ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিচ্ছেদের পরও অনেকেই প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব কেন রাখেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
প্রেমের সম্পর্ক শেষ হলেও পরিচিতি, প্রয়োজন বা অপূর্ণ আবেগের কারণে অনেকের প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে যায়। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমের সম্পর্ক শেষ। একসময় যে মানুষটির সঙ্গে প্রতিদিনের কথা, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আর গভীর আবেগ জড়িয়ে ছিল, বিচ্ছেদের পর তিনিই হয়ে যান প্রাক্তন। কিন্তু সম্পর্কের ইতি টানার পরও অনেকের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয় না। কখনো খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো কিংবা সুযোগ পেলেই কথা বলা—এভাবেই থেকে যায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

প্রেম না থাকলেও বন্ধুত্বটা কেন থেকে যায়? মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিতে এর একক কোনো কারণ নেই। পরিচিতির স্বস্তি, মানসিক নির্ভরতা, বাস্তব প্রয়োজন কিংবা অপূর্ণ আবেগ—বিভিন্ন কারণ মিলেই তৈরি হতে পারে প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাসহ কয়েকটি গবেষণার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, কেউ মানসিক স্বস্তির জন্য, কেউ প্রয়োজনের কারণে, আবার কেউ পুরোনো ভালোবাসার টানেই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

পরিচিত মানুষটির কাছেই স্বস্তি

দীর্ঘদিনের সম্পর্কে দুজনের মধ্যে এক ধরনের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়। কে কখন মন খারাপ করেন, কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন কিংবা কখন কথা বললে ভালো লাগে—এসব সাবেক সঙ্গী অনেকটাই জানেন।

তাই বিচ্ছেদের পরও তার সঙ্গে কথা বললে অনেকের কাছে অচেনা কারও তুলনায় বেশি স্বস্তি লাগে। প্রেমের সম্পর্ক শেষ হলেও পুরোনো অভ্যাস ও মানসিক নিরাপত্তার অনুভূতি একদিনে মুছে যায় না। দুজন নতুন সীমারেখা মেনে চলতে পারলে এমন বন্ধুত্ব টিকে থাকাও স্বাভাবিক।

যোগাযোগের পেছনে থাকতে পারে প্রয়োজন

প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পেছনে সবসময় পুরোনো আবেগ কাজ করে না। অনেক সময় কারণটা একেবারেই বাস্তব। একই বন্ধু মহল, একই কর্মক্ষেত্র কিংবা যৌথ কোনো দায়িত্ব থাকলে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সন্তানের দেখভাল, পোষা প্রাণীর দায়িত্ব, যৌথ আর্থিক বিষয় বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দুজনকে যোগাযোগে রাখতে পারে। তাই এমন সম্পর্ককে সবসময় পুরোনো ভালোবাসার রেশ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। পরিস্থিতির প্রয়োজনেও যোগাযোগ বজায় থাকতে পারে।

ঝামেলা এড়াতেও যোগাযোগ রাখেন অনেকে

বিচ্ছেদ মানেই সবসময় ঝগড়া, রাগ বা শত্রুতা নয়। অনেকেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নতুন কোনো বিরোধে জড়াতে চান না। বিশেষ করে দুজনের বন্ধু, পরিচিতি বা সামাজিক পরিমণ্ডল একই হলে সৌজন্য বজায় রাখাই সহজ মনে হতে পারে।

কেউ কেউ মনে করেন, হঠাৎ পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে অন্যজন আরও বেশি কষ্ট পেতে পারেন। তাই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বজায় রাখেন। তবে এই যোগাযোগ সবসময় গভীর বন্ধুত্বে পরিণত হয় না। কখনো এটি শুধু স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি উপায়।

মনের কোথাও কি রয়ে গেছে পুরোনো প্রেম?

কখনো বন্ধুত্বের আড়ালে থেকে যেতে পারে অপূর্ণ আবেগ। একজন হয়তো সম্পর্কটিকে সত্যিই শেষ করে নতুনভাবে এগিয়ে যেতে চাইছেন, কিন্তু অন্যজন তখনও ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছেন। তাই বন্ধুত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে যোগাযোগের দরজাটি পুরোপুরি বন্ধ করতে চান না।

আবার কেউ কেউ সাবেক সঙ্গীর জীবনে নতুন মানুষ আসাও সহজে মেনে নিতে পারেন না। তখন ‘বন্ধুত্ব’ পুরোনো সম্পর্কের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত থাকার একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।

সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন দুজনের প্রত্যাশা এক থাকে না। একজন যদি শুধু বন্ধুত্ব চান আর অন্যজন যদি পুরোনো প্রেম ফিরে পাওয়ার আশা করেন, তাহলে বন্ধুত্বের আড়ালেও নতুন করে কষ্ট তৈরি হতে পারে।

প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব কি খারাপ?

সবসময় নয়। কোনো কোনো বিচ্ছেদ তিক্ততা ছাড়াই হয়। সময়ের সঙ্গে অনেক সম্পর্কেই প্রেমের জায়গা বদলে গিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব তৈরি হতে পারে। তাই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেই যে কেউ পুরোনো সম্পর্কে আটকে আছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

সাইকোলজি টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের অন্তত একজন সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের একাধিক সাবেক সঙ্গীর সঙ্গেও বন্ধুত্ব আছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সীমারেখা ও প্রত্যাশার মিল। প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে কি না, তার চেয়েও জরুরি হলো—এই যোগাযোগ দুজনের জন্যই স্বস্তির, সম্মানজনক ও স্পষ্ট কি না।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
বিয়েতে অস্বীকৃতি প্রেমিকের, দুই সন্তানের গলা কেটে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা 
স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, গিয়ে জানলেন প্রেমিকা এআই
মাদারীপুরের মেয়ের প্রেমে পাল্টে গেলেন চীনা যুবক, বিয়ে করতে চান ‘কালেমা পড়ে’
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