ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

বেতন বেড়ে ‘দ্বিগুণ’ হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের, আরও যা জানা গেল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোতে মূল বেতন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন।তাদের সুপারিশ ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল ব্তেন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এর বাইরে এখনকার মতই অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রযোজ্য হবে। তাতে ঢাকায় সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০তম গ্রেডের একজন কর্মীর বেতন দাঁড়াবে প্রায় ৪২ হাজার টাকা।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে অর্থের সংস্থান রেখেছে। সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর তথ্য মিলেছে।

পে কমিশনের প্রধান, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান বলেন, আমরা ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টার সময় পেয়েছি। সেদিন আমরা প্রতিবেদন তার হাতে তুলে দেব। এতটুকু বলতে পারি, খুব ভালো কিছু হচ্ছে। খুব ভালো প্রস্তাব আমরা দিচ্ছি।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো করতে গত ২৪ জুলাই পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত এই পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এখন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পে কমিশন, যদিও বর্তমান সরকার এ কাজ শেষ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেতন কাঠামো ঘোষণার দাবি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অনেকেই আশা করছিলেন, জুন মাসে ঘোষিত নতুন অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে। তবে

শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার বদলে বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পে স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান।

এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০ তম গ্রেডে মূল বেতন হয় মাসে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া নবম গ্রেডের একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন হয় মাসে ২২ হাজার টাকা।

আর সর্বোচ্চ ধাপে একজন সচিব মাসে ৭৮ হাজার টাকা, জ্যেষ্ঠ সচিব ৮২ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন হিসেবে পান।

মূল বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত বাবদ আলাদা ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পান সরকারি কর্মচারীরা।

এছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতার পাশাপাশি বাংলা নববর্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়তি একটি ভাতা পান তারা।

কমিশনের একজন সদস্য বলেন, আমরা বর্তমানের মতই গ্রেড রাখছি। তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে অনুপাত কমানোর প্রস্তাব করছি। এখন ১:৯ হলেও নতুন বেতন-কাঠামোতে ১:৮ করছি।

সবক্ষেত্রেই বর্তমান বেতনকাঠামোর তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা সব সেক্টরের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছি। বিস্তর আলোচনা করে বর্তমান মূল্যস্ফীতির বিবেচনা করে এটা করা হয়েছে। একজন ২০ গ্রেডের কর্মী যদি ঢাকায় চাকরি করেন, তাহলে মূল বেতনের ৬৫ শতাংশ বাসা ভাড়া পান। সে হিসেবে তার অন্যান্য সুযোগ মিলে এটি দাঁড়াবে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। বর্তমানে পান প্রায় ১৭ হাজার টাকা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে একমাত্র বাজেট দিতে এসে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করে। পরে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ২৪ ডিসেম্বর বাজেটের আকার দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বেশি।

সংশোধিত বাজেটে এসে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ছয় হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এর ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ কমালেও সংশোধিত বাজেটের আকার কমেছে কেবল ২ হাজার টাকা।

নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে তার অর্থের সংস্থান এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর যেসব ঘোষণা এসেছে তার ব্যয়ও এই বরাদ্দের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা।

তার ভাষ্য, সাধারণত বেতন কাঠামোতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মূল বেতন ও ভাতা আলাদা কোডে সংস্থান করা হয়। সে হিসাব করে মূল বেতন বা ভাতার যে কোনো একটি জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এ অর্থের সংস্থান দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের বিবেচনাধীন থাকবে।

এদিকে উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পে-কমিশন ‘সাবস্টেনটিভ’ কাজ করছে। তবে বাস্তবায়নের ব্যাপারটা ‘অন্য জিনিস’।

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
দিল্লি না, পিন্ডি না, সবার আগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দীপ্ত উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেছেন, ইতিহাস সচেতন বর্তমান প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা রক্ষায় সিপাহী-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে স্বপরিবারে গৃহবন্দি করেছিল। কিন্তু দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেয়। এর মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর হিসেবে ৭ নভেম্বরের জন্ম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশে পুনরায় একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে সেই পরাজিত অপশক্তির পুনরায় পতন ঘটেছে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একটাই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’ দেশের নাগরিকদের পরিচয়ের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, ‘আমরা বাংলাদেশি’। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, এটি আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। তিনি তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে বর্তমান সরকারের বদ্ধপরিকর হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার মূল মন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তারেক রহমান উপস্থিত হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর উদ্দেশে স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ’। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে উপস্থিত জনতা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর এবং বাংলাদেশ স্কাউটস-এর যৌথ উদ্যোগে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
দিল্লি না, পিন্ডি না, সবার আগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন।
৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস / বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
নয়াপল্টনে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতির উপস্থিতি উৎসুক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শোভাযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ
‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’এমন নানা স্লোগানে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকা সেনানিবাস ও রাজধানীর রাজপথ। ব্যারাক ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকেরা।
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ
আরও পড়ুন
সরকারি চাকারি প্রত্যাশীদের জন্য বড় সুখবর
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন
২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন
এবার বেসরকারি শিক্ষকদের পে-স্কেল নিয়ে নতুন খবর