে তাদের যুদ্ধের দেবতা মার্স-এর নামানুসারে।  জুলিয়ান ক্যালেন্ডার রোমান শাসক হওয়ার পরপরই জুলিয়াস সিজার সিদ্ধান্ত নেন যে প্রচলিত রোমান ক্যালেন্ডারের সংস্কারের অত্যন্ত প্রয়োজন। খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর কাছাকাছি প্রবর্তিত রোমান ক্যালেন্ডারটি চন্দ্র চক্র অনুসরণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রায়শই ঋতুর সঙ্গে এর বিচ্যুতি ঘটতো। যার কারণে এটি বার বার সংশোধন করতে হতো।  তার ওপর ক্যালেন্ডারের তত্ত্বাবধানে ছিল পোন্টিফিস নামক একটি রোমান সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই রাজনৈতিক ক্ষমতার সময় বাড়ানো কিংবা নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য দিন যোগ করে কর্তৃত্বের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে।  আরও পড়ুন যে কারণে এত বেশি বাংলাদেশির জন্ম ১ জানুয়ারি যার ফলস্বরূপ ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজার রোমান ক্যালেন্ডারে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।  সিজার তার নতুন ক্যালেন্ডার নকশার সময় আলেকজান্দ্রিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসের সহায়তা নেন। তিনি সিজারকে মিশরীয়দের মতো চন্দ্র চক্র অনুসরণ সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে সৌর বছর অনুসরণের পরামর্শ দেন। তখন বছরকে মোট ৩৬৫ যোগ ১/৪ দিন হিসেবে গণনা করা হয়। তারপর সিজার ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সঙ্গে ৬৭ দিন যোগ করে তাকে ৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ করেন। তিনি সেখানে ১ জানুয়ারিকে বছরের শুরুর তারিখ হিসেবে ধরেন।  রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ব্যবহারও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে ৫ম শতাব্দীতে রোমের পতন ঘটলে। অনেক খ্রিস্টান দেশ ক্যালেন্ডারে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসে। যাতে করে ক্যালেন্ডারটি তাদের ধর্মের আরও প্রতিফলন ঘটাতে পারে। তখন ২৫ মার্চের দ্য ফিস্ট অফ দ্য অ্যানানসিয়েসনের তারিখ এবং ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিনের তারিখ নববর্ষের প্রথম দিন হয়ে ওঠে।  গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে কিছু ত্রুটি ছিল। দেখা যায় ক্যালেন্ডারটিতে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ সংক্রান্ত কিছু ভুল গণনা ছিল। যার কারণে এর কিছু পরিবর্তন অত্যাবশ্যক হয়ে উঠে। কেননা কয়েক শতাব্দী ধরে এই ত্রুটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ফলে মৌসুম নির্ধারণে ভুল হওয়ার পাশাপাশি নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে থাকে।  যার ফলস্বরূপ জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন এবং প্রতিস্থাপন হিসেবে চালু করা হয় বর্তমানের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারটি। যা ১৫৮২ সালের অক্টোবরে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি দ্বারা সংশোধিত এবং প্রবর্তিত হয়। অধিবর্ষের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার আবার ১ জানুয়ারিকে নতুন বছরের শুরু হিসেবে পুনরুদ্ধার করে। ইতালি, ফ্রান্স এবং স্পেন সেই দেশগুলির মধ্যে ছিল যারা দ্রুতই এই নতুন ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে নেয়। তবে প্রোটেস্ট্যান্ট এবং অর্থোডক্স প্রধান দেশগুলো এটি বেশ দেরিতে গ্রহণ করে। গ্রেট ব্রিটেন এবং এর আমেরিকান উপনিবেশগুলো ১৭৫২ সাল পর্যন্ত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা শুরু করেনি। এর আগ পর্যন্ত তারা ২৫ মার্চকেই নববর্ষের প্রথম দিন হিসেবে উদযাপন করতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খ্রিস্টান প্রধান নয় এমন দেশও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে শুরু করে। তবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে এমন অনেক দেশে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যগত বা ধর্মীয় ক্যালেন্ডারও রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশের নিজস্ব বাংলা ক্যালেন্ডার রয়েছে। যা থেকে আমরা বাংলা নববর্ষ উদযাপন করি। এছাড়া ১৯১২ সাল থেকে চীন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করলেও তাদের নিজস্ব চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারা চীনা নববর্ষ উদযাপন অব্যাহত রেখেছে। এরকম আরও অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তবে কিছু দেশ কখনই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করেনি। তারা ১ জানুয়ারি ছাড়া অন্য তারিখেও বছর শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, ইথিওপিয়া সেপ্টেম্বর মাসে এনকুটাটাশ নামে পরিচিত নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, হিস্টোরি টিভি আরটিভি/ এমএ
বছরের শুরু কেন জানুয়ারি থেকে
