ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

‘জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস জুগিয়েছিল’

বাসস

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে আমাদেরকে সাহস জুগিয়েছিল।

বুধবার(২৫ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ দফতরে বসে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে আমাদের গোটা জাতিকে একটা নতুন ভূখণ্ড, নতুন পতাকা এবং নতুন একটা পরিচিতির সুযোগ করে দিয়েছিল। একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তারও পূর্বে বহুদিন ধরেই এ দেশের মানুষ স্বাধিকারের জন্য সংগ্রাম করছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার এই ঘোষণা আমাদের ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে আমাদেরকে সাহস জুগিয়েছিল।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করছি। ২৫শে মার্চ দিনটি ছিল আমাদের জন্য ভায়াল কালো রাত্রি। এইদিন পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

অসংখ্য মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছিল। পরে ২৬শে মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতি মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায় প্রবেশ করলো।

বিশাল একটি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা, এটা নিঃসন্দেহে এই জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের। এ কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের কাছে এত বেশি প্রাসঙ্গিক, অনুকরণীয় এবং স্মরণীয়।

আরও পড়ুন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নিজের কানে শোনার অনুভূতি প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই অনুভূতি এতটাই গভীর যে প্রকাশ করা কঠিন। সে সময়টা ছিল আমাদের একদম পূর্ণ যৌবন। আমরা তখন টগবগ করছি যুদ্ধের জন্যে, লড়াইয়ের জন্যে। দেশের মানুষও তখন দেশ স্বাধীনের নেশায় লড়াই- সংগ্রামে নামতে মুখিয়ে আছে। অথচ কোনো দিশা নেই, দিক-নির্দেশনা নেই। ঠিক সেই সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের ভেতরে টগবগিয়ে উঠলো, মনে হলো এই বুঝি মুক্তির দিশা মিললো।

রক্তঝরা সংগ্রাম কখনো ব্যর্থ হতে পারে না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একটি দেশের জনগণের স্বাধিকারের লড়াই-সংগ্রাম কখনো ব্যর্থ হয় না। আমাদেরও মনে হয়েছে, জনযুদ্ধ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ কখনো ব্যর্থ হবে না। এ যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে আমার পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন আমি হয়ত বেঁচে ফিরব না। কিন্তু আমার কখনো এ রকম মনে হয়নি। আমরা সবসময় অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম, হয়তো লম্বা সময় লাগতে পারে তবে বাংলাদেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন আমি সবে মাস্টার্স পাস করেছি। বয়স ২৫ বা ২৬ হতে পারে। আমি তখন ঠাকুরগাঁয়ে ছিলাম।

ক্র্যাক-ডাউনের পরে ঠাকুরগাঁয়ে তখন বিডিআর কমান্ডার অফিসার যিনি ছিলেন, তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি। বাকিরা বেশিরভাগ ছিলেন বাঙালি। ২৫ তারিখ রাতের পরেই ওখানে বিডিআর কারফিউ দেয়। ওই সময় লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ২৬ তারিখ সকালবেলা থেকেই গোলাগুলি শুরু হয়। গুলিতে তিন-চারজন শহীদ হয়। তারপর সবাই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়। আমরা তখন তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহাকুমায় মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম।

আমরাও আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাই এবং একটা বাসায় আশ্রয় নেই। তখনই জানতে পারি দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিরোধ শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ২৬ তারিখে রাত্রিবেলা আমরা প্রথম জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনতে পাই। ২৭ তারিখে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা শুনতে পাই। এটা শুনেই আমরা সবাই রাস্তায় বেরিয়ে আসি।

মানুষকেও বের হওয়ার জন্য ডাকতে থাকি। তখন ওখানকার এসডিপিওকে গিয়ে বলি তোমার আর্মসের আলমারিটা খুলে দাও। খুলে দেয়ার পরে সেখান থেকে কিছু আর্মস নিই। পরে বিডিআরের কিছু অংশ বিদ্রোহ করে। তারাও আমাদের সঙ্গে একই জায়গায় শেল্টার নেয়। তাদের সহযোগিতায় আমরা সৈয়দপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে যে হাইওয়ে রাস্তাটা আসছে, এই রাস্তাটা ধরে যে ব্রিজ এসেছে সেটা কেটে দিই। যাতে সৈয়দপুর থেকে পাকবাহিনী আসতে না পারে। ভোরের দিকে বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটা অংশ আসে। তখনকার বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসারের নাম ছিল ক্যাপ্টেন নাসের। পরে সে মেজর জিয়াউর রহামনের আমলে এনএসআই চিফও হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিডিআরের দিনাজপুরের তৎকালীন কমান্ডার মেজর নজরুলের নেতৃত্বে একটি কমান্ডো তৈরি করা হয়। তারা বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কিছুটা ডিফেন্সিভ ব্যবস্থাও নেয়। এ সময় ঠাকুরগাঁও শহরে আমরা একটি ‘কন্ট্রোল রুম’ এস্টাবলিশ করি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের আর্মস ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ১৪ এপ্রিল সৈয়দপুর থেকে পাক আর্মি অর্গানাইজড হয়ে কাউন্টার শেলিং শুরু করে। মর্টারশেল দিয়ে তারা পুরো দিনাজপুরে আক্রমণ করে। যখন খুব বেশি শেল পড়তে থাকে, তখন আমাদের যে হেডকোয়ার্টার তা ধ্বংস হয়ে যায়। বিডিআরের বেঙ্গল রেজিমেন্টের অংশ তখন ঠাকুরগাঁও ছেড়ে পঞ্চগড়ের বর্ডারে চলে যায়।

