
শিং মাছ খেলে শরীরে রক্ত বাড়ে বাংলাদেশে এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের অনেক সময় শিং মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শিং মাছ পুষ্টিকর হলেও শুধু এই মাছ খেলেই রক্তস্বল্পতা দূর হয়ে যায় এমনটা বলা ঠিক নয়।
রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো লোহিত রক্তকণিকা। এগুলো তৈরি ও স্বাভাবিক রাখতে শরীরের প্রয়োজন আয়রন, ভিটামিন বি১২, ফলেটসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। এর মধ্যে ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিং মাছসহ ক্যাটফিশজাতীয় মাছে ভিটামিন বি১২, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। তাই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে শিং মাছ শরীরের প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি ‘রক্ত বাড়ানোর ওষুধ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিন বি১২ বা ফলেটের ঘাটতি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এর অন্যতম কারণ।
ফলে কারও হিমোগ্লোবিন কম থাকলে শুধু শিং মাছ খাওয়ার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। রক্তস্বল্পতার কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে আয়রনের ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়ার ক্ষেত্রে শুধু শিং মাছ খেলে সমস্যার সমাধান হবে না।
ক্যাটফিশে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, থায়ামিন ও পটাশিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। প্রোটিন শরীরের কোষ ও টিস্যু তৈরি এবং মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন বি১২ শুধু লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে নয়, স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং কোষের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।
তবে কারও শরীরে বি১২-এর ঘাটতি থাকলে শুধু খাবারের মাধ্যমে তা পূরণ করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
শিং মাছের মতো ক্যাটফিশে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে। তবে চর্বিযুক্ত মাছ যেমন স্যামন, সার্ডিন বা ম্যাকেরেলের তুলনায় ক্যাটফিশে ওমেগা-৩-এর পরিমাণ কম।
মাছের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি রান্নার পদ্ধতিও বিবেচনায় রাখা দরকার। অতিরিক্ত তেলে ভাজলে মাছের সঙ্গে খাবারে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।
তাই কম তেলে ঝোল, ভাপা বা গ্রিলের মতো তুলনামূলক হালকা পদ্ধতিতে শিং মাছ রান্না করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত তেল ও ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি কমে।
শিং মাছ খেলে শরীর রক্ত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পায় এ কথা ঠিক। বিশেষ করে এতে থাকা ভিটামিন বি১২ ও প্রোটিন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিং মাছ খেলেই সরাসরি রক্ত বেড়ে যাবে বা রক্তস্বল্পতা সেরে যাবে এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
তাই শিং মাছকে ‘রক্ত বাড়ানোর ওষুধ’ না ভেবে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মাছ, ডিম, মাংস, ডাল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
আরটিভি/এসকে

