
‘অধিকার বঞ্চিত বেকার সমাজ’-এর ব্যানারে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে কোটা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‘অধিকার বঞ্চিত বেকার সমাজ’-এর আহ্বায়ক তারেক রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, বৈষম্য বিধায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সব নিয়োগে কোটা বাতিল হওয়া শর্তেও সরকারি নিয়োগ বিধি এবং সংবিধানে বর্ণিত নিয়োগের নীতিমালাকে লঙ্ঘন করে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ বিধি-২০১৯-এ বিশেষ বিধান নামে একটি বিধান যুক্ত করে সমাজের অনগ্রসর শ্রেণি নয়, এমন গোষ্ঠীকে সিংহভাগ কোটা প্রদান করে নিয়োগের নিমিত্তে একটি তালিকা প্রদান করে। ৬০ শতাংশ নারী কোটা, ২০ শতাংশ পোষ্য বা শিক্ষকের পারিবারিক কোটা, ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা প্রয়োগ করে, যেখানে এইসব কোটার ওপর ২০ শতাংশ বিজ্ঞান কোটা প্রয়োগ হবে। এমন সিদ্ধান্তে ৩৭ হাজার ৫৭৪টি পদের নিয়োগে খুব অল্পসংখ্যক পুরুষ নিয়োগ পায়। এমনকি আমরা জানতে পেরেছি মাঠপর্যায়ে তথ্য বিশ্লেষণ করে যে বৈষম্যমূলক কোটায় নিয়োগ বাস্তবায়ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ভিন্ন ভিন্ন কাটমার্কে কোটায় পরীক্ষার্থীদের পাস দেখিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। বিষয়টা এমন জানতে পেরেছি যে, নম্বরপত্র লুকিয়ে তারা কাউকে ৪০ মার্কে নিয়োগ দিয়েছে আবার কেউ ৫৫ মার্ক পেয়েও নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারি নিয়োগের সবচেয়ে বড় সেক্টর সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এমন বৈষম্যের কারণে বেকার যুবকদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা হয়েছে। রুল জারির পর থেকেই গত এক বছরে বিভিন্ন সময় শুনানির আবেদন করলে আদালত গড়িমসি করে শুনানি বিলম্বিত করেন। এ অবস্থায় গত ১৪ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ হলে, ক্ষতিগ্রস্ত বেকার যুবকরা হতাশ হয়ে পড়ে। কারণ, এমন একটি যৌক্তিক বিষয়ে আদালত ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করে তাদের ন্যায়বিচার বঞ্চিত করেছে।’
‘অধিকারবঞ্চিত বেকার সমাজ’-এর আহবায়ক মো. তারেক রহমান আরও বলেন, আজকের এই কর্মসূচিতে আমরা একত্রিত হয়েছি, আদালতের বিচার প্রদানের অনীহার বিষয়টি সামনে এনে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির লক্ষে। আমরা যুবকরা, না সরকার, না জনপ্রশাসন, না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর; কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছি না। এত বড় একটা বৈষম্যের বিষয়ে আমাদের ন্যায়বিচার দিল না আদালত, ন্যায় বিচারবঞ্চিত করল রাষ্ট্র।
‘অধিকারবঞ্চিত বেকার সমাজ’-এর দাবিসমূহ :
১. বৈষম্যমূলক এই ফলাফল বাতিল করে এক ও অভিন্ন কাটমার্কে পুনরায় ফলাফল ঘোষণা করা। ২. কোটা বাতিলের সরকারি পরিপত্র মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। ৩. শিক্ষক নিয়োগে বিদ্যমান নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করে নতুন কোটামুক্ত পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হোক।
তারেক দাবি জানান, এই সমাজ যেহেতু সব শ্রেণির মানুষের দেওয়া ভ্যাট-টাক্সে চলে তাই কোনো শ্রেণিকে ঠকিয়ে অন্য শ্রেণিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার এখতিয়ার সংবিধান আমাদের দেয়নি। যেহেতু রাষ্ট্র বেকার ভাতার মতো কোনো কর্মসূচি হাতে নিতে পারছে না, তাই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক, রেলওয়েসহ অন্যান্য সেক্টরে যতটুকু নিয়োগের সুযোগ আছে, তাতে প্রতিবন্ধীদের মতো অনগ্রসর শ্রেণির কোটা রেখে বাকি সব অনৈতিক কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, অধিকার বঞ্চিত বেকারসমাজের পক্ষ থেকে চাকরিপ্রত্যাশী মো. তারেক রহমানে পক্ষে আইনজীবী একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে একটি রিটপিটিশন করলে, আদালত রুল জারি করেন কোটা বাতিলের পক্ষে। ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রুল জারি করা হলেও গত এক বছরে কোনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি ওই রুলের প্রেক্ষিতে।




