ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

দারাজের ১ টাকার ফাঁদে লাখ টাকার প্রতারণার টার্গেট!

কাজী ফয়সাল

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৯ পিএম
১ টাকায় মোটরসাইকেল কিংবা টেলিভিশনের লোভ দেখিয়ে দারাজ এর প্রতারণার ফাঁদ

সাইবার মনিটরিং ও প্রতারণা প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় বসেই যেন প্রকাশ্যে অভিনব ক্যাসিনো চালাচ্ছে অনলাইন শপ ‘দারাজ’। মাত্র ১ টাকায় ১৬ লাখ টাকার গাড়ি! তাক লাগানো এমন লোভনীয় অফার-কার না ভাগ্যটা পরীক্ষা করে নিতে ইচ্ছে হয়!

এমন অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতে বহু গ্রাহকের কাছে থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার টার্গেটে মাঠে নেমেছে ‘দারাজ’। প্রতারণার ছদ্মবেশ নিতে ‘কুইজ’ আর ‘ক্যাম্পেইন’ নামে জুয়ার আসর চালু করেছে এই প্রতারক প্রতিষ্ঠানটি। এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নাকি জানা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের! অনলাইন মাধ্যমে মনিটরের পর্দায় জুয়ার স্পিন ঘুরিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছে চতুর প্রতারক ‘দারাজ’।

দেশে অনলাইন ক্যাসিনো কিং সেলিম প্রধানের প্রতারণাও যেন হার মানাতে বসেছে ‘দারাজ’। সম্রাট, এনু কিংবা রুপনদের আইনের আওতায় আনা হলেও দারাজের প্রতারণার দিকে নজর দিচ্ছে না কেউই। অথচ প্রতারক প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টিভি পর্দায় বহুমুখী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মাত্র ১ টাকায় দামি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও মোবাইলসহ বহু অফারের ছড়াছড়ি দেখে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অনেকেই।

এমন পরিস্থিতিতে এই অভিনব ‘ক্যাসিনো’ বন্ধে টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন অপরাধ বিজ্ঞানীরা। মানুষকে লোভের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়া, সরাসরি প্রতারণা বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক খন্দকার ফারজানা রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যবসায়িক প্রতারণাকে আমি মনে করি জুয়া বা ক্যাসিনোর শামিল। স্পেশাল টাস্কফোর্স এর কথা আমরা অনেকদিন ধরে বলছি। যদি এটার বাস্তবায়ন করা না হয় তবে প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার যে একটি ব্যবসায়িক কার্যকলাপ শুরু হয়েছে, সেটা বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তবে, আহ্বান থাকবে লোভে পড়ে প্রতারণার ফাঁদে যেন কেউ পা না দেয়, সেই দিকেই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
‘
কৌশলে এমন অপকর্ম চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে দারাজের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফুয়াদ আরেফিন বলেন, এখানে এক টাকার গেম রয়েছে। এই এক টাকার গেমে গাড়ির মতো জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাম্পেইনের জন্যতো আর অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এটাতো ব্যবসায়ীক প্রক্রিয়ার অংশ। এটি আমাদের নরমাল কাজের সঙ্গে যুক্ত।

দারাজের প্রতারণার বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ইভেলী বা দারাজ কিভাবে এসব ব্যবসা করছে তার সব কিছুই আমরা দেখবো। বিষয়টি ফলোআপে রয়েছে। অনলাইন ব্যবসা মাধ্যম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এছাড়া আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকেও বলতে হবে যে ভোক্তারা যেন প্রতারিত না হয় সে বিষয়টি দেখতে। দারাজ কিভাবে এ ব্যবসা করছে সেটি যেন দেখে।

করোনায় মাস্ক বিক্রি নিয়ে দারাজের প্রতারণা

করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে ৫০ টাকার মাস্ক ২ হাজার ২৫৫ টাকায় বিক্রি করে আসছিল অনলাইন শপিং মার্কেটপ্লেস দারাজ ডটকম। বাড়তি দামে মাস্ক বিক্রি করার অভিযোগে দারাজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে রাজধানীর বনানীতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের শুরুতে বনানীতে দারাজের প্রধান কার্যালয়ে যান আদালতের কর্মকর্তারা। এরপর সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির তেঁজগাও কার্যালয়েও অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাস্ক বিক্রিতে স্পষ্টতই দারাজের নজরদারির অভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়। যথাযথ নজরদারির অভাবে চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান দারাজে উচ্চমূল্যে মাস্ক বিক্রি করছিল।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর বক্তব্য
দারাজের প্রতারণার খবর নতুন নয়। এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণার অভিযোগের স্তূপ। নগদ টাকায় পণ্য পৌঁছে দিলেও পণ্যের মান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ ছাড় দেয়ার নামে তারা গ্রাহকদের নিম্নমানের পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে। এই বিশেষ ছাড়কে তাই ‘বিশেষ প্রতারণা’ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

