ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩৯ এএম

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী বোঝা নয়, তারা সমাজেরই অংশ। তাদেরকে পিছিয়ে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবন বদলে গেছে। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও নানা কারণে এখনও দেশে প্রতিবন্ধীদের সমঅধিকার নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান চিকিৎসা, যাতায়াতসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত অবহেলিত হচ্ছেন। তারা যেন সমাজের সাধারণ আর দশটা মানুষের মতোই সব নাগরিক সুবিধা নিয়ে সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ এবং ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সমন্বিত উদ্যোগেই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত হবে। এর ফলে সমাজে পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠী যেমন উপকৃত হবে, তেমনই দেশ আরও অনেক এগিয়ে যাবে।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) ৩১তম আন্তর্জাতিক ও ২৪তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আরটিভির বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সবার বাংলাদেশ’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ শারীরিক, মানসিক এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধিতার শিকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ২৪ লাখ। তবে বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা ৪৭ লাখ ৪২ হাজার। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে এই সংখ্যা আরও বেশি। সরকার বিগত বছরগুলোতে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়েছে, দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ও গণপরিবহন ব্যবস্থা, স্থাপনা, প্রাত্যহিক নাগরিক সুবিধা গ্রহণ পদ্ধতি, শ্রমবাজার কোনোকিছুই এখনও প্রতিবন্ধীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। এমন একটি বাস্তবতার মধ্যে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ : প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। বক্তারা বলছেন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সমাজ এবং রাষ্ট্রের মনস্তত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম) মো. শাহীন বলেন, সমাজের অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সবাইকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরও এগিয়ে যেতে চাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে বৈষম্যহীনভাবে সবার জন্য সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সবাইকে উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার বিধান রেখেছেন। সংবিধানে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, অসুস্থ, পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, বিধবা কিংবা পিছিয়ে পড়া যেকোনও জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ব্যবস্থা আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেশের সকল ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। আরও যারা আছে, ধীরে ধীরে সবাইকে এর আওতায় আনা হবে। মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীর হাতে ভাতার টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। এ ছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সঙ্গে আমরা নিজেরাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আরও অত্যাধুনিক হোয়াইটক্যান (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাঁটার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন লাঠি) তৈরির জন্য কাজ করছি। প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের জন্য ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাভারে একটি প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সংসদ ভবনের পাশেই আরও একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে।

সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান (এন আই খান) বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে শিক্ষা। আমরা যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দিতে পারি, তাহলে তারা সমাজের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। এই শিক্ষার জন্য বিগত ১০-১৫ বছরে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। আমি যখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলাম, তখন ইনক্লুসিভ এডুকেশন শুরু করি। একজন অভিভাবক ফোন করে বলেছিলেন, স্যার আমার ছেলেকে তো পাগলদের সঙ্গে পড়ার জন্য পাঠাইনি। আমি উনাকে অনেক চেষ্টা করেও বিষয়টি বুঝাতে পারিনি। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হওয়ার পর এসএসি পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আধা ঘণ্টা সময় বেশি দিতে সার্কুলার জারি করেছিলাম। কিন্তু অনেকেই সেটা মানতে চাননি, খাতা নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর নেই, অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া দরকার, সেটা এখনও হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা সব উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল করতে পারিনি। এ ছাড়া সরকার থেকে একীভূত শিক্ষার কথা বলা হয়। কিন্তু সেখানেও কিছু সমস্যা আছে। শিক্ষকরা সবাই এ বিষয়ে ভালোভাবে প্রশিক্ষিত না। আমাদের একটা ভালো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান দরকার। যেখানে একীভূত শিক্ষা, সমন্বিত শিক্ষা কিংবা বিশেষ শিক্ষার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিষয়ে ভালোভাবে জানাশোনা বা পড়াশোনা করা শিক্ষক নিয়োগ দেয়া উচিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে পড়াশোনার ফ্যাকাল্টি খুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে চাপ দিতে হবে। এ ছাড়া রাস্তায় সঠিকভাবে চলাচল না করায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে আর প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এজন্য শুধু ট্রাফিক আইন কড়াকড়ি করলে হবে না, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুদের রাস্তায় চলাচল করার নিয়মগুলো শেখাতে হবে।

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষদের ভাতা দেওয়াটাই শেষ কথা নয়। বরং তাদেরকে শিক্ষিত ও স্বনির্ভর করা হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য প্রতিবন্ধীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দরকার। সবসময় পৃথকভাবে আইসোলেটেড শিক্ষা না দিয়ে, তাদেরকে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত করতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, তারাও সমাজের অংশ এবং সমমর্যাদার নাগরিক। এই বোধটা সবার মধ্যেই থাকতে হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ শিশুদের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে পারে। সেই সুযোগটাকে অবারিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় এবং বেসরকারিভাবে কর্মসংস্থান করা দরকার। একটি প্রতিষ্ঠানে এক হাজার কর্মী আছে। সেখানে অন্তত ১০ জন প্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থান করার কথা ভাবা উচিত। এটা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যেমন ভাবা দরকার, তেমনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুালোরও ভাবা দরকার। কিন্তু সেই ভাবনাটা আমাদের আছে বলে মনে হয় না। এটা কেবলমাত্র সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ না। এটা সব মন্ত্রণালয়ের কাজ। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে না রেখে, তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ যদি দেওয়া হয়, তাহলে তারা সব প্রতিযোগিতা করতে পারে এবং সমাজের সর্বোচ্চ স্থানে উঠতে পারে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাফল্যগুলোকে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তুলে ধরা দরকার।

উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুন্নাহার মিষ্টি বলেন, এইচএসসি পাস করার পর আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলাম, তারা আমাকে বলেছে ‘তুমি প্রতিবন্ধী তাই এখানে পড়তে পারবে না’। আমার প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয় কেন বলেনি, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, আমি তোমাকে নিতে পারছি না, দুঃখিত’। সেটা কিন্তু তারা করেনি। এটা আমার না, ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়কে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কাউকে পেছনে ফেলে রেখে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসেও আমাদের জন্য প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস নাই। যারা হুইলচেয়ার ছাড়া হাঁটতে পারি না, তারা বাসেও ওঠানামা করতে পারি না। রেলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করতে হবে, প্রতিটি রেলস্টেশনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ট্রেনে ওঠানামার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হবে, কর্মসংস্থান নীতিমালা হবে। কেনো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এখনও সেটি বাস্তবায়ন করছে না? আমরা ২ শতাংশ বাজেট চাই না। আমরা ভাতা চাই না, সঠিক কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবন ব্যবস্থা চাই। আমরা আমাদের পরিবারের বোঝা হব না, সমাজকে কন্ট্রিবিউট করব।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন প্রতিবন্ধীবান্ধব নেতা। অতীতে অভিভাবকরা তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে আড়াল করে রাখত। এখন কিন্তু সেই অবস্থাটা নেই। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা দিচ্ছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ৬০০ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকা করে প্রতিমাসে দিচ্ছে। একই সঙ্গে অটিজমের চিকিৎসার জন্য প্রত্যেককে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে পরবর্তীতে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গৃহহীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ঘর দিচ্ছেন। আমরা সবসময় তাদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আরও বেশি সচেষ্ট হব। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিতে হবে বিষয়টা এমন নয়। যার যেই সাপোর্ট দরকার, তাকে সেটাই দিতে হবে। অনেকে আছেন যাদের চিকিৎসা দিয়েই সুস্থ করে ফেলা সম্ভব, তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটা পারবে না। সমাজকল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশুসহ সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের প্রত্যেককে যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। তাদের সুস্থ করে তুলতে আমাদের সদিচ্ছা দরকার।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নুর মোহম্মদ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তরিকুল ইসলাম নাজিমসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় তারা তাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সৈয়দা মুনিরা ইসলাম। আরটিভির এই বিশেষ আয়োজনের প্রিন্ট মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক সমকাল।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আর নেই
সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। এদিকে, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী খন্দকার মাহবুব হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের ১৯৩৮ সালের ২০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। খন্দকার মাহবুব ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আদালতের প্রধান কৌঁসুলী ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আর নেই
৬ মাসে পদ্মা সেতু থেকে যত টাকা টোল আদায় হলো
পদ্ম সেতু উদ্বোধনের পর গত ৬ মাসে ৩৯৫ কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৫১ হাজার ৯১৭ টাকা। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন সকাল ৬টা থেকে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতু বিভাগের হিসাবে গত ৬ মাসে পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯০টি। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৭১৮টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এ ছাড়া মাসের হিসাবে পদ্মা সেতু থেকে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৭৮ কোটি ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ৬০ কোটি ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৫০ টাকা। পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের কাজটি যৌথভাবে করছে পদ্মা সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান কোরিয়া এক্সপ্রেস করপোরেশন। তাদের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে  কাজটি করছে বাংলাদেশের টেলিটেল কমিউনিকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী রাজন বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান প্রতিদিনের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেতু কর্তৃপক্ষের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যায়। আর সেতুর কোন প্রান্ত দিয়ে কত যানবাহন পারাপার হয়, কোন প্রান্তে কত টাকা টোল আদায় হয়, তা প্রতিদিন ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হয়।
