ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার অবলম্বন: প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  ছবি: সংগৃহীত

শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান। এসময় তিনি দেশ-বিদেশে কর্মরত সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে অধিকার আদায়ে জীবন উৎসর্গকারী শ্রমিকদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার। আমি মনে করি, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র এবং সমাজের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের চাবিকাঠি। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই শহিদ জিয়া নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রমিক কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে, শ্রমবাজার তৈরি করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই প্রবাসী শ্রমিকরা বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

আরও পড়ুন

বিএনপি সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশে শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, বেতন ও মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও তাদের বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের চিকিৎসা ও তাদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ কর্মসূচি বিএনপি সরকারই গ্রহণ করেছিল। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক রয়েছে পোশাক শিল্পে। এই শিল্পে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয়। পোশাক শ্রমিকদের কল্যাণে দেশ আজ ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ধারাবাহিকতায় শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার সমুন্নত রাখা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব এবং অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান তার বাণীতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন শ্রমবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মোট ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে নিবিড় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই বিগত ঈদুল ফিতরে দেশের সকল শ্রমিকের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি সময়মতো পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বর্তমান সরকার। ভবিষ্যতেও একইধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সচেষ্ট। নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা করে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করতেও সরকার বদ্ধপরিকর। প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাসহ নানাবিধ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার 'প্রবাসী কার্ড' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে। তিনি মে দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

উল্লেখ্য, এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। এই প্রতিপাদ্যের অন্তর্নিহিত প্রেরণাকে ধারণ করেই বিশ্বের সকল দেশের সাথে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চিনি, ইউরিয়া ও এমওপি, ডিএপি সার এবং এলএনজিসহ মোট ১১টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। 
ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন
খাদ্যে অনিয়ম ঠেকাতে ৮ মাসে ৭৪৪ অভিযান, জরিমানা ৩ কোটি টাকা
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আইন প্রয়োগ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
খাদ্যে অনিয়ম ঠেকাতে ৮ মাসে ৭৪৪ অভিযান, জরিমানা ৩ কোটি টাকা
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে যা জানালেন ইসি
নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ইসি সানাউল্লাহ। তার আশা, সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়েই আগামী ২৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে যা জানালেন ইসি
৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ ডব্লিউএইচওর
টিকার আওতা বাড়াতে সহায়ক হলে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত মানবদেহে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে দেশগুলোকে সুপারিশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা। জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠীর (সেজ) চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট মঙ্গলবার এ সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ১৬৫টি দেশ ইতোমধ্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (এইচপিভি) টিকা চালু করেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তবে বিশ্বব্যাপী এইচপিভি টিকাদানের হার ৩৩ শতাংশ, যা আমাদের নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।’ ডব্লিউএইচওর মতে, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী সব মেয়ের জন্য এইচপিভি টিকাদান অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ২০২২ সালে সেজ ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একই বয়সভিত্তিক সূচি ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। আর ২১ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। হালনাগাদ গবেষণালব্ধ প্রমাণ পর্যালোচনার পর সেজ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। স্কট বলেন, ‘টিকা গ্রহণের হার ও আওতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে জরায়ুমুখ ক্যানসার হয়। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে পঞ্চম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার ছিল এটি। ওই বছর এ রোগে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান। ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন বলেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে। সেজ সুপারিশ করেছে, এক ডোজের এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া, এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের এ সুযোগ সম্প্রসারণ, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং সবশেষে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভির আটটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। ডব্লিউএইচও জানায়, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে অবস্থিত। আরটিভি/এসকে
৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ ডব্লিউএইচওর
আরও পড়ুন
নবম পে-স্কেল অনুমোদন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুঃসংবাদও
তারেক রহমানকে পাঠানো চিঠিতে যা লিখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সৌজন্য সাক্ষাৎ