পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
‘পবিত্র ঈদুল আজহা’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি কোরবানির আনন্দ দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষ এবং অভাবগ্রস্তদের সঙ্গে যথাযথভাবে ভাগাভাগি করে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয় এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।
মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আযহা আবারও আমাদের সামনে সমাগত বলে উল্লেখ করে তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হযরত ইবরাহিম (আ:) তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ:)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে। এই মহান ঘটনা আমাদের আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।’
কোরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ যোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে।
নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা এবং কোরবানির বর্জ্য ফেলা, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
পবিত্র ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদ নয়, সম্প্রীতি; হিংসা নয়, সৌহার্দ্য; স্বার্থপরতা নয়, উদারতা-এই চেতনা লালন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ রেখে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির ওপর তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আযহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।
আরটিভি/ এসকেডি