ওয়ারী এলাকার মেহেদী হাসান নামের এক গ্রাহক দারাজ থেকে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি দারাজ থেকে একটি লুঙ্গি কিনেছিলেন। তার অর্ডার নম্বর-৬০৯০৭৭৫৮৬৮৭৭১০০। সেই লুঙ্গির মান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘ আমি যে লুঙ্গিটার অর্ডার করেছিলাম তার দাম ছিল ৪৫০ টাকা। ডিসকাউন্ট দিয়ে ২৮৭ টাকা নেয়া হয়। কিন্তু প্যাকেট খোলার পর দেখি সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী। ওরা (দারাজ) সেলারদের কাছ থেকে পণ্য এনে দেয়। সেলার ভালো নাকি মন্দ পণ্য দিল, দারাজ এর কোনও খোঁজ-খবরই রাখে না। দারাজ বলে তারা কোয়ালিটি মেইন্টেইন করে, কিন্তু আসলে ওরা এর কোনও ধার ধারে না।’


ধানমণ্ডি এলাকার গ্রাহক বাবুল। তিনি দারাজ থেকে দুটি প্যান্ট এবং পোলো শার্ট ক্রয় করেন। তার অর্ডার নম্বর হলো- ৬০৮৮৮০৬৭৪২০৯২১। উল্লিখিত অর্ডার আইডি থেকে ৩টি পণ্য কেনেন তিনি। ৩টি পণ্যের মানই পশ্নবিদ্ধ বলে জানান এই গ্রাহক। একটি পোলো শার্টের মূল্য ১০০০ টাকা দেয়া আছে। সেই পণ্যের ছাড় দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে ২২০ টাকা নেয়া হয়। একটি প্যান্টের মূল ১৩৫০ টাকা, ছাড় দিয়ে ২৪০ টাকা এবং আরেকটি প্যান্টের দাম ৭৯৯ টাকা, ছাড় দিয়ে ২২৮ টাকা। প্রতিটি পণ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য ৬০ টাকা করে ১৮০ টাকা নেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি ফেসবুকে দারাজের বিজ্ঞাপন দেখে দুটি প্যান্ট ও একটি পোলো টি-শার্টের অর্ডার দিয়েছিলাম। এর দুই দিন পর দারাজের অফিস থেকে জানানো হয় পণ্যগুলো আমার কাছে পাঠানো হচ্ছে। ডেলিভারি বয় আমাকে পণ্যগুলো দিতে এলে আমি তা খুলে দেখে নিতে চাই। তখন ডেলিভারি বয় বলেন, ‘এখন খুলে নিতে পারবেন না। পরে খুলে দেখবেন। সমস্যা থাকলেও রিটার্ন দিতে পারবেন।’ তারপর প্যাকেট খুলে দেখি প্যান্টগুলো একেবারেই লো-কোয়ালিটির। এসব প্যান্ট ভ্যানগাড়িতে যে প্যান্ট বিক্রি করে তার চেয়েও খারাপ। আর পোলো টি-শার্টটির কলারে সমস্যা। তিনটি পণ্যই আমার কাছে মনে হচ্ছে রিজেক্ট মাল।’ তিনি আরও বলেন, ‘দারাজ যে বিশেষ ছাড় দেয় তা আসলে ভাঁওতাবাজি। এক শ টাকার পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিশেষ ছাড় দেয় তারা। আমার মনে হয় ডেলিভারি দেয়ার আগে দারাজের পণ্যের মান নিশ্চিত করা উচিত।’

যাত্রাবাড়ী এলাকার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইসহান মির্জা বলেন, আমি দারাজ থেকে একটি পাওয়ার ব্যাংক কিনেছিলাম। তার মধ্যে একটা পুরনো ব্যাটারি পেয়েছি। দারাজ আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমার অর্ডার নম্বরটি ছিলো- ৬০৮৭৩৮৪৯৪৯৩৯৯৬২।

গত বছরের ২৯ শে নভেম্বর ‘দারাজ’ স্মার্টশপ অনলাইন পেজের ইলেকট্রনিকস কম্পোনেন্ট বিভাগ থেকে সিরাজুল ইসলাম হৃদয় একটি লাল কালারের স্মার্ট দেয়াল ঘড়ির অর্ডার করেন। ঘড়িটির দাম ২৯৯ টাকা হলেও শিপিং চার্জ বাবদ যোগ করা হয় আরও ৬০ টাকা। যার অর্ডার নম্বর হলো- ৬০৪৪৭৫০৪১০৩৮৪১। স্ট্যার্টাড কোড-বিডিডেক্সএজিআর। এসএ পরিবহনকে বাড়তি বিল দিয়ে ২০ দিন পর দারাজ অনলাইন থেকে আসা প্যাকেট খুলে মাথায় হাত। এ কী কাণ্ড! দিলেন ঘড়ির অর্ডার আর আসলো ঘড়ির কাঁটা।