জায়গায়টা একদম ভারত সীমান্তের কাছাকাছি। ওইখানে সবাই গিয়ে আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। কিন্তু আমরা সেখানে আশ্রয় নিইনি। আমরা আমাদের পাশে থুকরাবাড়ি বর্ডার দিয়ে নাগর নদী পার হয়ে ইন্ডিয়ায় চলে যাই। আমার পুরো ফ্যামিলিও ইন্ডিয়ায় চলে যায়। অর্থাৎ আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, আমরা সবাই ওই পারে চলে যাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওখানে গিয়ে আমরা পরিচিতদের কাছে আশ্রয় নিই। পশ্চিম দিনাজপুরে ইসলামপুর শহর নামে একটি সাবডিভিশন শহরে আশ্রয় নিই। সেখানে দিলীপের সাইকেল স্টোর নামে একটি সাইকেল স্টোরে থাকি। এই দিলিপের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আমাদের পরিচয় হয়। সে আমাদের থাকার জায়গা দেয়। তার সাইকেল স্টোর আলমিরার পেছন দিকে একটু ছোট জায়গায় রাতে খুব কষ্ট করে থাকতাম। জায়গাটা এতো ছোট জায়গা যে কোনো রকমে মাথাটা রাখা যেত। আমার চাচা বাবলু মির্জাসহ সাতজন সেখানে থাকতাম।

তিনি বলেন, আমরা তখন চেষ্টা করেছি ভারতের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের জন্য একটা ইউথ ক্যাম্প করতে পারি কি না। পরে পশ্চিমবাংলা সরকার আমাদের ইসলামপুর হাই স্কুলে শিফট করে দেয়। পরবর্তীতে আমরা সেখানেই থাকতাম। আমরা বর্ডারে অর্গানাইজিং ইউথ ক্যাম্প তৈরি করি। এক সময় বিহারের চিফ মিনিস্টার কর্পুরি ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের আরও কিছু ইউথ ট্রেনিংয়ের জন্য ব্যবস্থা করে দেন। আমাদের পরিধানের জন্য প্রয়োজনমতো পোশাকও দেন।

এরপরে কয়েকটা ইউথ ক্যাম্প তৈরি হয়। বর্ডার এলাকায় একটা ক্যাম্পের নাম ছিল থুকরাবাড়ি ইউথ ক্যাম্প।

থুকরাবাড়ি ইউথ ক্যাম্পে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অব ইন্ডিয়া বিএসএফ-এর ক্যাম্প কমান্ডার সুভাসের নেতৃত্বে ট্রেনিং শুরু হয়। এরপরে আস্তে আস্তে যখন আরো অর্গানাইজড হয়, তখন ইন্ডিয়ার সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট যুক্ত হয়।

তারা বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে। বিশেষ করে পরবর্তীকালে দেরাদুন এলাকায় ওরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে। আমরা আমাদের ছেলেদের সেখানে রিক্রুট করি। আমরা নিজেরা কো-অর্ডিনেট করতে থাকি, আমরা মূলত সংগঠকের ভূমিকাটা পালন করি। এরপরে তো বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স তৈরি হয়। তারা রিক্রুটমেন্ট শুরু করে। এভাবেই আমরা কাজ করেছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২৬ মার্চটা ছিল মূলত বিগিনিং এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে স্বাধীনতার ঘোষণা, সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। শুধু আমরা নই, দেশের সব মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অথচ গত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫ বছর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে অস্বীকার করা হয়েছে। ‘

