
সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ও মাদক প্রবেশ বন্ধে কোস্টগার্ড-বিজিবিকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। কোস্টগার্ডের জন্য দুটি জাহাজ মংলা সমুদ্র বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আর বিজিবিতে ১৫ হাজার লোকবল বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
রোববার দুপুরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ও সীমান্ত এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিজিবি সদর দফতর পিলখানার শহীদ আশরাফ হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির চেক পোস্ট সংখ্যাও বাড়ানো হবে। সীমান্ত দিয়ে কোনো কিছু ঢুকে যেন দেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পুলিশ বাহিনীকেও আরো সজাগ থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সীমান্তবর্তী সংসদ সদস্যরা সমন্বয় করে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে মাদক তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও টেকনাফ থেকে মাদকদ্রব্য আসে। দেশে যাতে কোনো মাদক না ঢুকতে পারে, সে জন্য বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র্যাবকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে এই সমস্যার সমাধান হবে।
মন্ত্রী বলেন, সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। তবে যেসব জায়গায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে, যেই জায়গায় কাজ করা হচ্ছে। সীমান্তে হত্যা ক্রমান্বয়ে কমছে। এ সময় তিনি একটি পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলেন, ২০০৮ সালে সীমান্তে মারা গিয়েছিল ৬৮ জন। ২০০৯ সালে ৬৭, ২০১০ সালে ৬০, ২০১১ সালে ৩৯ জন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ২১ জন মারা গেছে।
সভায় মাদক চোরাচালানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারদলীয় নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, এসব কাজে যারাই জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সভায় পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামালউদ্দীন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার ৩৩ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এমসি/পি