পরক্ষণেই ওই গ্রাহক ‘দারাজ’ এর ফেসবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে ফিরতি মেসেজে জানান, আপনার পণ্যটি আর রিটার্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুগ্রহ করে পণ্য ক্রয়ের পূর্বে মূল্যসহ, পণ্যের ছবি, রং, বিস্তারিত বিবরণ এবং রিটার্ন পলিসি চেক করুন। দারাজের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

ভুক্তভোগী হৃদয় বলেন, ছবি দেখে অর্ডার করেছি। বাক্সটি খুলে ঘড়ির বদলে পেয়েছি তিনটি টি কাঁটা। এরপর থেকেই ওই অনলাইনের নম্বরে কল দিয়েও যোগাযোগ করা যায়নি।


কেএফ/জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বাগতম ২০২১, বিদায় ২০২০
হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় কেটে গেলো একটি বছর। অনেক উত্থান-পতন পেরিয়ে অতীতের খাতায় জমা হলো ২০২০ সাল। বিগত সময়ে সকল দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, গ্লানি ও বেদনা ভুলে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে বরণ করে নিলো ২০২১ সালকে।  বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, পদ্মা সেতু চালু, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে ২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। উন্নয়নে নেয়া নানা উদ্যোগ পূর্ণ হবে, অগ্রগতির পথে সব জটিলতা দূর হবে- আজ এটাই সবার প্রত্যাশা। মহামারির ধাক্কা সামলে নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।  ইংরেজি নতুন বছর ২০২১-এ দেশের মানুষ নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেন। ফেলে আসা দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে চান সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাই আজ হৃদয়ে হৃদয়ে বেজে ওঠে একটাই প্রার্থনা- নতুন বছরটি যেন ভালো কাটে। নতুন বছর মানেই নতুন উদ্দীপনা, নতুন প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলা। পেছনে ফেলে আসা বছরের সকল গ্লানিকে দূরে ঠেলে নতুন উদ্যমে সাহস নিয়ে পথচলা। সভ্যতার ইতিহাস বলে, অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার এই স্পৃহাই মানুষকে নিয়ে এসেছে এতদূর। তাই নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে যাবে বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো বাঙালিরাও। এফএ
স্বাগতম ২০২১, বিদায় ২০২০
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তুর্কি মন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা হওয়ার দীর্ঘদিন পরেও স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে কিছু মানুষ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধকে তারা ‘ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ’ হিসেবে মিথ্যার করছেন। সম্প্রতি তুর্কির এক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তুর্কির মন্ত্রী বলেছিলেন- ভারতের প্রয়োচনায় বাঙালিরা পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছেন। তারা ভাবেন ইসলামকে ধ্বংস করেছি আমরা। সেই সুর আবারও গাইছে, যা ২৩ বছর শুনেছি। এসব বিষয় নিয়ে তর্কির ওই মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় আধাঘণ্টা ঝগড়া হয়েছিল বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গবেষণা গ্রন্থ ‘নৌ যুদ্ধ একাত্ত’-এর মোড়ক উন্মোচনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। স্বাধীনতাযুদ্ধের লিখিত ডকুমেন্টস আমাদের হাতে নেই বলে মিথ্যাচারের জবাব দিতে পারছি না। এজন্য একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আগামী দুই থেকে তিন মাসের ভেতর ‘বীরের কণ্ঠে বীর গাঁথা’ নামে একটি গল্প রেকর্ডিং করা হবে। স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা কি করেছেন এবং সহযোদ্ধারা কি দেখেছেন সেটি রেকর্ড করা হবে। এতে বিশ্ববাসী জানতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ঘটনাটা কি ছিল? মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। এই যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে চালিয়ে ইসলামপন্থী দেশগুলোর মগজ ধোলাই করেছে, যেন বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে কিছুই করেনি। ভারত এসে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে লিখিত জবাব দিতে হবে। এসআর/এফএ  
স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তুর্কি মন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
আরও পড়ুন
মাউশির ৪০৩২ পদে নিয়োগে প্রতারণার ফাঁদ থেকে সতর্কতা
পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, দুই যুবক গ্রেপ্তার
ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে প্রতারণা করে পুলিশের হাতে ধরা
মালয়েশিয়ায় প্রতারণা করলে ৩ বছরের জেল, জরিমানা ৪০ লাখ