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় পাঙাশ মাছ অনেকের প্রিয় হলেও এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন এতে চর্বির মাত্রা বেশি, আবার কেউ মনে করেন এতে পুষ্টিগুণ কম। তাই পাঙাশ মাছ খাওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এই বিষয়ে পুষ্টিবিদ জানান, সঠিক উৎস থেকে নেওয়া এবং নিরাপদভাবে রান্না করা হলে পাঙাশ মাছ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। পাঙাশ মাছের পুষ্টিগুণ পাঙাশ মাছের মধ্যে রয়েছে: .উচ্চমানের প্রোটিন .প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড .আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ভালো চর্বি) .ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড .ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস .এই পুষ্টিগুণগুলো শরীর গঠন, হাড় মজবুত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাঙাশ মাছের উপকারিতা হার্টের জন্য ভালো: ওমেগা-৩ ও ভালো চর্বি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। পেশি গঠনে সহায়ক: উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে ভূমিকা রাখে। হাড় ও দাঁত মজবুত: ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠন শক্তিশালী করে। গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী: ওমেগা-৩ ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় রাখে। কখন পাঙাশ মাছ ক্ষতিকর হতে পারে? মাহিনুর ফেরদৌসের মতে, অনেক পুকুরে পাঙাশ মাছ কৃত্রিম খাদ্য, ওষুধ ও কখনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এছাড়া সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন বা অন্যান্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হলে তা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণ ও অপর্যাপ্ত রান্নাও ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং পাঙাশ মাছ খাবেন কীভাবে? .নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ উৎস থেকে কিনুন। .সম্ভব হলে নদীর পাঙাশ বা প্রাকৃতিকভাবে চাষকৃত মাছ বেছে নিন। আরও পড়ুন শীতে চুলের যত্নে করণীয় .ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করুন। .খাদ্যতালিকায় মাছের বৈচিত্র্য বজায় রাখুন। .সচেতনতা অবলম্বন করলে পাঙাশ মাছ হতে পারে সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। আরটিভি/এসকে
পাঙাশ মাছ, শরীরের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর?
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
দেশে এখন শীতকাল চলছে। শীতকাল মানেই প্রকৃতি শুষ্ক হয়ে ওঠা। শীতের হিমেল হাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হওয়ার পাশাপাশি চুলেও দেখা দেয় নানা সমস্যা। খুশকি, চুল পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে ফেটে যাওয়া এই সময়ের সাধারণ ঘটনা। আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চুলে সিল্কি ভাব ধরে রাখতে সহজ কিছু যত্ন ও ঘরোয়া উপায়ে শীতকালে চুল ঠিক রাখা যায়।  ​শীতে চুলের জেল্লা বজায় রাখতে কার্যকরী কিছু টিপস। শীতের রুক্ষতা থেকে চুলকে বাঁচাতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। ঘরোয়া কিছু অভ্যাস আর সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার চুলকে ঝলমলে রাখতে। শীতে চুলের যত্নে করণীয় কী জানুন-​নিয়মিত তেল মালিশ​শীতকালে মাথার ত্বক দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কুসুম গরম নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল চুলে মালিশ করুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।​অতিরিক্ত গরম পানি পরিহার​ঠাণ্ডার ভয়ে চুলে সরাসরি খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নিয়ে চুলকে আরও রুক্ষ করে দেয়। সবসময় কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস করুন। কন্ডিশনারের সঠিক ব্যবহার​শীতে চুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাই শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে খেয়াল রাখবেন, কন্ডিশনার যেন মাথার ত্বকে না লাগে; এটি শুধুমাত্র চুলের মাঝখান থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত লাগাবেন।​খুশকি থেকে মুক্তি​শীতের প্রধান শত্রু হলো খুশকি। খুশকি দূর করতে লেবুর রস বা আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। হেয়ার মাস্কের ব্যবহার​সপ্তাহে একদিন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।​প্যাক: ১টি ডিম, ১ চামচ মধু এবং টক দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।​ভেজা চুলে বাইরে না যাওয়া​ভেজা চুলে বাইরে বের হলে বাতাসে থাকা ধুলোবালি সহজেই চুলে আটকে যায় এবং চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ভেজা চুলে ঠাণ্ডা লাগার ভয়ও থাকে। তাই চুল ভালো করে শুকিয়ে তবেই বাইরে বের হন।​খাদ্যতালিকায় নজর দিন​বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, বাদাম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অ্যালোভেরা জেলশীতে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা জেল। এটি ত্বকের জ্বালা কমায় এবং মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে। যাদের অনেক বেশি খুশকি হয়, তারা অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। কেননা শীতকালে চুল সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়।  শীতকালে ত্বকের ও চুলের যত্নে কিন্তু আপনাকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে। শীতের শাকসবজি ও ফল সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজন। শিম, বরবটি, নানারকম শাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। হাতের নাগালের সব ফলই প্রতিদিন খাবেন। যেমন-আপেল, আমলকী কিংবা আমড়া সে যা-ই হোক না কেন। শীতে ত্বক-চুলের পরিচর্যা করতে এই সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরন করলেই ত্বক এবং চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখা যায়। তাই টিপসগুলো মেনে এই শীতে পান উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক ও চুল।​মনে রাখবেন: শীতকালে বারবার চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আরটিভি/এসকে
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
পুরুষদের যৌন অক্ষমতা ও করণীয়
তরুণ বয়স পেরিয়ে ৩৫ বছর পেরোলেই শরীর কিছুটা ধীরগতির হয়ে যায়। বিশেষ করে পুরুষশক্তি বা যৌনক্ষমতায় তার প্রভাব পড়ে। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কারণ সঠিক খাদ্যাভ্যাসে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার পুরুষ হরমোন ও রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে পুরুষশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। আজ আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি পুরুষশক্তি বাড়াতে কার্যকরী পাঁচটি খাবার এবং চল্লিশের পর পুরুষদের জন্য এক সপ্তাহের শক্তিবর্ধক খাবারের সম্পূর্ণ চার্ট। পুরুষশক্তি বাড়াতে পাঁচ শক্তিশালী খাবার: ১. খেজুর: দ্রুত শক্তি যোগায় এবং টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে। সকালে ২-৩টি খেজুর খাওয়া যথেষ্ট।২. বাদাম/আমন্ড: জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সরবরাহ করে যা হরমোন উৎপাদন বাড়ায়। প্রতিদিন ৫-৬টি আমন্ড খাওয়া ভালো।৩. ডার্ক চকলেট: হৃদপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং মুড ভালো রাখে, ফলে শরীর-মন দুটোই থাকে তরতাজা।৪. ডিম: ভিটামিন বি৫ ও বি৬ সমৃদ্ধ ডিম হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং এনার্জি বাড়ায়। প্রতিদিন ১-২টি ডিম উপযোগী।৫. স্যামন/তেলাপিয়া মাছ: ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ এই মাছ রক্তনালী ও যৌন অঙ্গের কার্যকারিতা উন্নত করে। সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন মাছ খাওয়া উচিত। পুরুষশক্তি বাড়ানোর ৭ দিনের ডায়েট চার্ট: শনিবার: সকাল: খেজুর ২-৩টি + লেবুর পানি, দুপুর: ভাত + তেলাপিয়া মাছ + সবজি, রাত: ডিম ভুনা + আমন্ড রবিবার: সকাল: ওটস + বাদাম, দুপুর: স্যামন/তেলাপিয়া + সালাদ, রাত: ডার্ক চকলেট + রুটি + সবজি সোমবার: সকাল: খেজুর + ১ ডিম, দুপুর: ভাত + মাছ + কাঁচা সবজি, রাত: চিকেন স্যুপ + আমন্ড মঙ্গলবার: সকাল: কলা + বাদাম, দুপুর: স্যামন/তেলাপিয়া + সালাদ, রাত: ডিম পোচ + ডার্ক চকলেট বুধবার: সকাল: ওটস + খেজুর + গ্রিন টি, দুপুর: ভাত + মাছ + সবজি, রাত: ডিম/চিকেন ঝোল + আমন্ড বৃহস্পতিবার: সকাল: ১-২ ডিম + খেজুর, দুপুর: তেলাপিয়া + শাক, রাত: ডার্ক চকলেট + ফল শুক্রবার: সকাল: বাদাম + খেজুর + লেবুর পানি, দুপুর: পোলাও + মাছ/চিকেন + সালাদ, রাত: খিচুড়ি + ডিম + আমন্ড শক্তি ধরে রাখার অতিরিক্ত টিপস: .প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন। .সপ্তাহে কমপক্ষে ৪ দিন ৩০-৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। .ধূমপান এবং অতিরিক্ত চা-কফি কমান। .পর্যাপ্ত ঘুম নিন (৬-৭ ঘণ্টা)। .স্ট্রেস কমাতে ব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। আরও পড়ুন জাপানিরা খাওয়ার সময় পেটের ২০ শতাংশ খালি রাখে কেন চল্লিশ পেরিয়ে পুরুষশক্তি কমে না, কমে যায় যত্ন। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই শরীর হবে পুনরায় প্রাণবন্ত, শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী। আপনার শরীরের যত্ন নিন, শক্তি ফিরে পাবেন সহজেই। আরটিভি/এসকে
পুরুষদের যৌন অক্ষমতা ও করণীয়
আরও পড়ুন
ঢাকা ক্যাপিটালস কোচ জাকিরের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন
শেষ গোসলের জন্য ফের হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হাদির মরদেহ  
স্বর্ণলতার আশ্চর্যজনক ভেষজ উপকারিতা
শীতে খেজুর খাওয়ার ছয় উপকারিতা