
‘রূপান্তরের অভিযাত্রায় সবার জন্য নিউরোবান্ধব অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গঠন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রোববার (২ এপ্রিল) দেশব্যাপী পালিত হয়েছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। ১৬তম বছরের মতো এবারও পালিত হয়েছে দিবসটি।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হাতে নিয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। ১ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে দুই রাত বাংলাদেশ সচিবালয়সহ সব সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় নীল বাতি প্রজ্বলন করা হয়।
অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মানে রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আয়োজনে অটিজম বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখায় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১০ জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
ফাবলিহা আজিম একজন তীব্রমাত্রার অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মেয়ে ছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন থেরাপি, চিকিৎসার মাধ্যমে তার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি একজন সেলফ অ্যাডভোকেসি হিসেবে কাজ করছেন এবং ‘প্রতিবন্ধী মানে প্রতিভাবন্ধী নয়’ এই শ্লোগানটি বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এই বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ভ্রমণকারী অটিজম ব্যক্তি হিসেবে ও সমাজে নিজেকে একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এ ছাড়া তিনি একজন র্যাম্প মডেল হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মডেল হিসেবে কাজ করছেন। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল ব্যক্তি হিসেবে ফাবলিহা আজিমকে ‘অটিজম সম্মাননা-২০২৩’ প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা. গোলাম রব্বানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, একসময় অটিজম একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যু ছিল। এ সম্পর্কে সমাজে নেতিবাচক ধারণা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অটিজম বিশেষজ্ঞ ও স্কুল সাইকোলজিস্ট সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ২০০৭ সালে এ বিষয়ে দেশে কাজ শুরু করেন। তিনি এই অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে তার বিরাট অবদানের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. গোলাম রব্বানী বলেন, অটিজম বা অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শিশুদের একটি স্নায়ুবিক-বিকাশ এবং হরমোনজনিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। অটিজমের কারণে শিশুর কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি ও আচার-আচরণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকায় শিশুর মানসিক ও ভাষার ওপর দক্ষতা কম হয়।
অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকার, সমাজ ও পরিবারের সকল সদস্যকে এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো শিশু অটিজমে আক্রান্ত মনে হলে অনতিবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
এ ছাড়াও রোববার দুপুর ২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট মিলনায়নে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো- ডেভেলপমেন্টাল ডিজএবলিটিজ কর্তৃক সুবর্ণ জয়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেহাল আহমেদ এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।




