
২০১২ সালে দিনাজপুরে মারা যাওয়া ১৩ শিশুর মৃত্যুর কারণ নিষিদ্ধ বিষাক্ত কীটনাশক।
সোমবার আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০১২ সালের ৩১ মে থেকে ৩০ জুনের মধ্যে দিনাজপুরে ১ থেকে ১২ বছরের ১৩টি শিশুর মৃত্যু হয়।
ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, মাত্রাতিরিক্ত ও নিষিদ্ধ বিষাক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক উপাদান মেশানো লিচু খাওয়ায় মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ অ্যাকিউট ইনকেফালাইটিস সিন্ড্রোম-এইএস’ আক্রান্ত হয়ে ওই শিশুরা মারা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত হবার ২০ ঘণ্টার মধ্যেই সব শিশুর মৃত্যু হয়। যে বাগানের লিচু খেয়ে ওই শিশুরা এইএস’এ আক্রান্ত হয়েছিল ওই বাগানে ইনডোসালফেন নামক মারাত্মক বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এ কীটনাশক বিশ্বের ৮০টি দেশে নিষিদ্ধ।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ-আইসিডিডিআর, বি’র সহযোগী বিজ্ঞানী এম সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে মোট ১০ জন গবেষক এ গবেষণায় অংশ নেন। অন্যরা হলেন- আহমেদ রায়হান শরীফ, হোসেইন এম. এম সাজ্জাদ, এ কে এম দাওলাত খান, মুরশিদ হাসান, শিরিনা আক্তার, মাহমুদুর রহমান, স্টিফেন পি লুবি, জেমস ডি হেফেলফিনগার ও এমিলি এ গার্লে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, গবেষণাকালে তারা লিচুর বীজের কারণে মৃত্যু হবার কোনো প্রমাণ পাননি। লিচু বাগানে বিষাক্ত কৃষি রাসায়নিক ও কীটনাশক দ্রব্যাদি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই জমিতে ইনডোসালফেন নামক মারাত্মক বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে গবেষণায় বেরিয়ে আসে।
গবেষকরা জানতে পারেন, ওই শিশুরা লিচু বাগানের পাশেই অথবা ১০ মিটারের ব্যবধানে বাস করতো। তারা লিচু বাগানে খেলাধুলা করতো ও গাছ থেকে পাকা লিচু জমিতে পড়লে সেগুলো কুড়িয়ে না ধুয়েই খায়। লিচুর ওপরের শক্ত আবরণ দাঁত দিয়ে কামড়ানোর ফলে বিষাক্ত কীটনাশক পেটে যায়।
আক্রান্ত শিশুদের প্রত্যেকেই শুরুর দিকে কান্নাকাটির পর জ্ঞান হারায়। প্রত্যেকেই আড়াই ঘণ্টা থেকে ২০ ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়।
কে/এমকে




