ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্যে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৫, ০৫:৩৩ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থীশিবিরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে নিয়ে গিয়ে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) এ আয়োজনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব অনারার হাছে দুঁরি আইস্যেদে, অনারার এক্কানা সাহস অইবার লাই। আবার দুনিয়ার সামনে লড়াই গরিবু, যাতে অনারারে শান্তিপূর্ণভাবে অনারার দেশত পৌঁছাই দিত পারে। ইয়ান মস্ত বড় খুশির হতা। এই খুশির হতা আজিয়া আঁরা অনুভব গরির। আঁরা তাঁরে ভীষণভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

অর্থ: জাতিসংঘ মহাসচিব আপনাদের কাছে এসেছেন, আপনাদের সাহস দেওয়ার জন্য। শান্তিপূর্ণভাবে আপনাদের দেশে পৌঁছে দিতে তিনি লড়াই করবেন। এটি মস্তবড় খুশির কথা। এই খুশির কথা আজ আমরা অনুভব করছি। আমরা তাকে ভীষণভাবে ধন্যবাদ জানাই।

চট্টগ্রামের ভাষায় ড. ইউনূস বলেন, ‘তাঁরে কি হনঅ দেশত আনিত ফারেন না, তার দেশত। বনজঙ্গলর ভিতর ঢুকাইত পারিব না? পাইত্তো নঅ। তাঁরা সরকারঅর বড় বড় হর্তা অলর লই হতা কঅই। এ জঙ্গলর ভিতর যনর হতা নঅ। তেই (আন্তোনিও গুতেরেস) হষ্ট গরি আইস্যে। নিজে রোজা রাইক্কে আজিয়া অনারারলাই।’

অর্থ: তাকে (জাতিসংঘ মহাসচিব) কি কোনো দেশ আনতে পেরেছে তাদের দেশে? বনজঙ্গলে ঢোকাতে পারবে? পারবে না। তারা সরকারের বড় বড় কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এই জঙ্গলের ভেতর যাওয়ার কথা নয়। তিনি কষ্ট করে এসেছেন। আজ আপনাদের জন্য নিজে রোজা রেখেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, তাঁরে (আন্তোনিও গুতেরেস) আঁরা বারেবারে যিয়ান বুঝাইতাম চাইর, তা অইল, ঈদ আইলে আঁরা বেয়াগ্গুন যাই দাদা–দাদির হবর জিয়ারত গরি। নানা–নানির হবর জিয়ারত গরি। আত্মীয়স্বজনর হবর জিয়ারত গরি। এই মানুষগুইন এডে আইয়েরে ঈদগান গরিবদে এই সুযোগ পাইত নঅ। ইতারার হবর জিয়ারত গরিবার হনঅ সুযোগ নাই। তাঁরে অনারা এক্কান দাওয়াত দঅন। দাওয়াত দিবেন যে কিল্লাই; সাম্মোর বছর ঈদর সমত যেন অনারার বাড়ির মইধ্যে তেঁই আইয়ে। ইয়ুর মইধ্যে এহত্র হঅন এবং দাদা–দাদির হবরঅর মইধ্যে যাইয়েনে তাঁরে সংবর্ধনা দঅন।

অর্থ: তাকে (আন্তোনিও গুতেরেস) আমরা বারবার যেটি বোঝাতে চাইছি, তা হলো, ঈদ এলে আমরা সবাই দাদা–দাদির কবর জিয়ারত করি। নানা–নানির কবর জিয়ারত করি। আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করি। এই মানুষগুলো (রোহিঙ্গা শরণার্থী) এখানে এসে সে সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের কবর জিয়ারত করার সুযোগ নেই। তাকে আপনারা দাওয়াত দিন। দাওয়াত দিবেন কেন? যেন তিনি সামনের বছর ঈদের সময় আপনাদের বাড়িতে আসেন। আপনাদের বাড়িতে একত্র হন এবং দাদা–দাদির কবর জিয়ারত করে তাকে সংবর্ধনা দেন।

রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, আঁরা এতুগ্গুন মানুষ আইস্যি। তাঁরে আঁরা বুঝাইর, অনারাও বুঝাইতেন লাইগ্গুন। কেউ আঁরারে আইয়েরে ভাত হাবাই যঅক, ইয়ান ত আঁরা ন চাই। আঁরারতো নিজর ক্ষমতা আছে। ধনসম্পদ আছে, জায়গা–সম্পত্তি আছে। আঁরাতো গরিত পারির। আঁরারে দেশত যাইত ন দে বলি, আঁরা মাইনষর বোঝা অই গেইগই। আঁরার পুয়া ছা বড় অইতো চার। দাদা–দাদির হবরঅর পাশে, নিজর ঘরর পাশে, আত্মীয়স্বজনর পাশে; ইয়ান আঁরা ন পারির। তাঁরে (আন্তোনিও গুতেরেস) আঁরা বুঝাইর।

