
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যসংক্রান্ত আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জয়লাভ করে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। প্যারিসে সংস্থাটির সদরদপ্তরে ১৯৭২ কনভেনশনের ২৫তম সাধারণ সভা চলাকালীন অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ কনভেনশনের সদস্যপদের ৫৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগামী চার বছরের জন্য (২০২৫-২৯ মেয়াদে) এই আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করল।
এ বছর বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্বাচনী গ্রুপে কোনো আসন বরাদ্দ ছিল না। তবুও বাংলাদেশ উন্মুক্ত আসনে নির্বাচনের সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সমর্থ হয়।
বিশ্ব ঐতিহ্য সংক্রান্ত আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের এই কঠিনতম নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের জয়ধারা অব্যাহত থাকল। রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ইউনেস্কোর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত চার বছরে বাংলাদেশ অদ্যাবধি মোট আটটি (০৮) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।
এর আগে, গত ৭ অক্টোবর ফ্রান্সের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতকে পেছনে ফেলে ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নির্বাচনে জয়লাভের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত তালহা বলেন, ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের সাফল্য কোনো একক ঘটনা নয়। এটি ইউনেস্কোতে আমাদের কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতি অন্য সকল দেশের আস্থার প্রতিফলন এবং বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রয়াস এবং একনিষ্ঠ প্রচারণার মাধ্যমে।
বাংলাদেশ আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এই আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের ৪৮তম সভায় যোগদানের মাধ্যমে তার কার্যক্রম শুরু করবে।
বিশ্ব ঐতিহ্য সংক্রান্ত ১৯৭২ কনভেনশনের সদস্য পদ গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ এই কনভেনশনের আওতায় মোট তিনটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং একটি প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণে সক্ষম হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য নিবন্ধনের পর থেকে এই কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত ছিল। সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছেন, এই নির্বাচনে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত হলো।
আরটিভি/এআর




