ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা’—ঢাকার রাস্তায় কেন এমন ভাষায় কথা বলেন হেলপাররা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের ভিড়ের মধ্যে নানা সংকেত ও ছোট শব্দে চালকদের নির্দেশনা দেন বাসের হেলপাররা। ছবি: প্রতীকী

ঢাকার রাস্তায় চলতে গেলে প্রায়ই কানে আসে, ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক, ডাইনে টেসলা, বরাবর, সামনে ক্লিয়ার। প্রথমবার শুনলে এসব কথা শুনে যে কারও মনে হতে পারে, প্লাস্টিক আর টেসলা বুঝি রাস্তার কোনো বস্তু বা গাড়ির নাম। কিন্তু ঢাকার যানজটে নিয়মিত চলাচলকারীরা জানেন, এসব কথার রয়েছে আলাদা অর্থ।

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় যানবাহনের ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘ কথা বলার সুযোগ নেই। কোন গাড়ি কোন দিকে, সামনে রাস্তা কতটা ফাঁকা, কোথা দিয়ে এগোতে হবে—এসব দ্রুত বোঝাতেই বাসের হেলপাররা ব্যবহার করেন ছোট ছোট কিছু শব্দ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শব্দগুলোই যেন ঢাকার রাস্তায় এক ধরনের সাংকেতিক ভাষা হয়ে উঠেছে।

‘বামে প্লাস্টিক’ মানে কী

‘ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক’—ঢাকার রাস্তায় বেশ পরিচিত একটি কথা। এখানে ‘প্লাস্টিক’ বলতে পরিবেশের কোনো সমস্যা বোঝানো হয় না। বরং চকচকে, সুন্দর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়িকে বোঝাতে হেলপাররা ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

বিশেষ করে গাড়ির ধরন বা গায়ের উপাদান দেখে দ্রুত আলাদা করে বোঝানোর জন্য এসব নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে দীর্ঘ বর্ণনা না দিয়ে একটি শব্দেই আশপাশের গাড়ি সম্পর্কে চালককে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়।

‘বরাবর’ শব্দের বড় অর্থ

‘বরাবর’ শুনতে ছোট একটি শব্দ হলেও ঢাকার যানজটে এর অর্থ বেশ বিস্তৃত। এর মাধ্যমে চালককে মূলত সামনে এগিয়ে যেতে বলা হয়।

প্রয়োজনে ডানে-বামে একটু এঁকেবেঁকে যেতে হতে পারে, রাস্তা সরু হলেও এগিয়ে যেতে হবে কিংবা পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও থামা যাবে না—সব মিলিয়ে এগিয়ে চলার নির্দেশ বোঝাতে ‘বরাবর’ বলা হয়।

‘সামনে ক্লিয়ার’ মানেই রাস্তা ফাঁকা নয়

‘সামনে ক্লিয়ার’ শুনলে মনে হতে পারে সামনের রাস্তা পুরোপুরি ফাঁকা। কিন্তু যানজটে এর অর্থ সবসময় এমন নয়। অনেক সময় গাড়ির চাকা সামান্য নড়তে শুরু করলেও হেলপাররা এই কথা বলেন। কখনো আবার গাড়ি না নড়লেও চালককে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে বলা হয় ‘সামনে ক্লিয়ার’।

অর্থাৎ এটি অনেকটা আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবেও কাজ করে।

এই ভাষা কোথা থেকে আসে

বাসের হেলপাররা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকার এই সাংকেতিক ভাষা শেখেন না। বরং দীর্ঘদিন ঢাকার রাস্তায় কাজ করতে করতে নিজেরাই এসব শব্দ ও সংকেত শিখে নেন।

জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকা, যেমন নোয়াখালী, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ ঢাকায় এসে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাদের কথাবার্তায় নিজ নিজ এলাকার আঞ্চলিক ভাষার টান থাকে। এক অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্য অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না।

কিন্তু ঢাকার ব্যস্ততা তাদের যোগাযোগের ধরন বদলে দেয়। এখানে দীর্ঘ বাক্য বা শুদ্ধ ব্যাকরণের চেয়ে দ্রুত ও স্পষ্টভাবে পরিস্থিতি বোঝানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট ও সহজ কিছু শব্দই তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

যানজটই তৈরি করেছে এই ভাষা

ঢাকার যানজটে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেলেই একাধিক গাড়ি সেখানে ঢোকার চেষ্টা করে। কে আগে যাবে, কোন দিক দিয়ে গাড়ি বের হবে—এসব বোঝাতে চালক ও হেলপারদের হাতে থাকে মাত্র কয়েক মুহূর্ত।

এই পরিস্থিতিতে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ নেই। তাই উচ্চস্বরে ছোট ছোট শব্দ ব্যবহার করেই আশপাশের পরিস্থিতি জানিয়ে দেওয়া হয়। যানবাহনের হর্ন ও মানুষের কোলাহলের মধ্যেও যাতে চালকের কানে কথা পৌঁছায়, সেভাবেই তৈরি হয়েছে এসব সংকেত।

শান্ত বা নিয়ম মেনে কথোপকথন না হলেও উদ্দেশ্য পূরণে এসব শব্দ বেশ কার্যকর হয়ে উঠেছে।

