ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ল ৫ হাজার টাকা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ল ৫ হাজার টাকা। ছবি: সংগৃহীত

অর্থ মন্ত্রণালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আগে ভাতা পেতো ২০ হাজার টাকা।

এ ছাড়াও বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া মাসিক ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ।

এতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত মোট ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার নির্ধারিত হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এই সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার জন বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার জন বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ২৯ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।

মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা হারে এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১০০০ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন। চলতি অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৯৫০ টাকা, ১০০০ টাকা, ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার জন বৃদ্ধি করে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়। মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়।

অন্যদিকে, অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/ মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বৃদ্ধি করে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়েছে। অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/ মেধাবৃত্তি মাসিক হার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৭০০ টাকা, ৮০০ টাকা, ১০০০ টাকা এবং ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে মোট ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ক্যান্সার, কিডনি, লিভার-সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বৃদ্ধি করে ৬৫ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার স্থলে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বৃদ্ধি করে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রতি পরিবার কেজিতে ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে মোট ৬ মাস খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন।

আরটিভি/কেআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
দিল্লি না, পিন্ডি না, সবার আগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দীপ্ত উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেছেন, ইতিহাস সচেতন বর্তমান প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা রক্ষায় সিপাহী-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে স্বপরিবারে গৃহবন্দি করেছিল। কিন্তু দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেয়। এর মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর হিসেবে ৭ নভেম্বরের জন্ম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশে পুনরায় একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে সেই পরাজিত অপশক্তির পুনরায় পতন ঘটেছে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একটাই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’ দেশের নাগরিকদের পরিচয়ের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, ‘আমরা বাংলাদেশি’। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, এটি আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। তিনি তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে বর্তমান সরকারের বদ্ধপরিকর হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার মূল মন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তারেক রহমান উপস্থিত হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর উদ্দেশে স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ’। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে উপস্থিত জনতা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর এবং বাংলাদেশ স্কাউটস-এর যৌথ উদ্যোগে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
দিল্লি না, পিন্ডি না, সবার আগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন।
৭ নভেম্বর আধিপত্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিজয়ের দিন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস / বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
নয়াপল্টনে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতির উপস্থিতি উৎসুক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শোভাযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ
‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’এমন নানা স্লোগানে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকা সেনানিবাস ও রাজধানীর রাজপথ। ব্যারাক ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকেরা।
যেসব স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল ৭ নভেম্বরের রাজপথ