অর্থ: আমরা এত মানুষ এসেছি। তাকে আমরা বুঝিয়েছি। আপনারাও বুঝাচ্ছেন যে, কেউ আমাদের এসে ভাত খাইয়ে যাক, তা আমরা চাই না। আমাদের নিজেদেরই ক্ষমতা আছে। ধনসম্পদ আছে। জায়গা–সম্পত্তি আছে। আমরাও করতে পারি। কিন্তু আমাদের দেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা এখন মানুষের বোঝা হয়ে গেছি। আমাদের ছেলেমেয়ে দাদা–দাদির কবরের পাশে, নিজের ঘরের পাশে, আত্মীয়স্বজনের পাশে বড় হতে চায়; কিন্তু আমরা তা পারছি না। তাকে এসব বিষয় আমরা বোঝাব।

ড. ইউনূস বলেন, হবরগান বেগ্গুনঅরে দঅন যে, আঁরারে সুযোগ্গান দঅন, যাতে আঁরা নিজর বাড়িত ফিরি যাইত পারি। দুনিয়ার মানুষরে এই হতা বুঝঅম পরিবঅ। তেঁই (জাতিসংঘ মহাসচিব) এ দায়িত্ব নিজে লইয়ে। হাজার রহমর দায়িত্ব তাঁর। হডে যুদ্ধ অর, হডে কী অর; বেগ্গিনর দায়িত্ব তাঁর। এত কিছুর ভিতরে অনারার দায়িত্ব হত গুরুত্ব সহকারে তেঁই বিবেচনা গরের, ইয়ান বুঝিত পাইত্তে লাইগ্গুনত। হত গুরুত্ব দিয়ে তেঁই।

অর্থ: আপনারা ফিরে যেতে চান, এই খবরটা সবাইকে দিন। দুনিয়ার মানুষকে এই কথা বুঝতে হবে। তিনি (জাতিসংঘ মহাসচিব) এই দায়িত্ব নিয়েছেন। হাজার রকমের দায়িত্ব তার। কোথায় যুদ্ধ হচ্ছে, কোথায় অন্য কিছু হচ্ছে; সব কিছুই তাকে দেখতে হয়। এতকিছুর ভেতরে আপনাদের দায়িত্ব তিনি গুরুত্ব সহকারেই বিবেচনা করছেন। এটি আপনারাও বুঝতে পারছেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির গুলশান কার্যালয়ে খোলা শোকবইয়ে সই করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে সই করেন তারা।  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। আরও পড়ুন বিদায় আপসহীন নেত্রী  এখন পর্যন্ত শোকবইয়ে যারা সই করেছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, ডেনমার্ক ও জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ সৌদি আরব, রাশিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিসহ ১৫ দেশের কূটনীতিক। শোকবইয়ে সই কার্যক্রম রাত ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
আগামী ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজস্বখাতভুক্ত ১৬ ক্যাটাগরির ১৮৮টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার সে প্রেক্ষিতে আগামী ২ জানুয়ারি তারিখ সকাল ১০টা থেকে লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, নোটিশ বোর্ড এবং প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র : বাসস আরটিভি/এমএ
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন।  মাত্র কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেল ৫টায় ঢাকা ত্যাগ করেছেন। খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে আজ দুপুরেই তিনি ঢাকায় আসেন। সফরকালে জয়শঙ্কর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন। ভারত সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকেও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক ও কুশল বিনিময় সংক্ষিপ্ত এই সফরে জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসা পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস জয়শঙ্করই প্রথম ভারতীয় মন্ত্রী, যিনি ঢাকা সফরে এলেন। আরটিভি/এমএ
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়ে তার শোকাহত জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরুর আগে এই দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। জানাজার স্থানে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি তারেক রহমানের কাছে যান। তিনি শোকসন্তপ্ত তারেক রহমানের হাত ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে গভীর সমবেদনা জানান।  এদিকে, জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এরপর বিকেল তিনটায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।  এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। আরটিভি/আরএ
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতকে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমাদের মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।  আরও পড়ুন একযোগে এনবিআরের ১৭ কমিশনারকে বদলি হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নিতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  ‘যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ রায়হান। আরটিভি/এসআর
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমানের পদত্যাগ
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা
দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা