ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানিদের শেষ চেষ্টা ও একটি আত্মসমর্পনের দলিল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৬ এএম

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তার সমাপ্তি হয় ১৬ ডিসেম্বর। নয় মাসের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে রেসকোর্সের ময়দানে সৈন্যবহরসহ পাকিস্তানের ইস্টার্ণ কমাণ্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন একটি দেশের জন্ম হয়, নাম বাংলাদেশ। এই দেশের স্থপতির নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আত্মসমর্পনের আগের শেষ কটা দিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ডিসেম্বরের প্রথম থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) অবস্থান করা পাকিস্তানি বাহিনী এদেশকে নিয়ন্ত্রণের শেষ চেষ্টা করেছে, ১৪ ডিসেম্বর হাজার হাজার বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে, পাকিস্তানি বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করেছে। এছাড়া এই মাসের মধ্য ভাগে বিজয়ের ৩ দিন আগে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর বিপরীতে রাশিয়া পূর্ব পাকিস্তানকে (বাংলাদেশ) সহযোগিতা করার জন্য অস্টম নৌবহর পাঠায়। এর ফলে উত্তেজনা তৈরি হয় সমুদ্রে।

১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রায় সব এলাকা হারিয়ে বসেছে তখন পশ্চিম পাকিন্তানের সঙ্গে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোনালাপে বেশির সময় কাটাতে দেখা গেছে ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল নিয়াজিকে। এদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ড. মালেকের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি ১৯৭১ সালের আজকের দিনে জাতিসংঘের কাছে সহযোগিতা চেয়ে এক বার্তা পাঠায়।

এদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ড. মালেকের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি ৭১’ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক ও বেসামরিক পাকিস্তানিদের পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করা হয়।

কিন্তু জাতিসংয়ে পাকিস্তানের স্থায়ী দূত আগাশাহী সে বার্তা না গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান জাতিসংঘ বরাবর। এই অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানে যখন পাকিস্তানি সৈন্য প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে আত্মসমর্পনের কথা ভাবছিল তখন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত যশোরের টাউন হল মাঠে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো হলো: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২৫ মার্চের আগের মালিককে সম্পত্তি ফেরত দান, সব নাগরিকের সমঅধিকার এবং চারটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ। বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে যশোর সার্কিট হাউসে বলেন, তারা তাড়াতাড়ি সংবিধান রচনা করবেন যা ২৪ বছরে পাকিস্তান করতে পারেনি।

অন্যদিকে, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতিনিধি ভোরেন্ডসভকে হুঁশিয়ার করে বলেন, পরদিন (১২ ডিসেম্বর) মধ্যাহ্নের আগে ভারতকে অবশ্যই যুদ্ধ বিরতি মেনে নিতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুঁশিয়ারি সামান্যতম মনোবল ভাঙতে পারেনি মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীদের। ।

মুক্তিবাহিনীর বীর ক্র্যাক প্লাটুন সকাল ১০টায় তোপখানা রোডের মার্কিন তথ্যকেন্দ্র অভ্যন্তরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায়। গেরিলারা সারা ঢাকার প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানি বাহিনী হেলিকপ্টারে করে কমান্ডো নামানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ঢাকার চার পাশে মিত্রবাহিনী নির্দিষ্ট এলাকায় রাতে ছত্রীসেনা অবতরণ করায়। এর পরদিন মুক্তিসেনার ঢাকায় ঢুকে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেলভিন লেয়ার্ড ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অপসারণের ব্যাপারে তার দেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এন্টারপ্রাইজের ভারত মহাসাগরের দিকে যাত্রা শুরু করার খবরটি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

দিল্লিতে ভারত সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহরের উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। ঢাকায় আটকে পড়া কয়েক শ নাগরিককে উদ্ধার করার জন্য এই শক্তি প্রদর্শন অপ্রয়োজনীয়। সপ্তম নৌবহর যাত্রা করে থাকলে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির জন্যই তা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস ওই খবরে ওয়াশিংটনের একটি খবর উদ্ধৃত করে আরও বলে, সোভিয়েত ইউনিয়নও ভারত মহাসাগরে তার নৌশক্তি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার সংবাদদাতা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভারত মহাসাগরে একটি রাশিয়ান নৌবহর সমবেত হয়েছে। প্রায় এক ডজন যুদ্ধজাহাজ এবং আণবিক শক্তিচালিত ১০টি সাবমেরিন এ নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

শেষে পর্যণ্ত আমেরিকার সপ্তম নৌবহর পেছনের চলে গেলে রাশিয়ার অষ্টম নৌবহরও সরে যায়।

পাকিস্তান সরকার যখন বুঝতে পারে তাদের পরাজয় নিশ্চিত তখন ভয়ঙ্কর একটি পরিকল্পনা করে। এদেশে তাদের দোসরদের সহযোগিতায় সারা দেশ বিশেষ করে ঢাকায় অবস্থানরত বুদ্ধিজীবী হত্যায় নামে। শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী সহ বুদ্ধিজীবীদের গণহারে হথ্যা চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মাটিতে পুতে রাখে। যুদ্ধের নয়মাসে পরিরকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা চালালেরও ১৪ ডিসেম্বর তারা একযোগে বুদ্ধিজীবী নিধনে নামে। তাদের এই হত্যাকাণ্ডে আমরা হারিয়েছি জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের।

১৫ ডিসেম্বর একবার জাতিসংঘের সঙ্গে আবার পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চালিয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কমাণ্ড প্রধান জেনারেল নিয়াজী। রাশিয়ার প্রশ্নে কিছুতেই আর সামনে এগোয়নি আমেরিকা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার আমতা আমতা শুরু করে। এই অবস্থায় রাও ফরমান আলীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জেনারেল নিয়াজী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নেয়। এবং বিশেষ মারফত যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের বার্তা পাঠায় এ দু’জন।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর দেওয়া প্রায় সব শর্তই মেনে নেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী। পাকিস্তান চেয়েছিল গোপনে আত্মসমর্পন অনুষ্ঠান করবে। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব জানিয়ে দেন, অনুষ্ঠান হবে প্রকাশ্যে।

অবশেষে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ৯১ হাজার ৫৪৯ জনের সৈন্যবহরসহ আত্মসমর্পনের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের কমান্ডার লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন কমান্ডার-ই-চিফ লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছিলেন সেসময়ে বিমান বাহিনীর প্রধান ও মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার কমোডর এ কে খন্দকার।

আত্মসমর্পনের দলিলে যা লেখা আছে-

পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশি যৌথ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে, পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানের সব সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পনে সম্মত হলো।

পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সব আধা-সামরিক ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আত্মসমর্পণ প্রযোজ্য হবে। এই বাহিনীগুলো যে যেখানে আছে, সেখান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কর্তৃত্বাধীন নিয়মিত সবচেয়ে নিকটস্থ সেনাদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ ও আত্মসমর্পণ করবে।

এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নির্দেশের অধীন হবে। নির্দেশ না মানলে, তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার প্রেক্ষিতে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আত্মসমর্পনের শর্তাবলীর অর্থ অথবা ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দিলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করছেন এবং আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সামরিক ও আধা-সামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার করছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেওয়া হবে।

সূত্র:

* মূলধারা '৭১, মঈদুল হাসান। দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত, দ্বিতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ অক্টোবর ১৯৯৫।
* দি লিবারেশন অব বাংলাদেশ, মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং।
*‘স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রবাসী বাঙালী’, আবদুল মতিন, র‌্যাডিক্যাল পাবলিকেশনস, লন্ডন, যুক্তরাজ্য; আনন্দবাজার পত্রিকা, কলকাতা, ভারত, ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১; দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১।

* ভাষান্তর: মাসুদুল হক, উইটনেস টু সারেন্ডার, (নিয়াজীর আত্মসমর্পণের দলিল); সাহিত্য প্রকাশ, ১৯৮৮ ও ২০০৭।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আর নেই
সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। এদিকে, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী খন্দকার মাহবুব হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের ১৯৩৮ সালের ২০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। খন্দকার মাহবুব ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আদালতের প্রধান কৌঁসুলী ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আর নেই
৬ মাসে পদ্মা সেতু থেকে যত টাকা টোল আদায় হলো
পদ্ম সেতু উদ্বোধনের পর গত ৬ মাসে ৩৯৫ কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৫১ হাজার ৯১৭ টাকা। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন সকাল ৬টা থেকে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতু বিভাগের হিসাবে গত ৬ মাসে পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯০টি। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৭১৮টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এ ছাড়া মাসের হিসাবে পদ্মা সেতু থেকে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৭৮ কোটি ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ৬০ কোটি ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৫০ টাকা। পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের কাজটি যৌথভাবে করছে পদ্মা সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান কোরিয়া এক্সপ্রেস করপোরেশন। তাদের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে  কাজটি করছে বাংলাদেশের টেলিটেল কমিউনিকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী রাজন বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান প্রতিদিনের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেতু কর্তৃপক্ষের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যায়। আর সেতুর কোন প্রান্ত দিয়ে কত যানবাহন পারাপার হয়, কোন প্রান্তে কত টাকা টোল আদায় হয়, তা প্রতিদিন ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হয়।
৬ মাসে পদ্মা সেতু থেকে যত টাকা টোল আদায় হলো
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
সিনিয়র সচিব ও সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা
বছরের শেষ দিনে পদোন্নতি প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া  দুইজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালামকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মহিউদ্দিন আহমেদকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিককে ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
সিনিয়র সচিব ও সচিব হলেন ৪ কর্মকর্তা
নতুন বছরে সব সংকট দূরীভূত হোক : প্রধানমন্ত্রী
দেশবাসীকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন বছরে সব সংকট দূরীভূত হবে এমন আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক, সব সংকট দূরীভূত হোক, সব সংকীর্ণতা পরাভূত হোক এবং সবার জীবনে আসুক অনাবিল সুখ-শান্তি— এই প্রার্থনা করি। খ্রিস্টীয় নতুন বছর ২০২৩ উপলক্ষে আমি দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। প্রকৃতির নিয়মেই নতুন বছর মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে এবং নবউদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন, ২০২২ বাঙালি জাতির জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করি। ১৯৭২ সালে এশিয়ার প্রায় সব দেশ, রাশিয়া, তৎকালীন সোভিয়েত ব্লকের অন্যান্য দেশ, ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ, ফ্রান্স, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ স্বাধীন রাষ্ট্র নবীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় এবং জনগণের কল্যাণ হয়। কারণ একমাত্র আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার সুমহান আদর্শকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে। আসুন আমরা দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি এবং ধর্মীয় উগ্রবাদসহ সন্ত্রাসবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি । তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলো ২০২২ সালে বছরব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শূন্যহাতে সদ্য স্বাধীন দেশকে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে টেনে তুলেছিলেন। তখন ব্যাংকে কোনো রিজার্ভ মানি ছিল না, কোনো কারেন্সি নোট ছিল না। অবজ্ঞা করে কেউ কেউ বলতো তলাবিহীনঝুড়ি। সেই অবস্থা থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন এবং জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেন। ২০২২ সাল বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এক স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা গত বছর ২৬ জুন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু চালু করেছি। ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল যোগাযোগ চালু করেছি। ২১ ডিসেম্বর দেশের ৫০টি জেলায় উন্নয়ন করা ১০০টি মহাসড়ক উদ্বোধন করেছি। তিনি বলেন, ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল'-এর দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজ সম্পন্ন করেছি। ৭ নভেম্বর দেশের ২৫টি জেলায় ১০০টি সেতু নির্মাণ করে উদ্বোধন করেছি। ১৯ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-২ এর রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন করেছি। ২১ মার্চ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১ম পর্যায়) উদ্বোধন করেছি। আমাদের অন্যান্য মেগা ও মাঝারিসহ সব অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে পরপর তিন দফা জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে গত ১৪ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও কিছুটা মন্থর হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ সারা পৃথিবীতে নিরীহ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। এই দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা দেশের প্রায় সব মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, করোনা ভ্যাকসিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্যও সরবরাহ করেছি। আমরা ১ কোটি পরিবারকে টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি ক্রয়ের সুবিধা দিয়েছি। ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল এবং আরো ৫০ লাখ অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে ভিজিডি ও ভিজিএফের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৩৫ লাখ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দিচ্ছি। আমাদের ১ কোটি কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সরাসরি সরকারি ভর্তুকির টাকা নিচ্ছেন।  তিনি বলেন, আমরা ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি। ইংরেজি বছরের প্রথম দিন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়ার কারণে বই উৎসবের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন আজ শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অন্যতম সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামাঞ্চলে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করেছি। ফলে আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে, দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, মাথাপিছু আয়সহ অন্যান্য সামাজিক সূচকেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছি। ২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি।
নতুন বছরে সব সংকট দূরীভূত হোক : প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
মেট্রোরেল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগামী সৈনিক কামরুল ইসলাম সিদ্দিক
চাঁদপুরে ৪ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা পেলেন সম্মাননা
ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওমর ফারুকের মা\'   
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সম্মাননা পাচ্ছেন ৪ বাচসাস সদস্য