ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ-ভারত ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে যে আলোচনা হয়েছে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১২ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকীতে তাদের প্রথম ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সাড়ে ১১টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে এতে যোগ দেন।

অংশীদারিত্বের বিশেষ প্রকৃতির প্রতিফলন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আগামী বছর এই উদযাপনে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়।

আজকের আলোচনা ও কর্মসূচীতে যা ছিল

অভিন্ন ইতিহাস লালন: যৌথভাবে মুজিববর্ষ এবং মুক্তিযুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত মুজিববর্ষের লোগোসহ একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়।

দুই দেশের জাতির পিতাদের প্রতি অনন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য, বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে একটি বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী পরিচালনা করছে যা তাঁদের জীবন, একই সংগ্রাম এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের অগ্রণী ভূমিকা প্রদর্শন করছে। এই ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীটি ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর, বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘে যৌথভাবে প্রদর্শিত হবে।

উভয় দেশই মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর এবং পরের বছর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনের জন্য সম্মিলিতভাবে স্মারক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং পাশাপাশি আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতে বঙ্গবন্ধু জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের শুটিং হবে।

ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব

ভারতের প্রতিবেশী প্রথমে" নীতি অনুসারে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ ও যথাসময়ে ভারতে উদ্ভাবিত ও উৎপাদিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিতরণে সহযোগিতা জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। উভয় দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়াও, উৎপাদনে সহযোগিতার সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হবে।

গত দু'বছর ধরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা ভারতকে বাংলাদেশি রপ্তানিতে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া দ্বিতীয় এশীয় দেশে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য ঘাটতি ২৬ শতাংশেরও বেশি কমে এসেছে। রেলপথ এবং নৌপথের মতো নতুন বিকল্পগুলো কোভিড -১৯ শুরুর পর বাণিজ্যে কোনও প্রভাব পড়তে দেয়নি।

জ্বালানি:

দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উভয় দেশ হাইড্রোকার্বন সহযোগিতার ক্ষেত্রে দ্বিমুখী বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে হাই-স্পিড ডিজেল সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন একে সমৃদ্ধ করবে।

হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতার একটি কাঠামো আজ স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৈদ্যুতিক শক্তি রূপান্তর, উৎপাদন, গ্যাস এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ এবং হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে সহযোগিতার সম্ভাব্য অন্যান্য উপায়গুলোও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

দুই দেশের অর্থনীতি ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রই কৃষিকেন্দ্রিক হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের কথা মাথায় রেখে, ভারতে বাংলাদেশী রপ্তানি এবং সামগ্রিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপি এ) সম্পর্কিত একটি গবেষণা চালু করা হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পারিক সুবিধার পাশাপাশি পণ্য ও পরিষেবা দিতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সূচনা করবে। এটি ভারতের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়াতে সহায়তা করবে এবং সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করবে।

উভয় নেতা যৌথভাবে দু'টি উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন- একটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য এবং অন্যটি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাথে খালিশপুর কলেজিয়েট বালিকা বিদ্যালয়ের ভৌত ও সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। বরিশাল শহরে ভারতের অর্থায়নে আবর্জনা/কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশনের সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নয়নের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধি:

দুই নেতা যৌথভাবে পুন:স্থাপিত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ উদ্বোধন করেন যা ভারতের উত্তরবঙ্গের সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করেছে। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বিচ্ছিন্ন হওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছয়টি আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগের মধ্যে এটি পুন:স্থাপিত পঞ্চম রুট। উভয় নেতা দুই দেশের মানুষের জীবন সহজ করার জন্য এবং ভ্রমণ, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রচারের জন্য সংযোগকে অগ্রাধিকার প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

বাণিজ্যের জন্য রেল রুট: কোভিড-১৯ মহামারীতে লকডাউন চলাকালে রেলসংযোগসমূহ কার্যকর, পরিবেশবান্ধব এবং নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ এবং ভারতীয় রেলওয়ের সহায়তায় খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল অব্যাহত ছিল, বিশেষত এই বছর পবিত্র রমজান মাসে। পার্সেল ট্রেন পরিষেবা, অটোমোবাইল কার্গো এবং কনটেইনার ট্রেনসহ বিভিন্ন পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল, সড়ক, বিমান ও নৌপথে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের ফলে চিলাহাটি, সিরাজগঞ্জ, আশুগঞ্জ, দর্শনা, রামগড়, কুমিল্লার মতো অঞ্চলগুলো নতুন বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই সংযোগগুলো বিশেষ করে নেপাল এবং ভুটানের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশী ট্রাকের বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনাটিও বিশেষভাবে স্বীকৃত হয়েছে।

যৌথ উন্নয়নে অংশীদার

বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম বিকাশের অংশীদার, যাদের রয়েছে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চারটি ঋণচুক্তি, যা কেবল বাংলাদেশকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার মূল্যে দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সংযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন থাতে সহযোগিতা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভারত বাংলাদেশকে নতুন উন্নয়ন ব্যাংক বা ব্রিকস ব্যাংকে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তির ব্যবহারসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা; জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা সামগ্রীর জন্য যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন।

আঞ্চলিক সহযোগিতা

বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয়দানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে এবং এর সাথে জড়িত অসংখ্য আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ, দ্রুত এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাস্তুচ্যুত মানুষদের আগমনে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভারত পাঁচ ধাপে মানবিক সহায়তা দিয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করতে একটি উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ভারত রাখাইন রাজ্য উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএসডিপি) আওতায় রাখাইন অঞ্চলে আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বিবিআইএন অঞ্চলে পরিবহণ সমাধান সম্প্রসারণে সহযোগিতা; এছাড়াও নতুন ভারতীয় ক্রস বর্ডার এনার্জি গাইডলাইন দ্বারা সহজতর হওয়া আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি বাণিজ্যে সহযোগিতা।

