
সবস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন জনতার মেয়র আনিসুল হক। শনিবার বিকেলে আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে,ছেলে মোহাম্মদ শারাফুল হকের কবরেই তাকে দাফন করা হয়।
তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দেশের বিশিষ্টজনরা জানালেন তাদের হৃদয়ের কথা। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মরহুমের রূহের কামনা এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, জনকল্যাণ ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিলেন। জনবান্ধব এই মেয়রের মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধিকে হারাল।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোকবার্তায় বলেন, একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আনিসুল হক তার জীবদ্দশায় নানামুখী কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখে সবার কাছে নিজেকে ঘনিষ্ট করে তুলেছিলেন।
আশির দশকে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মধ্যদিয়ে জনপ্রিয়তা পান আনিসুল হক। তার সর্ম্পকে আরেক জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত বলেন, ‘আনিসুল হকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয় আশির দশকে। তিনি ‘আনন্দমেলা’, ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠান’ উপস্থাপনা করেছেন, আমিও করেছি। আশির দশকে ‘এখনই, অন্তরালে’ এই অনুষ্ঠানগুলো উপস্থাপনা করতেন। আমি করতাম ‘কথার কথা’। আনিসুল হক একজন জনপ্রিয় উপস্থাপক ছিলেন, আমিও একজন উপস্থাপক হিসেবে তার জন্য গর্ব করতাম। আমরা সত্যিকারের একজন দেশপ্রেমিককে হারালাম।
আরেক জনপ্রিয় উপস্থাপক আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সঙ্গে আড্ডা দিতে প্রায়ই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আসতেন আনিসুল হক। সে সময় মমতাজউদ্দীন আহমেদ, জামালউদ্দিন হোসেন, আবেদ খান, সানজিদা খানসহ অনেককেই সেই আড্ডায় দেখতাম। সময়টা আশির দশকের শুরুর দিকের। ওখান থেকেই আনিসুল হকের সঙ্গে আমার পরিচয়। ৯২-তে এসে ‘আনন্দমেলা’অনুষ্ঠানটি করলেন। আনন্দমেলা অনুষ্ঠানটি করার পর থেকে আমি অনেকটাই আনিসুল হকের প্রধান সহকারী হয়ে গেলাম। তার চলে যাওয়া শুধু আমার নয়, দেশের মানুষের জন্য কত বড় শূন্যতা তৈরি হলো, তা বোঝাতে পারব না।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তার মতো মানুষ একজনই হয়। আরেকজন আনিসুল হক খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ ঢাকা শহরকে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন করা আনিসুল হকের স্বপ্ন ছিল। তার চলে যাওয়ার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এ রকম পরিশ্রমী মানুষ আমি কমই দেখেছি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, আনিসুল হক শুধু ব্যবসায়িকভাবে নয়, সব কাজ পরিচালনায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন। ‘সততা, যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও সাহসী ভূমিকার মাধ্যমে যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান চালানো যায়, সেই স্বাক্ষর তিনি রেখে গেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, তার সততা ছিল প্রশ্নাতীত। বড় বড় সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি পিছপা হতেন না। সকল কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন যোগ্য ও আস্থাবান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমরা দুজনে মিলে এ শহরকে পরিবর্তনের কাজ শুরু করতে পেরেছিলাম, কিন্তু মাঝপথে তা ভেঙে গেলো। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যৃতে নোয়াখালীবাসী আজকে ব্যথিত। আমাদের এই ব্যথা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
এছাড়া পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
এছাড়াও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এন/জেএইচ