রিকশারও আছে নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা

এই সাংকেতিক যোগাযোগ শুধু বাসের হেলপারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার রাস্তায় রিকশাচালকরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সংকেত ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো রিকশার ঘণ্টির শব্দ।

একবার ঘণ্টি বাজানোর অর্থ হতে পারে সামনে রিকশার উপস্থিতি জানান দেওয়া। দুইবার ঘণ্টি বাজালে সাধারণত আশপাশের কাউকে সতর্ক করা বোঝায়।

আর পরপর তিনবার ঘণ্টি বাজালে এর অর্থ আরও স্পষ্ট—সামনে থাকা মানুষ বা যানবাহনকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। কারণ সামনে জায়গা না ছাড়লে যেকোনো সময় ধাক্কা লাগতে পারে।

ঢাকার যানজট তাই শুধু গাড়ি, হর্ন আর অপেক্ষার গল্প নয়। এই ব্যস্ত শহরের রাস্তায় প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে এমন কিছু শব্দ, সংকেত ও অভ্যাস, যেগুলো বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও নিয়মিত চালক, হেলপার ও রিকশাচালকদের কাছে হয়ে উঠেছে দ্রুত যোগাযোগের নিজস্ব মাধ্যম।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
ফলের মধ্যে আপেল বেশ জনপ্রিয়। সুস্বাদু এই ফলটি লাল, সবুজ ও হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি আপেলের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, নানা জাত ও পরিবেশগত গুরুত্ব। এসব বৈচিত্র্য তুলে ধরতে প্রতিবছর ২১ অক্টোবর পালিত হয় অ্যাপল ডে, যা ন্যাশনাল অ্যাপল ডে নামেও পরিচিত। অ্যাপল ডে কী ও কেন পালিত হয়? অ্যাপল ডে শুধু আপেল খাওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপনের দিন নয়। আপেলের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি বাড়ানো, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরিও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বাজারে সাধারণত কয়েক ধরনের আপেল বেশি দেখা গেলেও বিশ্বজুড়ে রয়েছে হাজার হাজার জাত। এসব আপেলের রং, আকার, স্বাদ ও গন্ধে রয়েছে ভিন্নতা। দিবসটি মানুষকে আপেলের এই বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করে। এ ছাড়া ফলের বাগান বিভিন্ন পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আপেল দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অ্যাপল দিবসের ইতিহাস অ্যাপল দিবসের সূচনা হয় ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড (Common Ground) ওই বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি আয়োজন করে। লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনের পুরোনো অ্যাপল মার্কেটে অনুষ্ঠিত প্রথম আয়োজনে প্রায় ৪০টি স্টলে বিভিন্ন জাতের আপেল, আপেলগাছের চারা, আপেলের রস ও সাইডারসহ নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এতে আপেল নিয়ে কাজ করা লেখক ও চিত্রকররাও অংশ নেন। যুক্তরাজ্যে ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান কমে যাওয়া এবং স্থানীয় আপেলের অনেক জাতের পরিচিতি হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন শহর, গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে অ্যাপল দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের প্রদর্শনী, ফলের স্বাদ গ্রহণ, রান্নার আয়োজন এবং বাগান পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আপেল সম্পর্কে ৬টি মজার তথ্য ১. বিশ্বে আপেলের হাজার হাজার জাত রয়েছে আপেল বলতে শুধু লাল বা সবুজ ফলকেই বোঝায় না। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বে আপেলের ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাত রয়েছে। জাতভেদে এসব আপেলের স্বাদ, রং, আকার ও ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়। ২. আপেল পানিতে ভাসে আপেলের ভেতরের প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গা বাতাসে পূর্ণ। এ কারণে আপেলের ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হওয়ায় এটি সাধারণত পানিতে ভেসে থাকে। ৩. আপেল ও গোলাপ একই পরিবারের আপেল ও গোলাপ দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে এরা একই পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের নাম রোজেসি (Rosaceae)। নাশপাতি, পিচ ও বরইও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ৪. আপেলের আদি উৎস মধ্য এশিয়া গৃহপালিত আপেলের উৎপত্তির ইতিহাস মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে বর্তমান কাজাখস্তান অঞ্চলে পাওয়া বুনো আপেলকে আধুনিক আপেলের পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ৫. আপেল দিয়ে তৈরি হয় নানা খাবার সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি আপেল দিয়ে জুস, জ্যাম, পাই, কেক, সালাদ ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আপেল থেকে সাইডারও তৈরি করা হয়। ৬. আপেল দিবসে থাকে নানা আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের জাত চেনা, ফলের রস তৈরি, আপেল দিয়ে রান্না, বাগান পরিচর্যা এবং শিশুদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। কোথাও কোথাও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন জাতের আপেল শনাক্ত করতেও সহায়তা করেন। আপেলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা আপেল খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আপেল খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে শুধু আপেল খেয়ে শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন। আপেল খাওয়ার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি। প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আপেল দিবসের গুরুত্ব জাতীয় আপেল দিবস একটি ফলকে কেন্দ্র করে পালিত হলেও এর গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। আপেলের বৈচিত্র্য রক্ষা, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেয় এই দিবস। ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ প্রতিবছর ২১ অক্টোবর মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে কৃষি, পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সম্পর্ক। আরটিভি/এসকে
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য