
মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান।
শুক্রবার (২৬ আগস্ট) সকালে মাদারীপুর শহরের সেলিনা কমপ্লেক্সে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সেলস্ অ্যান্ড ডিসপ্লে সেন্টারের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা জানান।
শাজাহান খান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিলে আজ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। সেই রাস্তা দেখেই পরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আবার দেশে ঢুকে পড়ে।
আ.লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যা আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যখন চরম আঘাত এসেছে, নারীদের ধর্ষণ করা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, এমনকি শিশুদের হত্যা করেছে মিয়ানমার। তখন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তারা আমাদের দেশে এসেছে। শুরুতে শেখ হাসিনার সরকার তাদের বাধা দিয়েছিল, পরে মানবিক কারণেই আশ্রয় দিয়েছে। শুধু রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ই দেওয়া হয়নি, এমনকি তাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপি বিদেশিদের কাছে শুধু নালিশই দিচ্ছে।
বিদেশিরা আমাদের দেশে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে পারে, কিন্তু হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। দেশে আর কোনোদিন সামরিক শাসন কিংবা সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসবে, সেই সুযোগ কিংবা পরিবেশ নেই।
সংবিধানেও এমন কিছু নেই। আর সেনাবাহিনী সেই কাজটি করবেও না। বিএনপি মনে করছে আন্দোলন-সংগ্রাম করে শেখ হাসিনা সরকারকে হটাবে। এই সরকার আন্দোলন কিংবা সংগ্রাম করে হটানোর মতো দল নয়। এই সরকার জনগণের ভিত্তি করেই রাজনীতি করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মাহমুদা আক্তার কনা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ অনেকেই।




