
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের ওপর হামলা মানে সংবিধান ও রাষ্ট্রের ওপর হামলা। রাষ্ট্র এই হামলা আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর হস্তে মোকাবিলা করবে। রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ১৮ কোটি মানুষকে তা নিশ্চিত ও আশ্বস্ত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
আজ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারি কর্মকর্তা ফোরাম এক প্রতিবাদ সমাবেশে আইজিপি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পুলিশপ্রধান বলেন, আমি প্রতিবাদের কথা বলব না। কারণ আমরা সরকারের অংশ। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হামলা- আমরা অবশ্যই এ দেশের প্রচলিত আইন আছে, এর মাধ্যমে মোকাবেলা করব। রাষ্ট্র অবশ্যই তার যে বিধিবিধান আছে, দেশের যে আইন আছে, সেটির মাধ্যমে তাদেরকে কঠোর হস্তে মোকাবিলা করবে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে, রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ১৮ কোটি মানুষকে নিশ্চিত করতে চাই, আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা তাদেরকে কঠোর হস্তে মোকাবিলা করব। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণ, সংবিধানের বিরুদ্ধাচরণ।
আইজিপি বলেন, আমার দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান, রাষ্ট্র ও জনগণকে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। ১৮ কোটি মানুষ ও রাষ্ট্র মিলে আমরা সবকিছু মোকাবিলা করব। রাষ্ট্রপক্ষরা শক্তিশালী। রাষ্ট্রের বিরোধিতা করার দুঃসাহস আপনারা দেখাবেন না। রাষ্ট্রের বিরোধিতা মানে হচ্ছে ১৮ কোটি মানুষের বিরোধিতা। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হামলা সংবিধান, রাষ্ট্র ও এদেশের জনগণের ওপরে হামলা। রাষ্ট্র এ হামলা আইন, বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর হস্তে মোকাবিলা করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি টেনে-হিঁচড়ে দেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ।
বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের মতো জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং স্বাধীনতাবিরোধী ও অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পুনরায় শপথ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে বক্তব্য অনুষ্ঠানে আরও রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ।
এফএ/পি