৬ মাসে পদ্মা সেতু থেকে যত টাকা টোল আদায় হলো
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
সিনিয়র সচিব ও সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা
বছরের শেষ দিনে পদোন্নতি প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া  দুইজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালামকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মহিউদ্দিন আহমেদকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিককে ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
সিনিয়র সচিব ও সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা
নতুন বছরে সব সংকট দূরীভূত হোক : প্রধানমন্ত্রী
দেশবাসীকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন বছরে সব সংকট দূরীভূত হবে এমন আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক, সব সংকট দূরীভূত হোক, সব সংকীর্ণতা পরাভূত হোক এবং সবার জীবনে আসুক অনাবিল সুখ-শান্তি— এই প্রার্থনা করি। খ্রিস্টীয় নতুন বছর ২০২৩ উপলক্ষে আমি দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। প্রকৃতির নিয়মেই নতুন বছর মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে এবং নবউদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন, ২০২২ বাঙালি জাতির জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করি। ১৯৭২ সালে এশিয়ার প্রায় সব দেশ, রাশিয়া, তৎকালীন সোভিয়েত ব্লকের অন্যান্য দেশ, ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ, ফ্রান্স, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ স্বাধীন রাষ্ট্র নবীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় এবং জনগণের কল্যাণ হয়। কারণ একমাত্র আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার সুমহান আদর্শকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে। আসুন আমরা দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি এবং ধর্মীয় উগ্রবাদসহ সন্ত্রাসবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি । তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলো ২০২২ সালে বছরব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শূন্যহাতে সদ্য স্বাধীন দেশকে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে টেনে তুলেছিলেন। তখন ব্যাংকে কোনো রিজার্ভ মানি ছিল না, কোনো কারেন্সি নোট ছিল না। অবজ্ঞা করে কেউ কেউ বলতো তলাবিহীনঝুড়ি। সেই অবস্থা থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন এবং জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেন। ২০২২ সাল বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এক স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা গত বছর ২৬ জুন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু চালু করেছি। ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল যোগাযোগ চালু করেছি। ২১ ডিসেম্বর দেশের ৫০টি জেলায় উন্নয়ন করা ১০০টি মহাসড়ক উদ্বোধন করেছি। তিনি বলেন, ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল'-এর দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজ সম্পন্ন করেছি। ৭ নভেম্বর দেশের ২৫টি জেলায় ১০০টি সেতু নির্মাণ করে উদ্বোধন করেছি। ১৯ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-২ এর রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন করেছি। ২১ মার্চ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১ম পর্যায়) উদ্বোধন করেছি। আমাদের অন্যান্য মেগা ও মাঝারিসহ সব অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে পরপর তিন দফা জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে গত ১৪ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও কিছুটা মন্থর হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ সারা পৃথিবীতে নিরীহ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। এই দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা দেশের প্রায় সব মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, করোনা ভ্যাকসিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্যও সরবরাহ করেছি। আমরা ১ কোটি পরিবারকে টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি ক্রয়ের সুবিধা দিয়েছি। ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল এবং আরো ৫০ লাখ অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে ভিজিডি ও ভিজিএফের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৩৫ লাখ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দিচ্ছি। আমাদের ১ কোটি কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সরাসরি সরকারি ভর্তুকির টাকা নিচ্ছেন।  তিনি বলেন, আমরা ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি। ইংরেজি বছরের প্রথম দিন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়ার কারণে বই উৎসবের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন আজ শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অন্যতম সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামাঞ্চলে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করেছি। ফলে আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে, দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, মাথাপিছু আয়সহ অন্যান্য সামাজিক সূচকেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছি। ২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি।
নতুন বছরে সব সংকট দূরীভূত হোক : প্রধানমন্ত্রী