
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের এক বৈঠক থেকে তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার এ তালিকা তৈরি করবে। খবর বিবিসির।
গেল আগস্ট মাস থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এমন তথ্য জাতিসংঘের।
পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বিবিসিকে জানান, যতদ্রুত সম্ভব এ তালিকা তৈরি করা হবে। কিন্তু কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে তিনি কিছু বলেননি।
বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন।
শহিদুল হক বলেন, ‘প্রথমে একটা লট ইনফরমেশন পাঠাবো। মিয়ানমার এটা দেখে ভেরিফাই করে যখন জানাবে যে তারা মিয়ানমারের বাসিন্দা, তখন ঐ পরিবারগুলোকে বলবো তোমাদের মিয়ানমার সরকার নিতে রাজি হয়েছে, তোমরা ফিরে যাবে কিনা? তারপর সম্মতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রথমবার রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশ একটি বড় সংখ্যায় তথ্য পাঠাতে চায় বলে পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন।
কয়েকটি গণমাধ্যমে সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, বাংলাদেশ প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার নাম মিয়ানমারের কাছে দেবে। পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, এ ধরনের সংখ্যা অনুমান নির্ভর।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য মিয়ানমার সরকারের কাছে ৫০ হাজার রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কাজ কবে নাগাদ শুরু হতে পারে? এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা তো খুব তাড়াতাড়ি প্রসেসটা শুরু করতে চাচ্ছি। দেখা যাক।’
মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশকে একটি ফর্ম দিয়েছে। সে ফর্মে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকার সেগুলো দেবার চেষ্টা করবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
জাতিসংঘের হিসেবে গত আগস্ট মাস থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে এসেছিল আরো প্রায় এক লাখের মতো। সব মিলিয়ে গত ১৪ মাসে সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ডেপুটি হাইকমিশনার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার প্রশ্নে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সমঝোতার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ডেপুটি হাইকমিশনার কেট গিলমোর বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সেখানে ফেরত পাঠানোর আগে দেখা দরকার যে ফিরে গিয়ে তারা আবার সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হবে কিনা।
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে সেই সমঝোতা কতটা টিকবে, সেটা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এপি/পি