বাট দ্যাট ইজ দা রিয়েলিটি’। শুধু আমার কথা নয়। ওই সময় যারাই ছিলেন তারা সবাই এটা জানেন। সত্যিকারের ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা যায় না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ মুজিব ধরা পড়ে পাকিস্তানিদের হাতে চলে যান ‘সেন্স অব ডিরেকশনে’ (একক সিদ্ধান্তে)। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথমেই ইন্ডিয়াতে চলে যায়। তারা প্রথম দিকে কোনো নেতৃত্ব দিতে পারেনি। ইন্ডিয়ায় গিয়েও তারা অনেক পরে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক কাজ শুরু করে। তখন আমরা যারা বাম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম, তারা আরেকটা বড় বিপদে পড়ি। আওয়ামী লীগ আমাদের ‘ওউন’ করতে চায় না। ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে আমাদের বহু লোককে গ্রেফতার করায়। এমনকি আমাকেও বহুবার থানায় হাজিরা দিতে হয়েছে। যে কারণে আমরা বাম সংগঠনগুলো মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে একটা ফ্রন্ট তৈরি করি। সেখানে হায়দার আকবর খান রনো, রাশেদ খান মেনন, কাজী জাফর আহমেদ সবাই ওই ফ্রন্টের ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের কাজ শুরু করি।

যুদ্ধকালে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তখন হয়েছি, যখন আমরা যারা বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আমাদের শত্রু মনে করতে শুরু করল। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হতে না পারি সে জন্য সব চেষ্টা তারা করেছে। যে কোনো ভাবে আমাদের বিপদে ফেলার জন্য তারা ওত পেতে থাকত। এ বিষয়গুলোকে এড়িয়ে কাজ করাটা ভীষণ চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো সময়টাতে আওয়ামী লীগ কখনোই আমাদের মেনে নিতে পারেনি। নানা প্রতিবন্ধকতা আর অনিশ্চয়তা তাড়া করে ফিরতো। তবুও দুচোখে যুদ্ধজয়ের স্বপ্ন থাকতো, যে আমরা জিততে পারবোই। প্রথম দিকে হয়তো হতাশা এসছে কিন্তু তারপরে আস্তে আস্তে সেগুলো কেটে গেছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জুম্মার নামাজ শেষে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়
শিশুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা আর আন্তরিকতায় কিছুটা সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুমার নামাজ শেষে শিশুদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কুশল বিনিময় করেন তিনি।
জুম্মার নামাজ শেষে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়
মোটরসাইকেল চালকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা বিআরটিএর
মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় মোটরযান চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সধারীদের জন্যও দিয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাসে পরিবর্তন এনে সংশোধিত বিধিমালা জারি করেছে সরকার। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিআরটিএর ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারীরা কেবল বৈধ প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সময় মোটরযান চালাতে পারবেন। এ সময় গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন রাখতে হবে। মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ চালক রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলে সামনে ও পেছনে দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন লিখে অথবা বোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে হয়। ‘L’ হলো Learner শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এই চিহ্ন দেখে অন্য চালকরা বুঝতে পারবেন, গাড়িটি একজন নতুন চালক চালাচ্ছেন। ফলে তারা সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারবেন। এদিকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ নম্বর বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত বিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বিআরটিএকে। প্রয়োজনে নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে। একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা ও যানবাহন শনাক্তকরণ সহজ হতে পারে। প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো এক রকম নয়। কোনো কোনো মোটরসাইকেলে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন। এ কারণে মোটরসাইকেলের গঠন অনুযায়ী নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সড়কে যানবাহন শনাক্তকরণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও সামনের নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ায় যানবাহন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। আরটিভি/এসআর  
মোটরসাইকেল চালকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা বিআরটিএর
সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। 
সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  তিনি বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।  আগামীকাল ৭ নভেম্বর ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে রাষ্ট্র। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সকল বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বাণীতে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির এই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার। সিপাহি ও জনতার এই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ-উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। সেই একই চেতনা পুনর্জাগরিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। এসময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে আবারও রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ। আমাদের জাতীয় জীবনে এই বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্তি দেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন, সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করেন সুশাসন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আজ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করা অপরিহার্য। আরটিভি/এসআর  
৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী
১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  দিবসটি উপলক্ষে একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’ সর্বদা ইতিহাস চর্চায় মশগুল থাকা সমীচীন নয়, একইভাবে ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি মনে করি, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যারা দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল, জনগণের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল।  হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে, বীর ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে, বাণীতে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।’ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-ভৌগোলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তার ভাষ্য, ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, এভাবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব কিংবা অভ্যুত্থানের একটাই আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সবাইকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তিনি জানান, ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদ্যাপন উপলক্ষে সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।  আরটিভি/এসআর  
সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী