
কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ জিভ জড়িয়ে যাওয়া কিংবা একই ধরনের কঠিন শব্দ দ্রুত উচ্চারণ করতে গিয়ে বারবার ভুল করা—এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। কখনো নিজের ভুলেই হাসি পায়, আবার কখনো বন্ধুদের সঙ্গে শুরু হয় কে কত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে বলতে পারে, সেই প্রতিযোগিতা। ভাষার এই মজার খেলাই পরিচিত জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য নামে। হাসি, আনন্দ আর উচ্চারণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রতিবছর নভেম্বরের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য দিবস। ২০২৬ সালে আজ ৮ নভেম্বর পালিত হচ্ছে দিবসটি।
কেন পালিত হয় এই দিবস?
জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য মূলত এমন কিছু শব্দের সমষ্টি, যেগুলো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে উচ্চারণ করা বেশ কঠিন। একই রকম ধ্বনি কিংবা কাছাকাছি উচ্চারণের শব্দ বারবার থাকায় দ্রুত বলতে গেলে জিভ জড়িয়ে যায়। ফলে সহজ বাক্যও হয়ে ওঠে কঠিন এক পরীক্ষা।
ইংরেজি ভাষার বহুল পরিচিত একটি বাক্য হলো ‘পিটার পাইপার পিকড আ পেক অব পিকলড পেপারস’। বাক্যটি দ্রুত কয়েকবার বলার চেষ্টা করলেই বোঝা যায়, কতটা কঠিন এই খেলা!
আন্তর্জাতিক জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ভাষার এই মজার দিকটি উপভোগ করা, উচ্চারণের দক্ষতা যাচাই করা এবং বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে আনন্দময় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। একই সঙ্গে কথা বলার দক্ষতা অনুশীলনেরও সুযোগ তৈরি হয় এই আয়োজনে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল এই মজার খেলা
জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্যের ইতিহাস নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। ইংরেজি ভাষার জনপ্রিয় ‘পিটার পাইপার’ ছড়াটির পেছনেও রয়েছে একটি প্রচলিত কাহিনি। ধারণা করা হয়, পিটার পাইপার নামে এক ফরাসি ব্যক্তি ছিলেন, যিনি মশলা ও সুগন্ধি উদ্ভিদের বীজ সংগ্রহের জন্য পরিচিত ছিলেন। তার জীবন নিয়ে প্রচলিত নানা গল্পের সঙ্গে এই ছড়াটির যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম কঠিন জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য হিসেবে গিনেস বিশ্ব রেকর্ডসে উল্লেখ রয়েছে ‘দ্য সিক্সথ সিক শেখস সিক্সথ শিপস সিক’ বাক্যটির। একবার দ্রুত উচ্চারণের চেষ্টা করলেই বোঝা যায়, এটি কতটা কঠিন!
যেভাবে উদযাপন করবেন দিবসটি
দিবসটি পালনের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পছন্দের জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য বেছে নিয়ে অনুশীলন করা। প্রথমে ধীরে ধীরে বাক্যটি উচ্চারণ করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে নির্ভুলভাবে বলার চেষ্টা করতে পারেন।
বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজন করতে পারেন মজার প্রতিযোগিতা। কে সবচেয়ে দ্রুত ও ভুল ছাড়াই কঠিন বাক্যটি বলতে পারেন, তা নিয়ে জমে উঠতে পারে হাসি-আনন্দের আসর।
কর্মক্ষেত্রেও সহকর্মীদের নিয়ে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। চাইলে সবাই মিলে নতুন নতুন জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য তৈরি করে একে ওপরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন।
যারা একটু বেশি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন, তারা নিজেরাই কঠিন শব্দ দিয়ে নতুন বাক্য তৈরি করে অন্যদের উচ্চারণের পরীক্ষা নিতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ভাষার চর্চা, উচ্চারণের অনুশীলন আর নির্মল আনন্দে সময় কাটানোর দারুণ একটি উপলক্ষ আন্তর্জাতিক জিভ জড়িয়ে দেওয়া বাক্য দিবস। তাই আজ বন্ধুদের সঙ্গে মজার এই খেলায় মেতে উঠুন। দেখা যাক, কার জিভ সবচেয়ে কম জড়িয়ে যায়!
আরটিভি/জেএমএ