সকল ইস্যুতে গঠনমূলক পন্থা:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের আন্তরিক প্রতিশ্রুতি এবং সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দুই নেতা মনু মুহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার এই ছয়টি নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামো দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে দুই নেতা শিগগিরই যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনে সম্মত হন।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে ভারত ও বাংলাদেশের উভয়েরই একটি অভিন্ন দায়িত্ব বলে জোর দিয়ে উভয় নেতা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের জন্য সমন্বিত ও যৌথ টহলের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ভারত আশ্বাস দিয়েছে যে, বিএসএফ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করবে এবং সম্ভাব্য প্রাণঘাতী

অস্ত্রকে আত্মরক্ষার্থে শেষ সম্বল হিসেবে ব্যবহার করার মাধ্যমে কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করবে।

স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় দলিল

হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতার কাঠামো

উচ্চ প্রভাব সম্পন্ন কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য কাঠামোগত চুক্তি - দশ বছরের এই চুক্তিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারত সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পয়:নিষ্কাশন, পানি পরিশোধন নগর উন্নয়ন, পরিবেশ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু কল্যাণ, কমিউনিটি উন্নয়ন ও জীবিকাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫০০ মিলিয়ন টাকার প্রকল্পের অনুমতি দেয় যা পূর্বে স্বীকৃত পরিমাণের চেয়ে দ্বিগুণ।

সীমান্তে হাতি সংরক্ষণের জন্য প্রটোকল

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে আবর্জনা/কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন স্থল উন্নয়নের জন্য এবং সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক - বরিশাল শহরে নাগরিক পরিষেবা প্রদানে সহযোগিতার জন্য ২৪.৭ কোটি টাকা প্রকল্প যার মধ্যে থাকবে আবর্জনা/ কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন স্থল সম্পর্কিত সুবিধাদি, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ আবর্জনা সংগ্রহ, পরিশোধন ও নিষ্কাশনের জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ।

কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ঢাকা এবং জাতীয় জাদুঘর, নয়াদিল্লীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক।

ভারত-বাংলাদেশ সিইও ফোরামের রেফারেন্সের শর্তাবলী- তৃতীয় দেশগুলোতে বিনিয়োগের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বাড়াতে নীতিগত পর্যায়ের সহায়তা প্রদানের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি উচ্চস্তরের সিইও ফোরাম গঠন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে টেক্সটাইলস, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ মূল্যশৃঙ্খল, অটোমোবাইলস, পরিষেবা খাত প্রধান লক্ষ্য হবে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, এবং পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

জি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বাগতম ২০২১, বিদায় ২০২০
হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় কেটে গেলো একটি বছর। অনেক উত্থান-পতন পেরিয়ে অতীতের খাতায় জমা হলো ২০২০ সাল। বিগত সময়ে সকল দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, গ্লানি ও বেদনা ভুলে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে বরণ করে নিলো ২০২১ সালকে।  বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, পদ্মা সেতু চালু, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে ২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। উন্নয়নে নেয়া নানা উদ্যোগ পূর্ণ হবে, অগ্রগতির পথে সব জটিলতা দূর হবে- আজ এটাই সবার প্রত্যাশা। মহামারির ধাক্কা সামলে নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।  ইংরেজি নতুন বছর ২০২১-এ দেশের মানুষ নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেন। ফেলে আসা দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে চান সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাই আজ হৃদয়ে হৃদয়ে বেজে ওঠে একটাই প্রার্থনা- নতুন বছরটি যেন ভালো কাটে। নতুন বছর মানেই নতুন উদ্দীপনা, নতুন প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলা। পেছনে ফেলে আসা বছরের সকল গ্লানিকে দূরে ঠেলে নতুন উদ্যমে সাহস নিয়ে পথচলা। সভ্যতার ইতিহাস বলে, অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার এই স্পৃহাই মানুষকে নিয়ে এসেছে এতদূর। তাই নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে যাবে বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো বাঙালিরাও। এফএ
স্বাগতম ২০২১, বিদায় ২০২০
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তুর্কি মন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা হওয়ার দীর্ঘদিন পরেও স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে কিছু মানুষ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধকে তারা ‘ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ’ হিসেবে মিথ্যার করছেন। সম্প্রতি তুর্কির এক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তুর্কির মন্ত্রী বলেছিলেন- ভারতের প্রয়োচনায় বাঙালিরা পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছেন। তারা ভাবেন ইসলামকে ধ্বংস করেছি আমরা। সেই সুর আবারও গাইছে, যা ২৩ বছর শুনেছি। এসব বিষয় নিয়ে তর্কির ওই মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় আধাঘণ্টা ঝগড়া হয়েছিল বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গবেষণা গ্রন্থ ‘নৌ যুদ্ধ একাত্ত’-এর মোড়ক উন্মোচনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। স্বাধীনতাযুদ্ধের লিখিত ডকুমেন্টস আমাদের হাতে নেই বলে মিথ্যাচারের জবাব দিতে পারছি না। এজন্য একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আগামী দুই থেকে তিন মাসের ভেতর ‘বীরের কণ্ঠে বীর গাঁথা’ নামে একটি গল্প রেকর্ডিং করা হবে। স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা কি করেছেন এবং সহযোদ্ধারা কি দেখেছেন সেটি রেকর্ড করা হবে। এতে বিশ্ববাসী জানতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ঘটনাটা কি ছিল? মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। এই যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে চালিয়ে ইসলামপন্থী দেশগুলোর মগজ ধোলাই করেছে, যেন বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে কিছুই করেনি। ভারত এসে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে লিখিত জবাব দিতে হবে। এসআর/এফএ  
স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তুর্কি মন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক