ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া সেই ৩২ ডিসি যারা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং প্রত্যেকের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকার জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানো প্রয়োজন বলে বিবেচনা করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবসরে যাওয়া এ ৩২ কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ে যেসব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন— রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাস, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর মো. ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. সাহেদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, নওগাঁর মো. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নূরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মো. দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর এবং চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব কর্মকর্তা নিজ নিজ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রশাসনিক সংস্কার এবং ওই নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ভোটগ্রহণে অনিয়ম, বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে না পারার অভিযোগ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। যদিও সে সময় নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে বিজয়ী হয়, আর প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় ৭টি আসন। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সচিবদের। পাশাপাশি কাজের দক্ষতা বাড়ানো, প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বদলি
সাত মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।
সাত মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহদী আমিন
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরকে কেন চাইব না: ডা. জাহেদ
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা রয়েছে, সাজা হয়েছে, তাদেরও ফেরত চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।  মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে নিজের সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বৈঠকে শেখ হাসিনা এবং অন্যদের বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।’  তিনি বলেন, আমি তাকে আমার জায়গা থেকে জানানোর চেষ্টা করেছি, শেখ হাসিনা এবং অন্য যারা আছেন, তাদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কী। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ওয়ার্কিং এনগেজমেন্টের জন্য এসব বিষয় তাদের বিবেচনা করা উচিত।’ শুধু শেখ হাসিনা নন, অন্যদেরও ফেরত চাওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে চাইছি, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের চাইবো না কেন? যারা যেখানে আছেন এবং যাদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা জানি, সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে নিশ্চয়ই তাদের চাওয়া হবে।’ ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমি ভারত সরকারের কাছেও আহ্বান জানাতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’  তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সময় সংঘটিত ঘটনাগুলোকে কেবল জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই।’  তিনি বলেন, ‘আমরা যেন এই ভুলটা না করি যে শেখ হাসিনা শুধু জুলাইয়ে এসে খারাপ হয়েছেন। বর্বরতা বহু আগে থেকে, বছরের পর বছর চলেছে। নানাভাবে অনেক মানুষ সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’  বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি ও পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়াও দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা যখন অন্য একটি দেশের মাটিতে বসে আরামের জীবনযাপন করেন এবং সেখান থেকে নানা বক্তব্য ও নসিহত করেন, সেটা নিশ্চয়ই মানুষকে আহত করে। আমি আশা করি ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবে এবং তাদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে।’  তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরটিভি/এসআর  
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরকে কেন চাইব না: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।  বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার
আরও পড়ুন
ধামরাইয়ে কোনো অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না: জেলা প্রশাসক
একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল বিএসইসি
তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার
দেশের সব জেলা প্রশাসকের জন্য ১৪ নির্দেশনা