
রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে ছেলের সামনে বাবা সাহিনুদ্দীনকে (৩৩) কুপিয়ে হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) ধার্য দিনে পিবিআই মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না-পারায় নতুন এ দিন ধার্য করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক ইসমাইল হোসেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে এ মামলার তদন্ত শেষে সাবেক এমপি এম এ আউয়ালসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। কিন্তু এতে এ তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন সাহিনুদ্দীনের মা। পরে ১২ মে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
ডিবি পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটে বাকি আসামিরা হলেন—সুমন বেপারী, টিটু, কিবরিয়া, মুরাদ হোসেন, আবু তাহের, ইব্রাহিম সুমন, রকি তালুকদার, শফিকুল ইসলাম, তুহিন মিয়া, হারুন অর রশীদ, তারিকুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ, হাসান ও ইকবাল হোসেন।
এ মামলায় ১৩ আসামি কারাগারে এবং তাদের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ মে বিকেলে জমির বিরোধের মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দীনকে পল্লবী থানার ডি-ব্লকের একটি গ্যারেজের ভেতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আকলিমা বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার পরদিন (১৭ মে) পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে সুমন ও টিটু নামের দুই যুবক সাহিনুদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে জানিয়ে ফোন করে ডেকে নেয়। সাহিন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে গেলে সুমন ও টিটুসহ ১৪-১৫ জন মিলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যায়। এ সময় সাহিনুদ্দীনের ৬ বছর বয়সী ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল। তারা সাহিনকে গ্যারেজে ঢুকিয়ে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর তাকে ওই গ্যারেজ থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে আবার কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই সাহীনের মৃত্যু হয়।
আকলিমার অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রোপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সাহিনকে হত্যা করেছে। আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেওয়ায় তাকে খুন করা হয়।




