প্রথমবার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে জানতে হবে যেসব তথ্য

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৯ পিএম


প্রথমবার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে জানতে হবে যেসব তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে ও পরের কিছু বিষয় জানা থাকা জরুরি। 

বিজ্ঞাপন

ভোট দিতে কী কী তথ্যের প্রয়োজন, ভোট দেওয়ার নিয়ম, ব্যালটপেপার ভাঁজ করতে হয় কি করে এবং নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলার বিষয়ে জেনে নিলে ভোট প্রদানে কোনো জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না। কারণ আপনার একটি ভোটই বলে দেবে, দেশের সিদ্ধান্তে আপনার মতামতের গুরুত্ব কত বেশী। 

নতুন ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়া নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় কিছুটা দ্বিধা বা সংশয় কাজ করতে পারে। এই দ্বিধা যেন কাউকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত না রাখে, সেজন্য ভোট দেওয়ার বিস্তারিত নিয়মাবলী জানা অত্যন্ত জরুরি।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ব্যবহার করে এসব তথ্য সহজেই জেনে নেওয়া যাবে। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ইন্সটল করা যাবে। এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটকেন্দ্র, ভোটার নম্বর এবং ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়া যাবে। এ জন্য ১০৫ নম্বরে কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে। এসব তথ্য দিয়ে সহজেই জেনে নেওয়া যাবে ভোটকেন্দ্রসহ বাকি তথ্য।

অ্যাপ ও হটলাইন ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। সেজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘পিসি এনআইডি’ (PC NID) লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। এসব ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস থেকেও এ তথ্য পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা উচিত। তবে এটির ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এনআইডিকার্ড থাকলে নাম ও ছবি ভোটার তালিকায় থাকলে এবং পোলিং অফিসার ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে সহজেই ভোট দিতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কোনো রকম দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার প্রথমে ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। এরপর প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট)। ব্যালট পেপারের পেছনে অবশ্যই অফিশিয়াল সিল এবং প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না দেখে নিতে হবে।

ব্যালট পেপার নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষে ভোট প্রদানের জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষে যেতে হবে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভোটটি যেন বাতিল না হয়, সে জন্য ব্যালট ভাঁজ করা প্রত্যেক ভোটারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ/না ভোট আলাদা ব্যালটে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট পেপার এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করা নিরাপদ। ভাঁজ করা ব্যালট পেপারটি উন্মুক্তস্থানে রাখা সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে ভোট দিতে হবে। ভোট প্রদান প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না। এবারের ভোট হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে, অর্থাৎ কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে। ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফরমগুলো কেবল তথ্য আদান-প্রদান ও প্রশাসনিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, ভোট প্রদানের জন্য নয়।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission