ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিআরটি প্রকল্প ভেঙে ফেলতে হবে: সড়কমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ গণসচেতনতামূলক সভায় বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, গাজীপুরের বিআরটি প্রকল্প যারা নিয়েছিল, তারা একটি ত্রুটিযুক্ত প্রকল্প নিয়েছিল। এই প্রকল্পটি বাস চলাচলবান্ধব ছিল না।

রোববার (২৪ মে) বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ গণসচেতনতামূলক সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রথম প্রস্তাব এই প্রকল্পে আরও ৫০০-৬০০ কোটি টাকা ব্যায় করলে সুফল পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রস্তাব হচ্ছে এই প্রকল্পটি ভেঙে অপসারণ করতে হবে। দুটি প্রস্তাবই পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করেছি। সেই কমিটিতে পর্যালোচনা চলছে, ঈদের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে আরও ৫০০-৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রকল্পটি যদি চালু রাখতে পারি, তাহলে আমার মনে হয়েছে প্রকল্পটি উচ্ছেদ করার থেকে আরও বেশি কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে যেটা যুক্তিযুক্ত এবং জনবান্ধব, সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

ঈদযাত্রা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা যারা দায়িত্বে বসে আছি, আমাদের তখনই ঈদ মনে হয় যখন শুনি ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে। সড়ক ফাঁকা হয়েছে। আজকের সভায় আমি উপস্থিত হতে পেরে আনন্দিত। আজকে পরিবহনসংশ্লিষ্ট আপনারা যারা এখানে উপস্থিত আছেন, আপনাদের কাছে আমি একটি দাবি করে যাচ্ছি- এই ঈদযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ যাতে স্বস্তিতে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। আপনারা সাধারণ মানুষ এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা যদি আমাদের জন্য এই কাজটা করেন, তাহলে আমরাও কথা দিচ্ছি আপনাদের দাবিগুলোও আমরা বাস্তবায়ন করব।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, হাইওয়ে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন, মহাসচিব মো. সাইফুল আলম ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর খান।

আরটিভি/এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানবিকতার তাগিদেই সীমান্ত খুলে দিয়েছিলো বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী 
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের ভার একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংকটের স্থায়ী সমাধান, বিচার ও জবাবদিহি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। ২০১৭ সালে সহিংসতার পর সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই পরিস্থিতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়লেও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা চাওয়া হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার বিকল্প হতে পারে না। অনির্দিষ্টকাল ধরে শুধু বাংলাদেশকেই এ দায়িত্ব বহন করতে বলা যায় না। তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি- উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং মানবপাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হলে তাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আরটিভি/এআর 
মানবিকতার তাগিদেই সীমান্ত খুলে দিয়েছিলো বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী 
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। সংকটের মূল কারণ ও তার সমাধানে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইন বৈঠকে পাঁচটি প্রস্তাব রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ প্রস্তাবনা তুলেন তিনি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার সময় এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ব্যয় প্রতিদিনই বাড়ছে-শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও। বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ এখন বিপুল। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবপাচার, অবৈধভাবে অভিবাসী পাচার, মাদকপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। একটি দেশে অমীমাংসিত থেকে যাওয়া সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে। এসময় রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটাতে পাঁচটি ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।  তার প্রস্তাবনাগুলো হলো:— প্রথমত, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনের অনুকূল। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করতে হবে। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে তাদের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও স্বীকার করি, যেখানে ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাও কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহায়তা দিতে হবে। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পঞ্চমত, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। আরটিভি/এসআর  
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিযোগী নয়, বরং হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিযোগী নয়, বরং হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বখ্যাত দানশীল সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক সুজম্যান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর বৈঠক
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশকে ২৪৬০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ দুই হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। এ ঋণের মাধ্যমে ঢাকার আশপাশের উপশহরীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও সহনশীলতা বাড়ানো হবে। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ বা বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (বিআরইবি) সহায়তা করবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরাঞ্চলে সেবা দেওয়া ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে। এডিবির সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন সমস্যা- যেমন সাবস্টেশনে অতিরিক্ত লোড, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ অপচয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করা হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশ যখন একটি অধিকতর সমৃদ্ধ, সহনশীল এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পটি উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি-কেন্দ্রিক এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এর ফলে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। প্রকল্পটির আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে এক হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে এবং বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে।  এছাড়া, নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই হাজার ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি ওভারহেড (উপরিভাগের) ও আন্ডারগ্রাউন্ড (ভূগর্ভস্থ) বিতরণ লাইন নির্মাণ বা উন্নয়ন এবং ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।  সিস্টেম পরিচালনার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নদী-পারাপারের উপযোগী সঞ্চালন কাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করবে এবং দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ ও সেবা পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ‘ফল্ট লোকেটর সেট’ (ত্রুটি শনাক্তকারী যন্ত্র) স্থাপন করবে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়ন অর্জনে সক্ষম হলেও, দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রকল্পটি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের জন্য এডিবির বিশেষ ‘রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং’ বা দুর্যোগ-সহনশীলতা বিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬৫ কোটি ডলার।  এর আওতায় পরিবেশবান্ধব ‘গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার’ প্রযুক্তির মতো অভিযোজন-সহায়ক ব্যবস্থার জন্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি অপচয় হ্রাসের মাধ্যমে বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রায় ২০৩৭৫১ টন (কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমতুল্য) কমাতে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিআরইবি ও পিবিএস -গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পিবিএস-গুলোর আর্থিক স্থায়িত্ব জোরদার করার মাধ্যমে এটি বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে।  এছাড়া প্রকল্পটি নারী ও মেয়েদের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল বিভিন্ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের উন্নয়ন। এডিবির এই সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবি-র পক্ষ থেকে ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলারের সহ-অর্থায়ন যুক্ত রয়েছে। এছাড়া, এডিবির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘রিপাবলিক অফ কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে প্রাপ্ত ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থায়িত্ব বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। আরটিভি/এসআর  
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশকে ২৪৬০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি
আরও পড়ুন
মন্ত্রণালয়ে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তাকে বদলি
মোটরসাইকেলসহ গাড়ির মালিক-চালকদের বড় সুখবর দিল বিআরটিএ
১০ হাজার টাকা ভাতায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে বিআরটিসি