ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প

এক শেখ হাসিনায় বদলে গেছে লাখো জাহেরার জীবন

সজিব খান

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জাহেরা বেগম। প্রতিবন্ধী স্বামী ও চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে এক সময় খালের পাড়ে বসবাস করতেন তিনি। খালের পানি খেয়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দিন কাটত তাদের। রাস্তার পাড়ে থাকায় তাদের কোনো সমাজ ছিল না। গৃহহীন হওয়ায় লোকে তাদের সম্মান তো দিতই না, কেবল অবহেলা করত। কিন্তু এখন আর জাহেরা বেগমের সেইদিন নেই। তিনি এখন তার পরিবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন। নিজ বাড়ির আঙিনায় হাস-মুরগী পালন, শাকসবজি চাষ ও নকশীকাঁথার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন জাহেরা। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুইশতক জমিসহ ঘর পরিবারটির জীবন বদলে দিয়েছে। জাহেরা বেগম বলেন, আমাদের গর্ভধারিণী মা আমাদের যা দিতে পারেননি, শেখ হাসিনা আমাদের তা দিয়েছেন। এজন্য উনার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।

আশ্রয়ণের ঘর পাওয়া সুবিধাভোগীদের আরেকজন ভ্যানচালক আবদুর রহিম। চার মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ব্রিজের গোঁড়ায় ঝুপড়ির মতো ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করতেন তিনি। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়তো। জীবনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তাদের। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার পর তাদের আর সেই সমস্যা নেই। রহিম বলেন, আমাদের নিজের কোনো ঘর ছিল না। অর্থের অভাবে মেয়েদের পড়াশোনাও করাতে পারিনি। যা রোজগার করতাম সংসারই ঠিকমতো চলত না। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘর পেয়ে আমরা খুবই ভালো আছি। এখানে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, পানি, বিদ্যুৎ ও রাস্তাসহ সব ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের জীবন এখন আর আগের মতো নেই, পুরোপুরি বদলে গেছে। লোকে এখন আমাদের সম্মানের চোখে দেখে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণের ঘরে থেকে নিজের তিন মেয়েকে পড়াচ্ছেন। বড় মেয়েকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের অফিসারের কাছে বিয়ে দিয়েছেন। শুনে চোখ কপালে উঠলেও, এটাই বাস্তব। আশ্রয়ণের ঘর এভাবেই তাদের জীবন বদলে দিয়েছে। অন্যদিকে পাশের গ্রামের বিন্নাকান্দির বাসিন্দাদের একই চিত্র। মাত্র দুই বছর আগেও এখানকার শাহানা বেগম ও শরিফ উদ্দিন আর দশটা হতদরিদ্র পরিবারের মতোই ছিল। আজ তাদের রয়েছে ছয়টি গরু, একটি ছাগল, সঙ্গে একটি মিশুক। দুই ছেলে এখন স্কুলে যায়। স্বামীর পরিশ্রমের অর্ধেক টাকা সঞ্চয় হয় তাদের পরিবারে। তিন সন্তান ও স্বামী নিয়ে আগের থেকে অনেক ভালোই আছেন শাহানা বেগম। তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণের ঘর পাওয়ার আগে আমাদের জীবন এমন ছিল না। আমরা আগে মাটির ঘরে থাকতাম, খুব কষ্ট করে থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘর পাওয়ার পর এখন অনেক ভালো আছি। শেখ হাসিনার জন্য এখন আমাদের জীবনে কোনো দুঃখ নেই।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী আরেকজন লক্ষ্মীপুরের মনিরা বেগম। তাদের কোনো জমি বা ঘর ছিল না। পরিবার নিয়ে কার্যত খোলা আকাশের নিচে বাস করতেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই শতক জমিসহ ঘর পেয়ে মনিরার মুখে হাসি ফুটেছে। মনিরার মতে, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া বিনামূল্যে ‘উপহার’ হিসেবে এক টুকরা জমি ও বাড়ি হাজার হাজার আশ্রয়হীন মানুষকে খুশি করেছে। মনিরা বললেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প আমার পরিবারের জীবনধারাকে বদলে দিয়েছে, কারণ বাড়িটি আমাকে জীবিকার উৎস এবং সেইসাথে পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যবিধি এবং স্যানিটেশনের মতো কিছু অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এভাবেই সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বেদে, তৃতীয় লিঙ্গ, জলবায়ু উদ্বাস্তু, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকল ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষদের দুই শতক জমিসহ ঘর দিয়ে তাদের সামাজিক মান মর্যাদা উন্নত করা এবং তাদেরকে উন্নয়নের মূলস্রোতে নিয়ে আসছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শুধু নোয়াখালীর জাহেরা বেগম, সিলেটের আইয়ুব আলী ও শাহনা বেগমই নয়, তাদের মতো আরও লাখ লাখ পরিবারের জীবন বদলে গেছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ ঘর পাওয়ার পর। কেননা শেখ হাসিনার সরকার শুধু জমিসহ ঘর দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি। বরং উপকারভোগীদের স্থায়ীভাবে জীবন মান উন্নয়নের জন্য ভিজিএফ সুবিধা প্রদান, কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সমবায় সমিতি গঠন ও ঋণ প্রদান, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, পুকুর খনন ও মৎস্য চাষ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ প্রদান, বৃক্ষরোপণ, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এবং বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রমসহ আরও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ ছিন্নমূল মানুষ পুনর্বাসিত হয়েছেন। উপকারভোগীর সংখ্যা ও পুনর্বাসন পদ্ধতি বিবেচনায় এটি বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচি। কিছুদিন আগেও যাদের ছিল না কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই, তারা এখন রঙিন টিন আর আধাপাকা বাড়িতে বসবাস করছেন। প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে কৃষি থেকে শুরু করে নানান কাজের মধ্যে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন তারা। কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় শাক-সবজির চাষ করছেন, আবার কেউ কেউ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, কবুতর লালন পালন করে স্বনির্ভর হয়েছেন। তাদের বদলে যাওয়ার গল্পগুলো প্রায়ই দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পর ইতিহাস-
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতার পর একদিকে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠনের মহাযজ্ঞ, অন্যদিকে আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারানো অসহায় ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করা সদ্য স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রনায়কর কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা গ্রামে ভূমিহীন-গৃহহীন, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর দেশের গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসনের মতো জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো পুনরায় শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিনে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন এবং একই বছর তিনি সারাদেশের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’। এ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি এদেশের ভাগ্যবিড়ম্বিত ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বদলে দেওয়ার এক নতুন উন্নয়ন দর্শনের গোড়াপত্তন করেন।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য-
ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন করা, প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা, আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ, উপার্জন ক্ষমতা ও সঞ্চয় বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, সম্মানজনক জীবিকা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, নারীদের জমিসহ ঘরের অর্ধেক মালিকানা দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন করা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ অর্জন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়িয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন করা, ব্যাপকহারে বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশের উন্নতি সাধন করা এবং গ্রামেই শহরের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

উপকারভোগীর পরিসংখ্যান-
২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ বলে ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের তালিকা করা হয়। তালিকা অনুযায়ী ‘ক শ্রেণি’ অর্থাৎ একেবারেই ভূমিহীন ও গৃহহীন ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩৬১ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এ ছাড়া যার জমি আছে কিন্তু ঘর নেই অথবা জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর ঘর রয়েছে এমন ‘খ শ্রেণি’ ভুক্ত ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত চারটি ধাপে সারাদেশে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে গড়ে পাঁচজন করে সদস্য হিসাবে মোট ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫ জন ছিন্নমূল মানুষ পুনর্বাসিত হয়েছেন। উপকারভোগীর সংখ্যা ও পুনর্বাসন পদ্ধতি বিবেচনায় এটি বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দেশের ২১টি জেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্প চলমান থাকবে বলে জানা গেছে।

যেসব সুবিধা পাচ্ছেন উপকারভোগীরা-
আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী যৌথ মালিকানায় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুপেয় পানির সুবিধাসহ ২ শতক জমি ও একটি সেমি পাকা ঘরের মালিক হচ্ছেন। এতে রয়েছে গোসলখানা, টয়লেট ও রান্নাঘর। প্রকল্প এলাকায় প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো হচ্ছে। প্রতি ১০টি পরিবারের সুপেয় পানির জন্য থাকছে একটি করে নলকূপ। ফলে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকবেন সুবিধাভোগীরা। তাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। আশ্রয়ণের ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের শরীর গঠন ও বিনোদনের জন্য প্রকল্প এলাকায় রয়েছে খেলার মাঠ। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক গ্রামের সব নাগরিক সুবিধাই থাকছে আশ্রয়ণ প্রকল্পে। অনগ্রসর ও ছিন্নমূল পুনর্বাসিত পরিবারসমূহ বসত ভিটার আঙ্গিনায় সবজি চাষ, পশু পালনসহ প্রকল্পের সংলগ্ন পুকুরে মৎস্য চাষ করছেন। তাদেরকে উৎপাদনমুখী কাজের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যারাকে বসবাসকারী সুবিধাভোগীদের মৎস্য চাষ, পাটি বুনন, নার্সারি, নকশীকাঁথা, ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক ওয়ারিং এবং রিকশা-সাইকেল-ভ্যান গাড়ি মেরামতের মতো ৩২টি পেশায় প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ চলাকালে তাদের আয়-রোজগারের যেন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য প্রতিদিন ৭৫০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে উপকারভোগীরা সমবায় সমিতি গঠন করে আয়-বর্ধনকারী ব্যবসা বা পেশা চালুর জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাচ্ছেন। ব্যারাকে পুনর্বাসিত পরিবার প্রতি প্রাথমিকভাবে তিন মাসের ভিজিএফ-এর আওতায় খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন, বয়স্ক, বিধবা, বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভাতা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন তারা। অর্থাৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে একজন নিঃস্ব ব্যক্তিকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মানবসম্পদে পরিণত করে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর, গৃহহীন প্রান্তিক ও অতি-দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ অনুধাবন করে, তাদের পুনর্বাসনে ‘আশ্রয়ণ’ নামের যে প্রকল্পের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজ বহূলাংশে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী আর্থ-রাজনৈতিক সেই চিন্তা-চেতনার সুফল ভোগ করছে লাখ লাখ পরিবার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির মূল দর্শনই ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। বঙ্গবন্ধুর কন্যা সেই লক্ষ্য পূরণে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার’-দর্শনটি আজ বাংলাদেশের অগ্রগতির অভিযাত্রায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল হিসেবে সমাদৃত। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলাদেশ’ এর দিকে ক্রমশ আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দৃঢ়ভাবে আশা করছি, শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

পরিচিতি : সজিব খান, সাংবাদিক

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৪৬তম বিসিএসে আবেদন ৩ লাখ ছুঁই ছুঁই
৪৬তম বিসিএসের আবেদন শেষ হয়েছে। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদন করতে পেরেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এতে আবেদন জমা পড়েছে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৩৯২টি। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা শাখার (ক্যাডার) এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৯২ জন প্রার্থী আবেদন ফি জমা দিয়েছেন। তবে এ সংখ্যা তিন লাখের বেশি হবে। কারণ যারা আবেদন করে এখনও ফি জমা দেননি, তাদের সংখ্যা এখনো হিসাব করা হয়নি। ফি জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীরা আরও ৭২ ঘণ্টা সময় পাচ্ছেন। এরপর হয়তো আবেদন সংখ্যা আরও বাড়বে। পিএসসি সূত্র জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এবার আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কর্মকর্তারা।  তারা জানান, এবার কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়নি। ফলে ৪৬তম বিসিএসের আবেদনের সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। গত ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদের হিসাবে গত ১০টি বিসিএসের মধ্যে এটি রেকর্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এতে বিসিএস সহকারী সার্জন ১ হাজার ৬৮২ জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ১৬ জন। এর পরপরই সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। বিভিন্ন বিষয়ে এ ক্যাডার থেকে বিসিএস শিক্ষায় ৫২০ জন নেওয়া হবে। বিসিএস প্রশাসনে ২৭৪, পররাষ্ট্রে ১০, পুলিশে ৮০, আনসারে ১৪, মৎস্যে ২৬ ও গণপূর্তে ৬৫ জন নেওয়া হবে। আবেদন শেষে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
