
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। একইসঙ্গে তার চিকিৎসার জন্য রক্ত সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন পড়ছে। হাদির রক্তের গ্রুপ–‘বি’ নেগেটিভ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওসমান হাদির শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার জরুরি রক্ত প্রয়োজন। সেনাবাহিনী এরই মধ্য রক্তের ব্যবস্থা করেছে।
এদিকে শরিফ ওসমান হাদিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তার মাথা থেকে গুলি এখনও বের করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেকে) হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ফেসবুকে একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেছিলেন ওসমান হাদি। পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘যারা আমাকে ময়লা পানি মারতে চান, তারা বাসার ঠিকানা জানাবেন প্লিজ।’
গত ১৪ নভেম্বর সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ওসমান হাদি লিখেছিলেন, ‘গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। যার সামারি হলো- আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।’
‘১৭ তারিখ খুনি হাসিনার রায় হবে। ১৪০০ শহীদের রক্তের ঋণ মেটাতে কেবল আমার বাড়ি-ঘর না, যদি আমাকেও জ্বালিয়ে দেয়া হবে, ইনসাফের এই লড়াই হতে আমি এক চুলও নড়বো না, ইনশাআল্লাহ।’
‘এক আবরারকে হত্যার মধ্য দিয়ে হাজারো আবরার জন্মেছে এদেশে। এক হাদিকে হত্যা করা হলে তাওহীদের এই জমিনে আল্লাহ লক্ষ হাদি তৈরি করে দেবেন। স্বাধীনতার এই ক্রুদ্ধ স্বরকে কোনোদিন রুদ্ধ করা যাবে না। লড়াইয়ের ময়দানে আমি আমার আল্লাহর কাছে আরও সাহস ও শক্তি চাই। আরশ ওয়ালার কাছে আমি হাসিমুখে শহীদি মৃত্যু চাই।’
‘আমার পরিবার ও আমার কলিজার সহযোদ্ধাদেরকে আল্লাহ তায়ালার কুদরতি কদমে সোপর্দ করলাম। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। হাসবিয়াল্লাহ।’
তিনি সেদিন তার পরের পোস্টে দুটি স্ক্রিনশট দেখান। যেখানে দেখা যায় রাত ১২টার পর থেকে বাংলাদেশ, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও অজ্ঞাতনামা স্থান থেকে ফোনকল ও মেসেজ দেওয়া হয়েছে তাকে।
আরটিভি/কেআই




