ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএফআইইউর প্রধান নিয়োগে আলোচনায় বিতর্কিতদের নাম

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে দেশের ব্যাংক, জ্বালানি, ভৌত অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিটির অর্থনীতির শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, গত দেড় দশকে ২৮ উপায়ে লুটপাট করা অর্থের ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করা হয়েছে দেশের বাইরে। এসব অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্য নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। এ কাজে মূল নেতৃত্ব দেবে যে সংস্থাটি, সেই ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জটিলতা।

গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থার প্রধান হতে আগ্রহীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১১ ও ১২ ডিসেম্বর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ ব্যক্তির বিরুদ্ধেই রয়েছে নানা অভিযোগ। এমনকি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত এবং সমালোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সুবিধাভোগী একাধিক কর্মকর্তাও রয়েছেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকায়। বিতর্কিত এসব কর্মকর্তার বিএফআইইউর প্রধান বানানো হলে পাচার অর্থ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাসহ ১০ জন। তারা হলেন–বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এএফএম শাহীনুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, জহুরুল হুদা, আকতারুল ইসলাম ও নুরুল আমিন; বর্তমান নির্বাহী পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, একেএম এহসান, মামুন হোসেন ও মো. সাইফুল ইসলাম খান এবং এনসিসি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি আশিকুর রহমান। এই ১০ জনের মধ্য থেকে সার্চ কমিটির পরামর্শে একজনকে বিএফআইইউ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জহুরুল হুদার বিরুদ্ধে এস আলম থেকে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক থাকাকালীন এস আলম গ্রুপকে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর প্রতিদান হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর এস আলমের মালিকানাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে চাকরি পান জহুরুল। পরে এস আলম গ্রুপ ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল) দখল করার পর জহুরুলকে এই ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়।

এস আলমকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্বাহী পরিচালক বিগত সরকারের আমলে বিএফআইইউর উপপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের তৎকালীন প্রধান আরেক বিতর্কিত মাসুদ বিশ্বাসের সব অপকর্মে ডান হাত হিসেবে সংগত জুগিয়েছেন রফিকুল। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বলেও দাপট দেখাতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশব্যাপী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলেও দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি রফিকুল। এজন্য তাকে বিএফআইইউ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। উপপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কয়েক দিনের ব্যবধানে একই কর্মকর্তা ওই সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় উঠে আসার বিষয়টি বিস্মিত করেছে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের।

আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে নজরুল ইসলামও বিএফআইইউর উপপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও এস আলমের ব্যাংক লুটে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এরই পুরস্কার হিসেবে তাকে এস আলমের দখল করা ইসলামী ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমির প্রিন্সিপাল করা হয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে সেই পদ থেকে অপসারণ করেছে ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাওয়া আরেকজন এনসিসি ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আশিকুর রহমান। পুঁজিবাজারের অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার নামে।

এনসিসি ব্যাংকের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ দেওয়ায় ডিএমডি পদ থেকে আশিকুরকে অপসারণ করা হয়েছিল। পরে মাসিক ৮ লাখ টাকা বেতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) পদে নিয়োগ পান আশিকুর। ডিএসইর নীতিমালা অনুযায়ী, সিআরও পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কেউ পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে পারবেন না। কিন্তু আশিকুর সেই নীতিমালার ধার ধারেননি। পুঁজিবাজারে ছিল তার বিপুল বিনিয়োগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সিআরও পদ থেকে অপসারণ করা হয়। দুটি পদ থেকে অনিয়মের দায়ে অপসারিত ব্যক্তির নাম বিএফআইইউর সম্ভাব্য প্রধানের তালিকায় উঠে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে সংশ্লিষ্টদের।

মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাভেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ রয়েছে। ২০২১-২২ সালে বিএফআইইউর উপপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে আখতারুল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম ও সাইফুজ্জামান জাভেদকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন। সাইফুজ্জামান জাভেদকে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে অনৈতিকভাবে ঋণ বের করে দিতেও আখতারুল সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের তেমন কোনো অভিযোগ না থাকলেও তাদের মধ্যে দুজন সবেমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। তবে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিরা বিএফআইইউর মতো একটি স্পর্শকাতর সংস্থার প্রধানের পদে আলোচনায় উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত সবাই। কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, বিএফআইইউ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে একজন সৎ, যোগ্য ও চৌকস কর্মকর্তাকে। যিনি নির্মোহভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে কাজ করবেন। কিন্তু পাচারকারীদের সহযোগীরাই যদি নিয়োগ পান, তাহলে সরকারের সদিচ্ছা মুখ থুবড়ে পড়বে। পাচার হওয়া অর্থ তো ফেরত আসবেই না, বরং আর্থিক খাত আবারও অনিয়মের চক্রে আটকে যাবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
বাংলাদেশের একটি আদালত এলাকার ভিডিওকে ঢাকার রাস্তার দৃশ্য বলে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘আজতক বাংলা’সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। পরে সেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সোয়াত টিমের সদস্যরা ঢাকায় এসে টহল দিচ্ছে। ভিডিওতে বাংলাদেশের আইনজীবী নিঝুম মজুমদার দাবি করেন, (৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড থেকে), ঢাকার রাস্তাতে এই ধরনের পাকিস্তানি আর্মিরা এসে সোয়াতের ছদ্মবেশে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ছেলেরা বা পাকিস্তানি সৈন্যরা এসে বাংলাদেশের রাস্তায় নেমে মহড়া দিচ্ছে, এটা আমার কাছে নজিরবিহীন মনে হয়েছে।  একই ভিডিওর আরেকটি অংশে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জঙ্গি সরদার বলে দাবি করেন নিঝুম মজুমদার। তিনি জানান, সেনাপ্রধানের শেরপুরের গ্রামের বাড়িতে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন যে জেনারেল ওয়াকার ছাত্রজীবনে ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। তিনি সে সময় শিবিরের সাথী ছিলেন। তবে এই ভিডিও সংবাদ সঠিক নয় বলে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধান করে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর টহলের কোনো দৃশ্য নয়। বরং, ভিডিওটিতে যে বাহিনীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটির সদস্য। এই সদস্যরা গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল দেওয়ার দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার টিম ভিডিওতে থাকা একজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের পোশাকের পেছনে CRT লেখা দেখতে পায়। পাশাপাশি আরেকজন সদস্যের পোশাকে বাংলাদেশের পতাকাও দেখতে পাওয়া যায়। এসবের সূত্রে National Dialogue Bangla (NDB) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ ডিসেম্বর এই সেই বাংলাদেশ CRT (Crisis Response Team) শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানার আরও জানায়, ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে এর হুবহু মিল রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওর শিরোনাম থেকে জানা যায়, ভিডিওটি রাজশাহী আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া বাহিনীর নাম Crisis Response Team বা CRT। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ২৪-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রিজন ভ্যান ঘিরে উত্তেজনা- ডিম হামলার শিকার হন সাবেক এমপি আসাদ। মূলত সেই ঘটনার ভিডিও নিয়ে এডিট করে অপপ্রচার চালায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। মূল ভিডিওতে Jago News শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় তার প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ সময় তাকে নিরাপত্তা প্রদানকারী বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর বাহিনীর পোশাকের হুবহু মিল রয়েছে। তাদের পোশাকের পেছনেও CRT লেখা রয়েছে। পরে CRT এর বিষয়ে অনুসন্ধানে জাগোনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, CRT বা Crisis Response Team হলো বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত দল। দলটি জঙ্গি দমন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধসহ বড় ধরনের সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে।  এ ছাড়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পর সিলেটে আনুষ্ঠানিক মহড়ার মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু করে পুলিশের এই বিশেষায়িত দলটি। অর্থাৎ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটিকে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এদিকে, আইনজীবী নিঝুম মজুমদার আজতক বাংলায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন, তার বিপরীতে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাটি। গত জুনে জেনারেল ওয়াকার সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর দিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ওয়েবসাইটে তার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়। এই জীবনী পর্যালোচনা করে তার ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার কোনো তথ্য মেলেনি, যা নিঝুম মজুমদার দাবি করছেন। এ বিষয়ে জানতে আইএসপিআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, জেনারেল ওয়াকার কখনও ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেননি। সুতরাং বাংলাদেশে পাকিস্তানের বাহিনী টহল দিচ্ছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা যেমন মিথ্যা তেমনি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে আইনজীবী নিঝুম মজুমদারের অভিযোগও সত্য নয়। আরটিভি/কেএইচ
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
প্রধান বিচারপতি / নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন বছরে দেশের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ হতে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তার ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ২০২৫ সাল হবে বিচার বিভাগের জন্য নবযাত্রার একটি বছর। ২০২৫ সালেই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন অঙ্গ হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠিত হয়েছে এবং এর কার্যক্রম চলমান আছে।  এ ছাড়া বিচারসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি-সংক্রান্ত একটি বেঞ্চে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হবে।  পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বেঞ্চে কাগজমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলা আদালতগুলোতে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি।  আরটিভি/একে/এআর
নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা এই সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/একে/এআর
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইটে দুর্ঘটনারোধে বাসাবাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্তস্থান, পার্কে আতশবাজি, পটকা ফোটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাজধানীর বাসা-বাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্ত স্থান, পার্কে আতশবাজি ও পটকা ফুটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। জনসমাগম ও আতশবাজি ঠেকাতে ওই দিন রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ উজ্জামান এ রিট দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ঢাকার পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা যে কোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাবে। আরটিভি/এফএ/এআর
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
সারাদেশের সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় কমানো হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএনজি স্টেশনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল ২ ঘণ্টা কমিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হলো। গ্যাসের সংকট থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের রেশনিং কেন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সিএনজি স্টেশনগুলোর মালিকদের অনুরোধ এবং সিএনজিচালকদের আন্দোলন-ধর্মঘটকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরটিভি/একে/এআর
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
আরও পড়ুন
১২ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব
পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ
তৌফিক-ই-ইলাহীর ব্যাংক হিসাব তলব
সামিট গ্রুপের আজিজ খানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