ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন ভূমি আইনে এলো যুগান্তকারী পরিবর্তন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সরকার দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রণীত নতুন ভূমি আইন জমির মালিকানা, খাজনা আদায় এবং ভূমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জমির মালিকদের জন্য চালু হচ্ছে আধুনিক ও ডিজিটাল ‘ভূমি মালিকানা সনদ (CLO)’, যা স্মার্ট কার্ড আকারে ইউনিক নম্বর বা কিউআর কোড যুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে এই সনদ জমির মালিকানার চূড়ান্ত ও বৈধ দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. খাজনা পরিশোধে নতুন নিয়ম: কোনো জমির খাজনা ধারাবাহিকভাবে তিন বছর না দিলে সেই জমি সরকারি মালিকানায় চলে যাবে এবং খাস জমি হিসেবে বাজেয়াপ্ত হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২. জালিয়াতি ও অবৈধ দখলে কঠোর শাস্তি: ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অবৈধ দখল রোধে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধ দখল বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই দেওয়া যেতে পারে।

৩. মালিকানা পরিবর্তনে CLO হালনাগাদ বাধ্যতামূলক: জমির মালিকানা বদল হলে দ্রুত ভূমি মালিকানা সনদ হালনাগাদ করতে হবে। জমি হস্তান্তরের পর নামজারি এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৪. কৃষিজমি রক্ষায় কড়াকড়ি: কৃষিজমি সংরক্ষণে কঠোর বিধান আরোপ করা হয়েছে। দুই বা তিন ফসলি জমি সাধারণভাবে অধিগ্রহণ করা যাবে না। বিশেষ জনস্বার্থে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া, সরকারের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নতুন ভূমি আইন বাস্তবায়িত হলে দেশজুড়ে জমির মালিকানা নির্ধারণ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং খাজনা আদায়ে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অবৈধ দখল কমে আসার আশাও প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যা কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং জমির মালিকানায় স্থিতিশীলতা আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার দূরদর্শী প্রতিফলন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার এক তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন। 
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার দূরদর্শী প্রতিফলন
জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলিষ্ঠ, তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর ব্যঞ্জনাময় যে ভাষণ দিয়েছেন তা’ আমার বিবেচনায় বিরলপ্রজ।
জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান
‘আ.লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে।
‘আ.লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে’
‘জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই বর্তমান সংকটের মূল কারণ’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের দায় আগের সরকারের। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের আয়োজনে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। আব্দুল বারী বলেন, দেশে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কোথা থেকে আসবে, তার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়নি। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতের এসব অপরিকল্পিত প্রকল্প ছিল আগের সরকারের অর্থ লুটপাটের পরিকল্পনার অংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারও দায়িত্ব পালনকালে যথাযথভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রুনাই ও মালয়েশিয়াসহ নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধানে বাপেক্সকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকার দ্রুত সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় উত্তরবঙ্গের আমশিল্পের উন্নয়ন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পরে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আরটিভি/এসএস
‘জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই বর্তমান সংকটের মূল কারণ’
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর
নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর (পে স্কেল) প্রজ্ঞাপনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরও একটি সুখবর দিয়েছে সরকার। সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) ও প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের (সিপিএফ) জমার বিপরীতে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি সুখবর