ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনা হত্যার কূটচাল

বাসস

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০১ এএম
ফাইল ছবি

আজ ১৪ ডিসেম্বর—শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর-আলশামস বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে।

শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, চিকিৎসক ও সংস্কৃতিকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে সদ্য স্বাধীন হতে যাওয়া বাংলাদেশকে মেধাশূন্য ও দিশাহীন করে দেওয়াই ছিল এই নৃশংসতার মূল লক্ষ্য। গভীর শোক, বেদনা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতি প্রতিবছর এই দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ের এক ভয়াবহ অধ্যায়। স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের ঠিক আগমুহূর্তে জাতির চিন্তা, বিবেক ও নেতৃত্বের ভিত্তিকে ভেঙে দিতে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চিন্তকরা বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বুদ্ধিজীবীদের প্রয়োজন কখনোই ফুরিয়ে যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ১৪ ডিসেম্বর এলে জাতির সামনে এক গভীর বেদনাবিধুর স্মৃতি ফিরে আসে। স্বাধীনতার মাত্র দুই দিন আগে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ধ্বংস করার একটি কূটচাল।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ দেশের সচেতন ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করত। সে কারণেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে, ২৫ মার্চের কালরাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়। তবে ১৪ ডিসেম্বর ছিল সেই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত ও সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ।

তিনি বলেন, দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দে, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্বকে জাতি হারিয়েছে। বুদ্ধিজীবীরাই সমাজকে মুক্তি, প্রগতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চিন্তা ও চেতনার খোরাক জোগান। তারাই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার চেতনার অনির্বাণ শিখা প্রজ্বলিত করে রাখেন। তাদের অনুপস্থিতিতে একটি রাষ্ট্র চিন্তায় ও মননে পঙ্গু হয়ে পড়ে। বাংলাদেশকে সেই পঙ্গুত্বে ঠেলে দিতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের আগে রায়েরবাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পচাগলা ও বিকৃত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। অনেককে শনাক্ত করা যায়নি, আবার অনেকের খোঁজ আজও মেলেনি। এই পরিকল্পিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশের মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

আরও পড়ুন

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে জ্ঞানচর্চা করতে পারেন এবং জাতিকে আলোর পথ দেখাতে পারেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, এ দেশে ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটি ষাটের দশকে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বিশেষভাবে পরিচিতি পায়। সে সময় শিক্ষিত সমাজের একটি অংশ প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত না হয়ে দূর থেকে মতামত প্রকাশ করতেন, যা নিয়ে সমালোচনাও ছিল। তবে ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল সেই সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে- এটি ছিল জাতির মেধাকে নির্মূল করার ভয়াবহ অপচেষ্টা।

তিনি বলেন, প্রকৃত বুদ্ধিজীবীরা ক্ষমতার পদলেহন করেন না; বরং ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণের সাহস রাখেন। সে কারণেই তারা শাসকগোষ্ঠীর কাছে হুমকি হয়ে ওঠেন। রায়ের বাজার ও জিগাতলার বধ্যভূমিতে ধরে নিয়ে হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস তাই কেবল স্মরণের দিন নয়, বরং নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আত্মসমালোচনার দিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা শুধু অতীতের স্মৃতি নন; তারা আমাদের দৈনন্দিন চিন্তা ও মননের অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিচিহ্নগুলো শহীদদের উপস্থিতিকে জীবন্ত করে রাখে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি তাদের আদর্শ ও উত্তরাধিকার যথাযথভাবে বহন করতে পারছি?

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন মানে কেবল ক্ষমতার হাতবদল নয়। একটি সমাজে ক্ষমতার সম্পর্ক, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও মতপ্রকাশের পরিসর, সবই রাজনীতির অংশ। সময়ের সঙ্গে ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটির ভাবার্থেও পরিবর্তন এসেছে। টকশো ও কলামনির্ভর আলোচনার আধিক্যে চিন্তার প্রকাশ বেড়েছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তার গভীরতা কমে গেছে। অথচ প্রকৃত বুদ্ধিজীবীর কাজ হলো সমাজকে নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি করা এবং দিকনির্দেশনা দেওয়া।

সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একাত্তরের স্মৃতি আমাদের সম্মিলিত চেতনায় এতটাই প্রোথিত যে সংকটের সময়ে তা ফিরে আসে। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কথাবার্তায় শহীদদের স্মরণ নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অবিচ্ছেদ্য।

বিশিষ্টজনেরা একমত যে, সময় ও প্রেক্ষাপট বদলালেও সমাজকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে পরিচালিত করতে বুদ্ধিজীবীদের প্রয়োজন কখনোই শেষ হবে না।

একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীরা জাতিকে বারবার আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করাবেন—আজ, আগামীতেও।

আরটিভি/একে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির গুলশান কার্যালয়ে খোলা শোকবইয়ে সই করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে সই করেন তারা।  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। আরও পড়ুন বিদায় আপসহীন নেত্রী  এখন পর্যন্ত শোকবইয়ে যারা সই করেছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, ডেনমার্ক ও জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ সৌদি আরব, রাশিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিসহ ১৫ দেশের কূটনীতিক। শোকবইয়ে সই কার্যক্রম রাত ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আরটিভি/আরএ
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-প্রতিনিধির সই
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
আগামী ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজস্বখাতভুক্ত ১৬ ক্যাটাগরির ১৮৮টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার সে প্রেক্ষিতে আগামী ২ জানুয়ারি তারিখ সকাল ১০টা থেকে লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, প্রসেস সার্ভার ও ক্যাশ সরকার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, নোটিশ বোর্ড এবং প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র : বাসস আরটিভি/এমএ
২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন।  মাত্র কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেল ৫টায় ঢাকা ত্যাগ করেছেন। খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে আজ দুপুরেই তিনি ঢাকায় আসেন। সফরকালে জয়শঙ্কর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  আরও পড়ুন তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন। ভারত সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকেও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক ও কুশল বিনিময় সংক্ষিপ্ত এই সফরে জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসা পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস জয়শঙ্করই প্রথম ভারতীয় মন্ত্রী, যিনি ঢাকা সফরে এলেন। আরটিভি/এমএ
ঢাকা ত্যাগ করেছেন জয়শঙ্কর
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়ে তার শোকাহত জ্যেষ্ঠ পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরুর আগে এই দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। জানাজার স্থানে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি তারেক রহমানের কাছে যান। তিনি শোকসন্তপ্ত তারেক রহমানের হাত ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে গভীর সমবেদনা জানান।  এদিকে, জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এরপর বিকেল তিনটায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।  এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। আরটিভি/আরএ
তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রধান উপদেষ্টার
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতকে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমাদের মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।  আরও পড়ুন একযোগে এনবিআরের ১৭ কমিশনারকে বদলি হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নিতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  ‘যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ রায়হান। আরটিভি/এসআর
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আরও পড়ুন
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবিচল সাহস চিরস্মরণীয়: রাষ্ট্রপতি
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাবি ছাত্রদলের শ্রদ্ধা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যেসব কর্মসূচি পালিত হবে