৪৬তম বিসিএসে আবেদন ৩ লাখ ছুঁই ছুঁই
ভোটের দিন নাশকতার তথ্য নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নাশকতার কোনো তথ্য না থাকলেও গোয়েন্দা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ভোটের দিনকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আগাম সতর্কতা নেই। তারা যেসব তথ্য দিচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।   তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় নাশকতা করে আসছে। নাশকতা দিয়েই তাদের জন্ম। কাজেই তারা এগুলো করবেই। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সজাগ রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনীও কাজ করছে।   তিনি আরও বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করছে বলেই নাশকতাকারীরা এসব কর্মকাণ্ডে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। আমি মনে করি নাশকতাকারীদের এ দেশের জনগণ প্রতিহত করবে। জনগণ তাদের কোনোরকম আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। জনগণ আর অন্ধকারে ফিরে যেতে চায় না। আসাদুজ্জামান খান বলেন, নির্বাচন যেন না হয়, নির্বাচনে যেন কেউ অংশগ্রহণ না করে- সে ধরনের প্রচারণা শুরু করেছে বিএনপি নামক একটি রাজনৈতিক দল। তারা ভাঙচুর করছে, মানুষ হত্যা করছে, সম্পত্তি বিনষ্ট করছে এবং হরতাল-অবরোধ কতকিছুই করে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষ কোনো কিছুতেই অ্যাটেনশন দিচ্ছে না। মানুষ মনে করছে এগুলো অযৌক্তিক, সেজন্যই মানুষ এগুলোতে কর্ণপাত করছে না। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে নাম না জানা আরও দু-একটি দল এ ধরনের লিফলেট ছড়াচ্ছে। সেগুলো খুবই সামান্য পরিসরে। মাঝে মাঝে দু-এক জায়গায় আমরা খবর পাচ্ছি। আমাদের পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা বাহিনী এগুলো ধৈর্য সহকারে দেখছে। এগুলো নিশ্চয় আমাদের নির্বাচন কমিশনও দেখছে। যদি এগুলো মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তবে নিশ্চয়ই নির্বাচন কমিশন থেকে একটি নির্দেশনা আসবে, তখনই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, এসব প্রচারণা অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল, নির্বাচন কমিশন যে ঘোষণা দিয়েছে, তার বিপরীত কর্মকাণ্ড। এগুলো নির্বাচন বানচালের কর্মকাণ্ড এবং অবশ্যই গর্হিত অপরাধ। আমি মনে করি, এগুলো যদি সীমা অতিক্রম করে, নিশ্চয়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, সুন্দর নির্বাচন করার জন্য আমাদের কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। সারাদেশে এখন নির্বাচনের আবহাওয়া বিরাজ করছে। সব জায়গায় নির্বাচনমুখী উৎসবের আমেজ। কাজেই একটি সুন্দর নির্বাচন হবে, এটিই আমরা আশা করি। কেউ বলল নির্বাচন করতে দেবে না, তাতেই দেশের জনগণ বসে থাকবে না। এ দেশের জনগণ আগামী ৭ তারিখে তাদের যে কাজ, তা অবশ্যই করবে।
ভোটের দিন নাশকতার তথ্য নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নববর্ষের আনন্দ যেন বিষাদের কারণ না হয় : রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২৪ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, সময়ের চিরায়ত আবর্তনে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ নতুন স্বপ্ন, নতুন অনুপ্রেরণা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত। নতুনকে বরণ করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। তাইতো নববর্ষকে বরণ করতে বিশ্বব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, খ্রিষ্টীয় নববর্ষকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশও প্রস্তুত। বাংলা নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও ব্যবহারিক জীবনে খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জিকা বহুল ব্যবহৃত। খ্রিষ্টাব্দ তাই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের সমাহার নিয়ে আমাদের জীবনে নববর্ষের আগমন ঘটে। তাই বিগত দিনের ভুল-ভ্রান্তি, ব্যর্থতা ও হতাশাকে দূরে ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন ও ইতিবাচক পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, করোনা অতিমারি ও বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের ফলে বাংলাদেশেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব পড়েছে। আমাদের আশপাশের অনেক মানুষই কষ্টে দিনাতিপাত করছে। নববর্ষে আমরা একে অন্যের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই- এই হোক ইংরেজি ‘নববর্ষ- ২০২৪’ এর প্রত্যাশা। এ ছাড়া একজনের আনন্দ যেন অন্যদের বিষাদের কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নববর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক খ্রিষ্টীয় নববর্ষে এই প্রত্যাশা করে সাহাবুদ্দিন বলেন, নববর্ষ সবার মাঝে জাগিয়ে তুলে নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। খ্রিষ্টীয় নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ। সূত্র : বাসস
