কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে পুলিশ।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিলসহ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে। এর ফলে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ ও কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহাখালীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এ সময় তিনজনকে আটকও করা হয়েছে। এছাড়া, গতকাল গণভবনের সামনে যুবলীগও মিছিল করে।
পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
আরটিভি/এসএইচএম




