ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্নীতি

শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি অনুসন্ধানে রিট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:২০ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের মালয়েশিয়ান ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এ রিট দায়ের করেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম।

ববি হাজ্জাজ জানান, রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছিলেন তারা। দুদক এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

রিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রিটের বিবাদী করা হয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাট করেছেন। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানকারী গ্লোবাল ডিফেন্স করপোরেশন।

‘আউস্টেড বাংলাদেশ’স প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা, হার সান সজীব ওয়াজেদ জয় অ্যান্ড নিস টিউলিপ সিদ্দিক এমবেজেলড ৫ বিলিয়ন ডলার্স ফ্রম ওভারপ্রাইজড ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার্স রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থ্রো মালয়েশিয়ান ব্যাংকস’ শিরোনামে গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাশিয়ার রোসাটম মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে। এতে মধ্যস্থতা করেছেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। শেখ হাসিনা এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র অদূর ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুতের ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি ভিভিইআর ইউনিট ব্যবহার করে ২০২৪ সালের মধ্যে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে।

গণমাধ্যমে এমন ইতিবাচক প্রচারণার আড়ালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রোসাটম) থেকে সোভিয়েত আমলের পারমাণবিক চুল্লি কেনার জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ লোপাট করেছেন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এর নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলকভাবে বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকে গোপনে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে রাশিয়া। মালয়েশিয়ার ওইসব ব্যাংকে রাশিয়ার বিশেষ তহবিল থেকে এ অর্থ এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পারমাণবিক খাত নিয়ে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ ছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা এবং নির্মাণকাজের দেখাশোনা করতে পারেন-এমন পেশাদার ব্যক্তিও বাংলাদেশে নেই। তবুও বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি সই করে এবং রাশিয়াকে কোনো তত্ত্বাবধান ছাড়াই নির্মাণকাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দেয়। এর কারণ, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।

তবে এ প্রকল্পে উচ্চ নির্মাণব্যয় নিয়ে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন মিডিয়ার রিপোর্ট নানা দিক থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। লোকজন এখন গোটা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের মতো শীর্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এতে জড়িত থাকার বিষয়টি সত্যিকার অর্থেই অস্বস্তিকর।

পুরো বিষয়ে জনগণের আগ্রহ থাকায় এটি আর বিভাগীয় তদন্তে সীমাবদ্ধ না থেকে হাইকোর্ট ডিভিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। তদন্ত কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ প্রকল্পের দাপ্তরিক কার্যক্রম, ঠিকাদার অনুমোদন বা নিয়োগের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মন্ত্রণালয়ই যদি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে না থাকে, তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে?’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই লন্ডনে শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার রোসাটমের মধ্যে বিতর্কিত মধ্যস্থতা করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। ২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের সময় সঙ্গী ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের দাবি, তখন ঢাকা-মস্কোর বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির মধ্যস্থতাও করেছিলেন তিনি। এরপর রাশিয়ার সহায়তায় তিনি বাংলাদেশের চলমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অবশ্য টিউলিপ এ সেবা বিনামূল্যে দেননি! তিনি এর বিনিময়ে খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও মাসিক ভিত্তিতে সম্মানি নিয়েছেন। এর পাশাপাশি ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে টিউলিপের মা শেখ রেহানা এবং শেখ পরিবারের কিছু সদস্য রাশিয়ানদের কাছ থেকে কিক-ব্যাক (গোপনে অর্থ প্রদান) হিসাবে ৩০ শতাংশ অর্থ পেয়েছেন। এ অর্থ তখন গোপনে মালয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছিল।

২০০৯ সালে ‘প্রচ্ছায়া লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানি চালু করেন টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা ও চাচা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। এ কোম্পানির বিরুদ্ধে ডেস্টিনি গ্রুপ থেকেও ৯০০ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে তারা জুমানা ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিও খুলেছে।

এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ৬৪ মিলিয়ন ডলারের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রকল্পের ৩৩ কর্মকর্তাকে সমন পাঠিয়েছে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
বাংলাদেশের একটি আদালত এলাকার ভিডিওকে ঢাকার রাস্তার দৃশ্য বলে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘আজতক বাংলা’সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। পরে সেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সোয়াত টিমের সদস্যরা ঢাকায় এসে টহল দিচ্ছে। ভিডিওতে বাংলাদেশের আইনজীবী নিঝুম মজুমদার দাবি করেন, (৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড থেকে), ঢাকার রাস্তাতে এই ধরনের পাকিস্তানি আর্মিরা এসে সোয়াতের ছদ্মবেশে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ছেলেরা বা পাকিস্তানি সৈন্যরা এসে বাংলাদেশের রাস্তায় নেমে মহড়া দিচ্ছে, এটা আমার কাছে নজিরবিহীন মনে হয়েছে।  একই ভিডিওর আরেকটি অংশে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জঙ্গি সরদার বলে দাবি করেন নিঝুম মজুমদার। তিনি জানান, সেনাপ্রধানের শেরপুরের গ্রামের বাড়িতে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন যে জেনারেল ওয়াকার ছাত্রজীবনে ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। তিনি সে সময় শিবিরের সাথী ছিলেন। তবে এই ভিডিও সংবাদ সঠিক নয় বলে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধান করে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর টহলের কোনো দৃশ্য নয়। বরং, ভিডিওটিতে যে বাহিনীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটির সদস্য। এই সদস্যরা গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল দেওয়ার দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার টিম ভিডিওতে থাকা একজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের পোশাকের পেছনে CRT লেখা দেখতে পায়। পাশাপাশি আরেকজন সদস্যের পোশাকে বাংলাদেশের পতাকাও দেখতে পাওয়া যায়। এসবের সূত্রে National Dialogue Bangla (NDB) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ ডিসেম্বর এই সেই বাংলাদেশ CRT (Crisis Response Team) শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানার আরও জানায়, ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে এর হুবহু মিল রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওর শিরোনাম থেকে জানা যায়, ভিডিওটি রাজশাহী আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া বাহিনীর নাম Crisis Response Team বা CRT। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ২৪-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রিজন ভ্যান ঘিরে উত্তেজনা- ডিম হামলার শিকার হন সাবেক এমপি আসাদ। মূলত সেই ঘটনার ভিডিও নিয়ে এডিট করে অপপ্রচার চালায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। মূল ভিডিওতে Jago News শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় তার প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ সময় তাকে নিরাপত্তা প্রদানকারী বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর বাহিনীর পোশাকের হুবহু মিল রয়েছে। তাদের পোশাকের পেছনেও CRT লেখা রয়েছে। পরে CRT এর বিষয়ে অনুসন্ধানে জাগোনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, CRT বা Crisis Response Team হলো বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত দল। দলটি জঙ্গি দমন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধসহ বড় ধরনের সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে।  এ ছাড়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পর সিলেটে আনুষ্ঠানিক মহড়ার মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু করে পুলিশের এই বিশেষায়িত দলটি। অর্থাৎ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটিকে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এদিকে, আইনজীবী নিঝুম মজুমদার আজতক বাংলায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন, তার বিপরীতে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাটি। গত জুনে জেনারেল ওয়াকার সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর দিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ওয়েবসাইটে তার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়। এই জীবনী পর্যালোচনা করে তার ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার কোনো তথ্য মেলেনি, যা নিঝুম মজুমদার দাবি করছেন। এ বিষয়ে জানতে আইএসপিআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, জেনারেল ওয়াকার কখনও ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেননি। সুতরাং বাংলাদেশে পাকিস্তানের বাহিনী টহল দিচ্ছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা যেমন মিথ্যা তেমনি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে আইনজীবী নিঝুম মজুমদারের অভিযোগও সত্য নয়। আরটিভি/কেএইচ
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
প্রধান বিচারপতি / নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন বছরে দেশের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ হতে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তার ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ২০২৫ সাল হবে বিচার বিভাগের জন্য নবযাত্রার একটি বছর। ২০২৫ সালেই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন অঙ্গ হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠিত হয়েছে এবং এর কার্যক্রম চলমান আছে।  এ ছাড়া বিচারসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি-সংক্রান্ত একটি বেঞ্চে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হবে।  পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বেঞ্চে কাগজমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলা আদালতগুলোতে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি।  আরটিভি/একে/এআর
নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা এই সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/একে/এআর
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইটে দুর্ঘটনারোধে বাসাবাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্তস্থান, পার্কে আতশবাজি, পটকা ফোটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাজধানীর বাসা-বাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্ত স্থান, পার্কে আতশবাজি ও পটকা ফুটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। জনসমাগম ও আতশবাজি ঠেকাতে ওই দিন রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ উজ্জামান এ রিট দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ঢাকার পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা যে কোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাবে। আরটিভি/এফএ/এআর
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
সারাদেশের সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় কমানো হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএনজি স্টেশনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল ২ ঘণ্টা কমিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হলো। গ্যাসের সংকট থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের রেশনিং কেন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সিএনজি স্টেশনগুলোর মালিকদের অনুরোধ এবং সিএনজিচালকদের আন্দোলন-ধর্মঘটকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরটিভি/একে/এআর
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
আরও পড়ুন
আদালতে অনেক ভুয়া মামলা হচ্ছে : আসিফ নজরুল
হাসিনাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মাইকেল চাকমার অভিযোগ
রিজভীর বক্তব্যে জামায়াতের কড়া প্রতিবাদ
শুনতে পাচ্ছি শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত: মাহফুজ আলম