নববর্ষের আনন্দ যেন বিষাদের কারণ না হয় : রাষ্ট্রপতি
নির্বাচনে ২১ সদস্যের আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেল গঠন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ২১ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২১ সদস্যদের এই মনিটরিং সেলের নেতৃত্ব দেবেন আইডিএ প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের সই করা চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল গঠন করা হয়।  যেসব দায়িত্ব পালন করবে মনিটরিং সেল • নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মনিটরিং সেল আগামী ৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা পরিচালনা করা হবে। • দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে যথাসম্ভব যাচাই-বাছাই করা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে অবহিতকরণ এবং জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ প্রতিবেদন পাঠানো হবে। • সেলে অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি কর্তৃক নির্বাচন উপলক্ষ্যে মোতায়েনকৃত আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো; • ভোটকেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন; • বিভিন্ন নির্বাচনী মালামাল পরিবহণ, বিতরণ এবং ভোটগ্রহণ কাজে নিরাপত্তা বিধানের জন্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং অফিসারদের সহায়তা প্রদান এবং • সংস্থার নিজস্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত বাহিনীকে অবহিতকরণ। • রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকাসমূহের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক ঘটনাবলী নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কর্তৃক পরিচালিত ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং অ্যাপসে তাৎক্ষনিকভাবে এন্ট্রি করে নির্বাচন কমিশনে গঠিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে প্রেরণ করতে হবে।
নির্বাচনে ২১ সদস্যের আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেল গঠন
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সব আদালত বর্জনের শপথ
আগামী ১ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগসহ সারাদেশের  সব আদালত বর্জনের শপথ নিয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে বিএনপিপন্থীসহ সরকারবিরোধী আইনজীবীদের এক সভায় এ শপথ নেন তারা।  এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। দলটি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করেন। আমরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা আদালত সমিতির দক্ষিণ হলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচারের নামে অবিচার বন্ধের দাবিতে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করব। আমরা কেউ আদালতে আসব না। তিনি আরও বলেন, আমরা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের আন্দোলনের মধ্যে আছি। ভোটের অধিকার ও আইনের শাসন ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। কোনো অবস্থাতেই আমরা আদালতে কেউ যাব না। আজকের দিনে আমরা এই শপথ নিচ্ছি। ইউনাইটেড লইয়ারস ফ্রন্ট সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের কনভেনার আইনজীবী শাহ আহমেদ বাদলের সভাপতিত্বে ও কো-কনভেনার মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- সুপ্রিম কোর্ট বারের বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ইউনাইটেড লইয়ার ফ্রন্টের কো-কনভেনার সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, আইনজীবী আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক, ইউএলএফে সমন্বয় সৈয়দ মামুন মাহবুব, মো. কামাল হোসেন, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান খান, নাসরিন আক্তার প্রমুখ। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে সব আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সব আদালত বর্জনের শপথ
আরও পড়ুন
‘হেভিওয়েট নেতাকে তারেক জিয়া লন্ডন থেকে মারার ষড়যন্ত্র করছে’
স্বপ্ন ছিল প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হওয়া : প্রধানমন্ত্রী
নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মারে, এটা খুনিদের দল : প্রধানমন্ত্রী