
দেশের নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করার সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘বাংলাদেশের অধস্তন আদালত ব্যবস্থা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এ সুপারিশ করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন আদালতের ওপর একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এবং আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টিসহ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। কিছু ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্ট নাকচ করে দেয়ার পরও মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া, রাজনৈতিক কারণে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন চাপে পড়তে হচ্ছে অধস্তন আদালতের বিচারকদের।
গবেষণায় আরো বলা হয়, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের আগে বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির বিষয়গুলো সংস্থাপন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল। বর্তমানে তা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। যা কিছু ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত ব্যবস্থার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, অধস্তন আদালতে যে জবাবদিহিতা, যে আনুগত্য সেটা কার কাছে, সেটা নিয়ে কিন্তু সমস্যা আছে, অস্বচ্ছতা রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচার মামলা সংক্রান্ত অনেকক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি, ঘুষ ও বহির্ভূতভাবে লেনদেন রয়েছে। এটা শুধু সাধারণ জনগণ ও টিআইবির উদ্বেগ নয়, যারা বিচার ব্যবস্থায় শীর্ষে আছেন তাদেরও উদ্বেগ।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।
এমসি/জেএইচ




