কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: কৃষিমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ , ০৫:২১ পিএম


কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।  ফাইল ছবি

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। 

তিনি বলেছেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর ফলে কোন এলাকায় কী পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কত চাহিদা রয়েছে— এসব তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। এতে উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করা সহজ হবে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষিরাই নন; লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন এবং ফসলভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তাও এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় অনেক সময় কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সৌরশক্তিচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাল পুনঃখনন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ভর্তুকি ও কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পরও আমদানির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের আবাদযোগ্য জমি সীমিত। এছাড়া হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় আগাম পরিপক্ব ধানের জাত উদ্ভাবন এবং পানিবেষ্টিত এলাকায় ধান কাটার উপযোগী প্রযুক্তি ও যন্ত্র নিয়ে গবেষণা চলছে।

চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া ও দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানি বাড়ানো।

তিনি আরও বলেন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, চর অপসারণ এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এজন্য কোস্টগার্ডের জনবল বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission