ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

আজ ইতিবাচক চিন্তা দিবস, বদলে ফেলুন মনের ভাবনা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে এবং জীবনের প্রতি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ইতিবাচক চিন্তা দিবস (Positive Thinking Day)। জীবনের নানা চাপ, দুশ্চিন্তা ও ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তা ভর করে মনে। এতে মানসিক চাপ বাড়ে, মন খারাপ হতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ে। তাই এই দিনটি হতে পারে নেতিবাচক ভাবনা থেকে কিছুটা দূরে সরে ইতিবাচকভাবে জীবনকে দেখার অভ্যাস গড়ে তোলার উপলক্ষ।

ইতিবাচক চিন্তা মানে জীবনের সমস্যাগুলো অস্বীকার করা নয়। বরং কঠিন পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে তার ভালো দিক খুঁজে দেখা, সমস্যার সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকার চেষ্টা করাই এর মূল কথা।

ইতিবাচক চিন্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে, বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়া এবং দীর্ঘায়ুর সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

তবে সব সময় জোর করে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করাও ঠিক নয়। কঠিন পরিস্থিতি বা নেতিবাচক অনুভূতিকে স্বীকার করে বাস্তবসম্মতভাবে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়াই বেশি কার্যকর।

ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

১. নেতিবাচক ভাবনার কারণ খুঁজুন

কোন পরিস্থিতিতে আপনার মনে নেতিবাচক চিন্তা বেশি আসে, তা খেয়াল করুন। কারণগুলো বুঝতে পারলে ধীরে ধীরে সেই ভাবনার ধরন বদলানো সহজ হবে।

২. নেতিবাচক ভাবনার বিপরীতে ভালো কিছু খুঁজুন

কোনো পরিস্থিতিতে খারাপ দিক চোখে পড়লে তার পাশাপাশি অন্তত একটি ভালো দিক খুঁজে দেখুন। নিয়মিত চর্চা করলে ধীরে ধীরে ইতিবাচকভাবে ভাবার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

৩. প্রতিদিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন

আপনার জীবনে যা আছে, সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন কয়েকটি ছোট বিষয় মনে করুন, যেগুলো আপনাকে আনন্দ দেয় বা যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ।

৪. নেতিবাচক পরিবেশ এড়িয়ে চলুন

সব সময় হতাশা ও অভিযোগ করেন—এমন মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটালে নিজের মনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইতিবাচক মনোভাবের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

৫. কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন

নিরিবিলি বসে গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান করা কিংবা কিছুক্ষণ মনকে শান্ত রাখার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিজের সঙ্গে সদয় আচরণ করাও জরুরি।

৬. সমস্যার বদলে সমাধানে মন দিন

কোনো সমস্যা নিয়ে বারবার ভাবার বদলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন। এতে নেতিবাচক অনুভূতি সামলানো সহজ হতে পারে।

৭. ছোট সাফল্যও উদযাপন করুন

বড় অর্জনের অপেক্ষা না করে ছোট ছোট সাফল্যকেও গুরুত্ব দিন। নিজের অগ্রগতি স্বীকার করলে আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

মন খারাপ হলে কী করবেন?

মন খারাপ থাকলে একা সবকিছু সামলানোর চেষ্টা না করে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। হাসির কোনো অনুষ্ঠান দেখা, পছন্দের বই পড়া, গান শোনা কিংবা নাচের মতো আনন্দদায়ক কাজে সময় কাটানোও মন ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।

হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চাও মেজাজ ভালো করতে এবং ইতিবাচক চিন্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। নিজের জন্য কিছু করা কিংবা অন্য কারও উপকার করাও আনন্দ ও আশাবাদ বাড়াতে পারে।

কঠিন সময়েও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা

জীবনে সব সময় ভালো সময় থাকবে না। ব্যর্থতা, হতাশা কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি আসতেই পারে। এমন সময়ে শুধু সমস্যার দিকে তাকিয়ে না থেকে পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো ইতিবাচক দিক আছে কি না, তা খুঁজে দেখা যেতে পারে।

প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো বিষয় মনে করা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া এবং ভবিষ্যতের ছোট ছোট আনন্দের অপেক্ষা করা মনকে ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক চিন্তা, অতিরিক্ত হতাশা বা মানসিক চাপ সামলাতে কষ্ট হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত পেশাজীবী পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত পরামর্শ ও সহায়তা দিতে পারেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্তানের খিটখিটে মেজাজের শুরু গর্ভ থেকেই!
গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ সময় মায়ের শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি থাকলে জন্মের পর শিশুর আচরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ছয় মাস বয়সে শিশুর মধ্যে খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা ও সহজে কান্নার প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে। ‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় ৩০০ জনের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা। গর্ভাবস্থায় খাবার ও সম্পূরক খাবারের মাধ্যমে তাদের ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ এবং মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। শিশুদের বয়স ছয় মাস হলে তাদের মা-বাবার কাছ থেকে আচরণ ও মেজাজ সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, যেসব মা গর্ভাবস্থায় তুলনামূলক কম ভিটামিন সি গ্রহণ করেছেন, তাদের সন্তানদের মধ্যে নেতিবাচক আবেগ প্রকাশের প্রবণতা বেশি। সহজে বিরক্ত হওয়া, অস্থিরতা এবং সামান্য অস্বস্তিতে কান্নাকাটির মতো আচরণ দেখা গেছে এসব শিশুর মধ্যে। গবেষকদের মতে, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ খাবার ও পুষ্টির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর সঙ্গে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং পরবর্তী সময়ে আবেগ প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষণায় ভিটামিন সি সম্পূরক গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ভিটামিন সি-এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান মানসিক চাপের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষণাটি ভিটামিন সি-এর ঘাটতি ও শিশুর আচরণের মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে; সরাসরি কারণ প্রমাণ করেনি। তাই গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন সি সম্পূরক গ্রহণ করা উচিত নয়। আরটিভি/এসআর  
সন্তানের খিটখিটে মেজাজের শুরু গর্ভ থেকেই!
ঘুম থেকে উঠার পর শুকিয়ে যাচ্ছে মুখ, যে সংকেত দিচ্ছে শরীর
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে থাকা, জিভ আঠালো লাগা কিংবা গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।
ঘুম থেকে উঠার পর শুকিয়ে যাচ্ছে মুখ, যে সংকেত দিচ্ছে শরীর
প্রিয় টেডি বিয়ারকে জড়িয়ে ধরার দিন আজ
শৈশবের কত স্মৃতিই না জড়িয়ে থাকে একটি ছোট্ট টেডি বিয়ারের সঙ্গে! কখনো ঘুমের সঙ্গী, কখনো ভয় কাটানোর বন্ধু, আবার কখনো মন খারাপের দিনে একটুখানি স্বস্তি।
প্রিয় টেডি বিয়ারকে জড়িয়ে ধরার দিন আজ
এনার্জি ড্রিংকেই বাড়তে পারে তরুণদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা কাজের ফাঁকে চাঙা থাকতে অনেকেই ভরসা করেন এনার্জি ড্রিংকের ওপর।
এনার্জি ড্রিংকেই বাড়তে পারে তরুণদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস আজ
আজ ৬ নভেম্বর, বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস। রাগ, ক্ষোভ কিংবা মতবিরোধের সময় চিৎকারের পরিবর্তে ধৈর্য, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস আজ