
করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া আর অভাব-অনটনের সংসারে, সেহরি আর ইফতারের বাড়তি আয়োজন অসহায়-দুস্থদের জন্য মরার উপর খারার ঘা সম। তবে সহায় সম্বলহীন এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়, সমাজের অনেক বিত্তবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু অসহায় মানুষের সেবায় নিয়োজিত এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচারের আড়ালেই থেকে যায়। এমনই একটি সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এমন মহতী কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এমন কাজে সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান স্বেচ্ছাসেবকরা।
সোমবার (১০ মে) রাজধানীর বারিধারা ও নতুন বাজার এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তারা।
সকাল থেকেই ইফতারের আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া একঝাঁক শিক্ষার্থী। তাদের এই ব্যস্ততা চলে ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। যতক্ষণ না দরিদ্র এসব মানুষকে ইফতার বিতরণ শেষ হয়। স্বেচ্ছায় শ্রম দেয়া এসকল শিক্ষার্থী সবাই বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন, আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার মানুষকে ইফতার দিচ্ছি। রমজান মাসের শুরু থেকেই আমাদের এই কার্যক্রম চলছে। আগামীতেও আমরা সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাব।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব স্বেচ্ছাসেবক বিভাগের পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার বলেন, শতভাগ সম্ভব না হলেও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি-সামাজিক দূরত্ব মেনেই আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
এদিকে ইফতার আয়োজনের প্যাকেট হাতে পেয়ে লকডাউনে মানবেতর জীবনযাপন করা এসব শ্রমজীবী মানুষদের চোখে মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ।
প্যাকেট হাতে পেয়ে হোটেল শ্রমিক আমিন বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে তারা সবাই যদি এমন করে সাহায্য-সহযোগিতা করতো তাহলে আমাদের মতো অসহায় মানুষ তিনবেলা খেয়ে বাঁচতে পারে। লকডাউনে বেশিরভাগ সময়েই কাজ পাই না। বউ আর দুইটা বাচ্চা নিয়ে কি যে কষ্টে আছি কাওরে বুঝাইতে পারবো না।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক শারমিন আক্তার পাপড়ী বলেন, আমরা প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক গাড়িতে ঘুরে ঘুরে রাজধানীর ভাসমান মানুষদেরকে ইফতার দিচ্ছি। দুস্থ মানুষদের সাহায্যে আমরা এগিয়ে আসছি। এসব কার্যক্রম পরিচালনার সময় দরিদ্র মানুষগুলো যখন মাথায় হাত রেখে দোয়া করে সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের সামর্থ্যবানদের এমন কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
এসকে/পি




