
২০২২ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য ১৪ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) লালমাটিয়া কার্যালয়ে সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সংগঠনের সিনিয়র সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবীর।
আসকের সুপারিশগুলো হলো-
গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এ আইনে মামলা গ্রহণ না করার নির্দেশ দিতে হবে।
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। এ অধিকার যথাযথভাবে চর্চার পরিবেশ তৈরি এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং সম্পৃক্তদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি প্রদান করতে হবে।
নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইনগুলোর পরিবর্তন আনতে হবে। নারীর অধিকার সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। শিক্ষা কারিকুলামে সমমর্যাদা, সমানাধিকার, বৈষম্যহীতা, বৈচিত্রতার প্রতি সম্মান প্রভৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এ পর্যন্ত সংঘটিত সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তের জন্য নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দেশের যেকোনো নাগরিককে আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
২০০৭ সালে আইন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ক্রাইম ভিকটিম কম্পেনসেশন অ্যাক্ট’ আইনে পরিণত করার পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন করতে হবে।
ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করে কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটে তার জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজ বিশ্বাস ও রীতি চর্চার অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
‘সাক্ষ্য আইন (সংশোধন) বিল, ২০২২’ দ্রুততার সঙ্গে গেজেট আকারে প্রকাশ এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের ১৮ দফা নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে মেনে চলা এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মানবাধিকারকর্মী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ দ্রুত সংশোধন করতে হবে। কমিশনের প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগের জন্য একটি উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার ভোগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
সাধারণ জনগণের জন্য রেশন কার্ড চালু করতে হবে।
অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও সহযোগিতায় বিদেশে দূতাবাসগুলোতে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালুসহ অন্যান্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আসকের নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন ও পরিচালক অ্যাডভোকেট নীনা গোস্বামী।




