ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

পদ্মা ব্যারাজ: বদলে যাবে ২৪ জেলার ভাগ্য, সুফল পৌঁছাবে সারাদেশে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বদলে যাবে ২৪টি জেলার ভাগ্য। নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট ও সীমিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পৌঁছাবে সারাদেশের মানুষের কাছে।

নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি বদলে কৃষকের কাছে পৌঁছবে মিঠা পানি, যা কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে বিরাট বিপ্লব এনে দেবে। এতে বছরে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ থেকে ৫ টন। নিরবচ্ছিন্ন সেচ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ৬ থেকে ৭ টন পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা।

একইভাবে গমের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। তারা এই প্রকল্পের সুফল পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হত না। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এজন্য তিনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা পাড়ের জেলাগুলোতে নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট দূর করতে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কয়েকশ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হলে বন্যার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষকে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন, সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটা রক্ষা পাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত মিলিয়ে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কৃষিযন্ত্র, বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণন খাতেও নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গুদামজাতকরণ, হিমাগার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের চাহিদাও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সেই হিসেবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এক থেকে দুই লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত রোববার
আগামী রোববার (১ নভেম্বর) পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।  শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, রোববার সকাল থেকে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে। ‘শ্রমিক নেতাদের যে বক্তব্য, আমি মনে করি অবশ্যই আমাদের কিছু করণীয় আছে। তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে ইনশাআল্লাহ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।’ তিনি বলেন, আমাদের যেমন শিল্পকারখানা রক্ষা করতে হবে, পাশাপাশি শ্রমিকদের যে ন্যায্য দাবি, সেটিও আদায় করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা ন্যায্য দাবি পূরণে সক্ষম হয়েছি। আশা করি, রোববার থেকে ইনশাআল্লাহ শ্রমিকদের যে কাঙ্ক্ষিত দাবি, তা মঞ্জুর হবে। আরটিভি/এসআর
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত রোববার
সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ঢাকা-সৌদি রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত ঢাকা-সৌদি রুটের মোট ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধের ফলে শুক্রবার পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশের ৩৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজ ১৫টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, ইন্ডিগো এয়ারের ৩০টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সৌদিগামী ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক। এর আগে, গত ১১ অক্টোবর হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এছাড়া, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আরটিভি/এসআর
সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে টোকিও। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জাপান সফরের ফলাফল তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন। হুমায়ুন কবির বলেন, এই সফর বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখা ও তা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টিতে জাপানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে পারস্পরিক কল্যাণকর অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্বে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সফরটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করেছে। তিনি সফরটিকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। হুমায়ুন বলেন, সফরের ফলাফল সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। এ নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রচলিত সহজ শর্তের ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগের অংশীদার হবে। যার সঙ্গেই আমরা ব্যবসা করব, প্রকৃত পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই তা করব।’ তিনি বলেন, দুই দেশের উদীয়মান সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। এখানে কোনো দেশ অধস্তন বা নির্ভরশীল অবস্থানে থাকবে না। এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের বিষয়টি বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে, কোনো সরকারি ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নয়। কবে নাগাদ এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পারস্পরিক পরামর্শ ও মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই জাপানের একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার, সাশ্রয়যোগ্যতা, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন বিনিয়োগকেই অগ্রাধিকার দেবে, যা ব্যয়ের বিপরীতে যথাযথ সুফল নিশ্চিত করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে। অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআইজি-বি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ দীর্ঘদিনের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিআইজি-বি) উদ্যোগকে ‘বিআইজি-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআইজি-বি হিসেবে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন ঘটেছে। উন্নীত এ উদ্যোগে জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প স্থাপনা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, সফরে এ উদ্যোগের আওতায় আলোচনা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি।’ অন্য কোনো দেশকে যুক্ত করে আঞ্চলিক কোনো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সরকার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জাপান। আলোচনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতি, ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা বা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যতে জাপানের সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক সহনশীলতা জোরদার এবং জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সময়মতো সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি সহজ শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। জাপানের ঋণের শর্তাবলি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন বলেন, সাশ্রয়যোগ্যতা ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যমান অন্যান্য বিকল্পের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে গুরুত্ব প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি সহযোগিতা ও শিল্পের আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি করপোরেশন, মিতসুবিশি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশনসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনশিল্প এবং অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়। প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে অংশ নিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। হুমায়ুন কবির বলেন, করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জ্বালানি ও উৎপাদনশিল্পে সহযোগিতা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ফুৎসুতে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিবা প্রিফেকচারের একটি লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, এলএনজি স্থাপনা পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামো পরিকল্পনার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করা; জাপান থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা করা নয়। প্রধানমন্ত্রী ২৯ অক্টোবর নাগোয়া শহরে টয়োটার উৎপাদন কারখানাও পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশে গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে তাদের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। ছয়টি সহযোগিতা দলিল সই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জলবায়ু সহযোগিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছয়টি সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বিনিয়োগ সহায়তা এবং স্থানীয় সরকার উন্নয়নসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুই দেশ টেকসই নগরায়ণ, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায়ও বাংলাদেশ জাপানের অব্যাহত সম্পৃক্ততা চেয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও মতবিনিময় করেন। আরটিভি/এসআর  
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারত থেকে আমদানি করা চালে ‘ক্যান্সার সৃষ্টিকারী’ উপাদান, বিতরণ সাময়িক স্থগিত
ভারত থেকে আমদানি করে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সরকারি গুদামে রাখা চালের নমুনায় সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান ‘আফলাটক্সিন’-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর অধিকতর পরীক্ষার জন্য ওই চালানের বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। দেশের বেসরকারি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরীন আক্তার জাহান গণমাধ্যমটিকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত চালে আফলাটক্সিন তৈরি হতে পারে। নমুনায় যা শনাক্ত হয়েছে, তার মাত্রা সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। সহনীয় মাত্রা অতিক্রম করলে আফলাটক্সিন স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপোর (সিএসডি) চালের স্তূপ থেকে তিন সদস্যের একটি ব্রি প্রতিনিধিদল নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় হালিশহর এবং ঢাকার একটি সরকারি গুদামের চালের নমুনায় এই বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি মেলে।  এমন ফলাফলের পর ওই চালান থেকে গ্রহণ করা পুরো ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করে খাদ্য অধিদপ্তর। হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, খাদ্য কর্মকর্তারা এই লটের চাল দুবার পরীক্ষা করেছেন এবং ডিপো কর্তৃপক্ষকে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন; তবে পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ডিপোতে পৌঁছায়নি। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক রেজওয়ান সাকিবও চাল বিতরণ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আরটিভি/এসআর  
ভারত থেকে আমদানি করা চালে ‘ক্যান্সার সৃষ্টিকারী’ উপাদান, বিতরণ সাময়িক স্থগিত
তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক সংহতি এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন। ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের দূতাবাস এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর প্রজাতন্ত্র ঘোষণার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথি ও কূটনীতিকরা অংশ নেন। আসাদুজ্জামান বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক পর্যায়ে অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার ও এর বেশি পর্যায়ে উন্নীত করতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সহযোগিতা এখন রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমুখী করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন। দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও অবিচল সংহতির জন্য বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তুরস্কের সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কবিতাটি তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও অনুরাগের প্রকাশ। বাংলাদেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আরও সুযোগ অনুসন্ধানে তুরস্ক তার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করছে। দেশটিতে ইতোমধ্যে তুর্কি কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা-ইস্তাম্বুলের মধ্যে সরাসরি যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান চলাচল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনের বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। রাষ্ট্রদূত এ বছরের ৫ ও ৬ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আগামী ২১ জানুয়ারি, ২০২৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সামগ্রিক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আরটিভি/এসআর  
তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
পদ্মা ব্যারাজ থেকে মিলবে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, সুফল পাবে ১২০ উপজেলার মানুষ